শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত শিশুদের সময় কাটে জাল ও নৌকা নিয়ে


Barisal Crime Trace -FF প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১০, ২০২২, ১:০৯ অপরাহ্ণ /
শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত শিশুদের সময় কাটে জাল ও নৌকা নিয়ে

স্টাফ রিপোর্টার, বোরহানউদ্দিন : বোরহানউদ্দিন উপজেলার মেঘনা-তেঁতুলিয়াসংলগ্ন সাত ইউনিয়নের প্রায় ৬ হাজারের অধিক শিশু প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বলা যায়, শিক্ষার সুযোগ ওদের নাগালের বাইরে। সাত থেকে ১২ বছর বয়সের শিশু কখনো প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যায়নি। করোনার তাণ্ডব, নদীভাঙন, দরিদ্রতা, অভিভাবকদের অজ্ঞতা, শিশুশ্রমিক হিসেবে কাজ করা আর সচেতনতার অভাবে শিক্ষাবঞ্চিত হচ্ছে দ্বীপজেলার এসব শিশু। যে সময়ে বই-খাতা নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা, সেখানে তারা এখন ব্যস্ত রয়েছে জাল ও নৌকা নিয়ে।

দুমুঠো ভাতের সন্ধানে শুধু জেলে, কৃষক ও হোটেল শ্রমিকই নয়, বিভিন্ন কাজের সঙ্গে এরা জড়িয়ে পড়ছে। বোরহানউদ্দিন প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যে এ উপজেলার ১৫৬টি বিদ্যালয়ে (চার থেকে ১০ বছরের) বর্তমান শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৩ হাজার ৭৯৭ জন। ২০২২ সালের শিশু জরিপে স্কুলে যায় না এমন শিশুর সংখ্যা ১ হাজার ৪৮০ জন। সরেজমিন পরিদর্শনে কথা হয় বড় মানিকা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আলাউদ্দিনের ছেলে শিশু জেলে সোহাগের (১২) সঙ্গে।

তাকে জাল বোনায় ব্যস্ত দেখা যায়। প্রাথমিকের গণ্ডি পার হওয়ার আগেই নৌকা আর জাল নিয়ে সে নেমে পড়েছে মেঘনায়। সোহাগ বলে, এলাকার তৈমুদ্দিন (মধ্যবাটামারা) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২য় শ্রেণির ছাত্র ছিলাম। অভাবের জন্য তিন/চার বছর আগে পড়ালেখা ছেড়ে দেই। অন্যদিকে, বড় মানিকা ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুলের ছেলে সুজন (১৩)। নদীতে মাছ শিকারের জন্য জাল মেরামতের কাজে ব্যস্ত সে।

স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তিন মাস হলো লেখাপড়া ছেড়ে দিয়েছে। অভাবের কারণে সংসার চলছে না। তাই বোনজামাই রিয়াদ মাঝির সঙ্গে কাজ করছে। জেলে হাসান বলেন, জোয়ারের সময় আসলে শত শত শিশুদের নদীতে মাছ ধরতে দেখা যায়। উপজেলার বড়মানিকা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন হায়দার জানান, তার ইউনিয়নের প্রায় ২ হাজার শিশু বিভিন্ন কাজে জড়িত।

পক্ষিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নাগর হাওলাদার, কাচিয়ার আব্দুর রব কাজী, গঙ্গাপুরের মো. রিয়াজ, টবগীর জসিম উদ্দিন, সাচড়ার মহিবুল্যাহ মৃধা জানান, তাদের এলাকার কয়েক হাজার শিশু নদীতে মাছ শিকারসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত। মেঘনার কোলঘেঁষে অবস্থিত স্বরাজগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আক্তার হোছাইন জানান, করোনার পর অনেকে নদীতে মাছ শিকারসহ বিভিন্ন কাজে জড়িয়ে পড়ছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন বলেন, আমাদের শিক্ষকরা হোম ভিজিট, মা-সমাবেশ এবং অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে শিক্ষার্থীদের স্কুলে উপস্থিতি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান বলেন, শিশুদের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সুষ্ঠু ও সুপরিকল্পিত কার্যক্রম নিয়ে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার এগিয়ে আসা উচিত।