বামনায় ছাত্রের চোখ বেঁধে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ


Barisal Crime Trace -FF প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৬, ২০২২, ৬:৩১ অপরাহ্ণ /
বামনায় ছাত্রের চোখ বেঁধে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার, বামনা : চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রর মানিব্যাগ পাওয়া যায় পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রের স্কুলব্যাগে। এতে তাকে ওই মানিব্যাগ চুরির জন্য দোষারোপ করা হয়। এই অভিযোগে কক্ষে ডেকে চোখ বেঁধে নির্মম নির্যাতন করা হয় ওই শিক্ষার্থীর ওপর। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসাপতালে ভর্তি করে পরিবারের সদস্যরা।

বরগুনার বামনা উপজেলার ৭ নম্বর বড়তালেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের বিচার চেয়ে আজ মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) ওই শিক্ষার্থীর চাচা মো. আব্দুল কুদ্দুস বামনা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন। এর আগে ৩০ আগস্ট নির্যাতনের শিকার হন ওই ছাত্র।

লিখিত অভিযোগে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষিক মোসা. তানজিলা, প্রধান শিক্ষক শ্যামল চন্দ্র কর্মকার ও বিদ্যালয়টির দপ্তরি মো. নিজাম উদ্দিনকে অভিযুক্ত করা হয়।

নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্র বলে, ‘চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রের একটি মানিব্যাগ আমাদের ক্লাসের (পঞ্চম শ্রেণি) এক ছাত্রের কাছে গচ্ছিত রাখতে দেয়। এটি ক্লাসের সবাই জানত। আমি দুপুরে বাড়িতে ভাত খেতে যাওয়ার ফাঁকে আমাকে ফাঁসানের জন্য কেউ মানিব্যাগটি আমার ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখে। আমি জানতাম না আমার ব্যাগে ওই চুরি যাওয়া মানিব্যাগ আছে। পরে স্যারেরা আমার ব্যাগে ওই মানিব্যাগ পায়। এ জন্য আমাকে তানজিলা আপায় ও নিজাম ভাই রুম আটকে চোখ বেঁধে বেত দিয়ে অনেক সময় পেটায়। এতে আমার শরীরে বড় বড় কালো দাগ হয়ে যায়। ব্যথায় এখনো আমি বসতে পারি না। বিশ্বাস করেন, আমি মানিব্যাগ আমার ব্যাগে রাখিনি। আমি চুরি করিনি। ’

তার বাবা বাবুল মেকার বলেন, ‘আমি অনেক দিন ধরে অসুস্থ হয়ে ঢাকার বারডেম হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। ছেলের ওপর এমন নির্যাতনের খবর পেয়ে বাড়িতে এসেছি। আমার ছেলে ব্যথায় এখনো বসতে পারে না। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানালেও তারা কোনো প্রকার বিচার করেনি। শেষ ভরসা হিসেবে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে একটি অভিযোগ দিয়েছি। ’

এ বিষয়ে জানতে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কর্মকারকে ফোন দেওয়া হয়। তিনি প্রথমে ফোনটি রিসিভ করেননি। পরে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

প্রধান অভিযুক্ত ওই সহকারী শিক্ষিকা মোসা. তানজিলা আক্তার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীর মানিব্যাগসহ ১৬০০ টাকা চুরি হয়। আমি পঞ্চম শ্রেণির সকল ছাত্রকে বলি টাকা নিয়ে থাকলে ফেরত দিতে। পরে ওই ছাত্র নিজে মানিব্যাগটি ফেরত দেয়। পরে প্রধান শিক্ষক স্যার তার বাবাকে ফোনে বিষয়টি অবহিত করেন। তিনি স্কুলে তার ছেলের বিচার করতে বলেন। তবে তাকে আমি কিংবা স্কুলের কেউ মারধর করেনি। আমার বিরুদ্ধে তারা ষড়যন্ত্র করছে। ’

বামনা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও প্রাথমিক শিক্ষা কমিটির সভাপতি সাইতুল ইসলাম লিটু বলেন, ‘আমার কাছে ওই ছেলে ও তার বাবা অভিযোগ নিয়ে এসেছেন। আমি নিজে অমানুসিক নির্যাতনের ক্ষত দেখেছি। এভাবে কোনো শিক্ষক ছাত্রকে পেটাতে পারে না। আমি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে সাত দিনের মধ্যে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। ’