ওয়ার্ড আ’লীগে ৭২ লাখ টাকা পদ বাণিজ্যের ঘটনায় তদন্ত কমিটি


Barisal Crime Trace -FF প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২২, ১২:০৯ অপরাহ্ণ /
ওয়ার্ড আ’লীগে ৭২ লাখ টাকা পদ বাণিজ্যের ঘটনায় তদন্ত কমিটি

স্টাফ রিপোর্টার, বেতাগী : বরগুনার বেতাগী উপজেলার পৌরসভাসহ ৭টি ইউনিয়নের মোট ৮টি ইউনিটের ৭২টি ওয়ার্ডে সভাপতি ও সম্পাদক পদ পেতে ৭২ লাখ টাকার বাণিজ্য নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বেতাগী উপজেলা আওয়ামী লীগ। মঙ্গলবার রাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদকের নেতৃত্বে দলীয় কার্যালয়ে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

একইসঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম পিন্টুর যে বক্তব্যের ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে, তারই প্রেক্ষিতে ওই নেতাকেও প্রমাণ সাপেক্ষে, তথ্য উপাত্ত সহকারে সঠিক জবাব দেয়ার জন্য কারণ দর্শানোর নোটিশ করা হয়েছে।

বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক ও বেতাগী উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সদস্য, বুড়া মজুমদার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈয়দ গোলাম রব শুক্কুর মীরকে তদন্ত কমিটির প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন বেতাগী উপজেলা আওয়ামী লীগ। তদন্ত কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন- বেতাগী উপজেলা আওয়ামী লীগের ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিমান কান্তি গুহ ও বেতাগী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহসীন ফয়সাল অপু।

বেতাগী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বেতাগী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আমিরুল ইসলাম পিন্টু বলেন, আমাকে উপজেলা আওয়ামী লীগ কর্তৃক কারণ দর্শানোর যে নোটিশ দেওয়া হয়েছে তার আলোকে আমি সঠিক সময়ের মধ্যে রাজনৈতিকভাবে প্রমাণ সাপেক্ষে তথ্য উপাত্ত সহকারে সঠিক সময়ের মধ্যে জবাব দিব।

তদন্ত কমিটির সদস্য বেতাগী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহসীন ফয়সাল অপু জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগ কর্তৃক আমাদের ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে এবং ৩ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রত্যাশা করছি আমরা তদন্ত কমিটি সঠিক সময়ের মধ্যে তথ্য প্রমাণ সহকারে সঠিকভাবে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবো।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র এবিএম গোলাম কবির বলেন, কমিটিতে পদ পেতে ৭২ লাখ টাকা বাণিজ্যের বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা আমিরুল ইসলাম পিন্টু তার বক্তব্যে যে বিষয়টি বলেছেন, তাতে উপজেলা আওয়ামী লীগ পরিবার ব্যথিত। তারই প্রেক্ষিতে উপজেলা আওয়ামী লীগ কর্তৃক একটি জরুরি সভা ডেকে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে আগামী ৩ দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটি কর্তৃক তদন্ত করে প্রমাণসহ আওয়ামী লীগের দপ্তর সেলে জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা পিন্টুকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ করা হয়েছে এবং তাকেও একই সময়ের মধ্যে জবাব দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে তিনি আমাদের জানিয়েছেন তিনি বক্তব্যের ব্যাপারে নিজেই বিব্রতবোধ করছেন এবং দল যদি তারা রাখা বক্তব্যে প্রশ্নবিদ্ধ কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয় তবে তিনি আন্তরিক ক্ষমাপ্রার্থী।

উল্লেখ্য, গত ৪ সেপ্টেম্বর বেতাগী সদর ইউনিয়নের আয়োজিত ত্রি- বার্ষিক সম্মেলনে বেতাগী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বেতাগী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আমিরুল ইসলাম পিন্টু বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এমন কিছু তথ্য উন্মোচন করেন যা বেতাগীতে টক অব দ্যা টাউনে পরিণত হয়।

সম্মেলন শেষ হওয়ার তিনদিন পর ১৪ মিনিট ১১ সেকেন্ডের ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভিডিও ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। শুরু হয় নানা আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।

ভিডিও বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট বলেন, বিএনপির কালচার এখন আওয়ামী লীগে ঢুকেছে। শুধুমাত্র উপজেলার ৮টি ইউনিটের ৭২টি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য ৭২ লাখ টাকার বাণিজ্য হয়েছে। কমিটিতে পদ পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকার বাণিজ্য করেছেন উপজেলার অনেক সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। আওয়ামী লীগ নেতা আমিরুল ইসলাম পিন্টুর বক্তব্যের পর ব্যাপকভাবে সমালোচিত বেতাগী উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।