মানসিকভাবে সুস্থ থাকা, সুস্থ রাখা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ


Barisal Crime Trace -GF প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১০, ২০২২, ৩:৪৩ অপরাহ্ণ /
মানসিকভাবে সুস্থ থাকা, সুস্থ রাখা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিগত বেশ কয়েকবছর ধরে বাংলাদেশে আত্মহত্যার হার ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, এটি এখন অনেকটা সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। যদিও আত্মহত্যার মূল কারণ মানসিক অস্থিরতা, তবে এর জন্য পারিবারিক, সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক নানা বিষয় দায়ী। ফলে আত্মহত্যা প্রতিরোধে পরিবারকেই সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে। এছাড়া আত্মহনন চেষ্টাকারীদের অপরাধী সাব্যস্ত করে শাস্তি না দিয়ে তাদের কাউন্সিলিংয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

 

দেশের শীর্ষস্থানীয় নিউজপোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কম আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে এ অভিমত দেন বক্তারা। ‘আত্মহত্যা প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাগো নিউজের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কে এম জিয়াউল হক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জাগো নিউজের প্ল্যানিং এডিটর মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল।

 

আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন

অধ্যাপক ডক্টর জিয়া রহমান
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিদ্যা বিভাগের ডিন

ড. বিধান রায় পোদ্দার
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক,

অধ্যাপক জোবেদা খাতুন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান

অধ্যাপক সুমাইয়া ইকবাল
অপরাধবিদ্যা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ডা. আজিজ সরকার
বাংলাদেশ মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের চিকিৎসক ও মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ

ডা. মো. শহিদুল ইসলাম
নন কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রামের প্রোগ্রাম ম্যানেজার

হাসিনা মমতাজ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের আঞ্চলিক কর্মকর্তা

আনোয়ার সাত্তার
জরুরি সেবা ৯৯৯-এর প্রশিক্ষক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা

ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের শিশু ও কিশোর মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক

বৈঠকে আলোচকরা আত্মহত্যা প্রবণতা ঠেকাতে করণীয় নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।

আলোচনা

কে এম জিয়াউল হক

মানুষের মানসিক সুস্থতা বিষয়ে জাগো নিউজ সব সময় সচেতন। আমরা সবাই এ নিয়ে একাধিক নিউজ করেছি। সমাজে মানুষের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। পারিপার্শ্বিক চাপে পড়ে নানারকম অস্থিরতায় ভুগছে মানুষ। যেমনভাবে কিশোর-কিশোরীদের পড়াশোনার জন্য চাপ দিয়ে একটি বিশাল রুটিন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে শিশুরা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

 

সমাজ পরিবর্তনে শিক্ষকদেরও ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। কারণ মানুষের ভালোবাসাই পারে মানুষের জীবন বদলে দিতে।

ডা. আজিজ সরকার, মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ

মনস্তত্ত্ববিদ থমাস জয়নারের মতে, মানুষের মধ্যে তিন ধরনের বিষয় থাকলে সে আত্মহত্যা করতে পারে। যেমন, নিজেকে আঘাত করার ক্ষমতা, নিজেকে বোঝা মনে করা ও বিচ্ছিন্নতক অনুভব করা। যখন এ তিনটি পর্যায়ে কেউ পৌঁছায় তখন সে এ ধরনের কাজ করে থাকে। এছাড়া মানসিক রোগ থেকে ৯০ শতাংশ মানুষ আত্মহত্যার ঝুঁকিতে থাকে। একই সঙ্গে কিছু ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষও এক্ষেত্রে ঝুঁকিতে থাকে।

 

 

তিনটি পর্যায়ে আত্মহত্যা প্রতিরোধ করা যায়। প্রাইমারি পর্যায়ে হয় সমস্যা তৈরির আগে, সেকেন্ডারি পর্যায়ে সমস্যার সমাধান করে এবং টারশিয়ারি পর্যায়ে অসফল আত্মহত্যার চেষ্টার পর। এই তিনটি পর্যায়ে সহযোগিতার মাধ্যমে আত্মহত্যা প্রতিরোধের চেষ্টা করা যায়। এছাড়া আত্মহত্যা প্রতিরোধে সার্বজনীন কিছু উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। যেমন মিডিয়ার দায়িত্বশীল আচরণ, সচেতনতা তৈরি, স্বাস্থ্যকর্মী, শিক্ষক, সাংবাদিক, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সমাজকর্মীদের প্রশিক্ষণ, মানসিক স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থার উন্নতি করা।

 

 

পরিবারে মা-বাবার উচিত সন্তানদের কথা মনোযোগ ও সহমর্মিতার সঙ্গে শোনা। তার সমস্যা বোঝার চেষ্টা করা ও সমাধানের চেষ্টা করা। আমদের উচিত সন্তানকে সময় দেওয়া, আত্মহত্যায় ব্যবহৃত হতে পারে এমন জিনিস সরিয়ে রাখা, গোপনীয়তার ভয় না পাওয়া ও চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া। এছাড়াও বন্ধু-বান্ধব ও মিডিয়ারও অনেক ভূমিকা রয়েছে।

 

 

 

সুমাইয়া ইকবাল

একটি পরিবারে অবশ্যই সন্তানের সঙ্গে মা-বাবার সুন্দর সম্পর্ক প্রয়োজন। বয়ঃসন্ধিকালীন শিশুদের মনে নানা পরিবর্তন আসে। বিশেষ করে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়েসে। এই বয়সে তাদের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। এখনকার সময়টাকে আমি বলি এজ অব আইসোলেশন। শিশুরা সমাজের অন্যদের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হয়ে একটি ভার্চুয়াল গণ্ডির মধ্যে পড়ে যাচ্ছে। তাদের মনন বিকাশ হচ্ছে না। মানুষের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে। এজন্য পরিবারের উচিত শিশুদের দিকে বিশেষভাবে নজর দেওয়া। শুধুমাত্র সন্তানদের অর্জনের দিকে গুরুত্ব না দিয়ে তাদের মনন বিকাশের দিকে নজর দেওয়া উচিত।

 

ডা. মো. শহিদুল ইসলাম

মানুষের মানসিক সুস্থতা বিষয়ে আমাদের সঙ্গে সঙ্গে সরকারও অনেক উদ্বিগ্ন। সরকার এটি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে যাচ্ছে। তবে সরকারের একার পক্ষে এটি সম্ভব না, সবাইকেই এগিয়ে আসতে হবে। আমরা যদি বলি আত্মহত্যাকে পরিপূর্ণ নির্মূল করতে পারবো- এটা সম্ভব নয়। তবে আমরা এটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। সরকারিভাবে নানা উদ্যোগ হাতে নেওয়া হয়েছে। টেলি-মেডিসিনের মাধ্যমে মানুষ মানসিকভাবে কেমন বোধ করে সেটি বুঝতে এরইমধ্যে আমরা দুই জেলায় পাইলট প্রোগ্রাম চালু করেছি।

 

হাসিনা মমতাজ

বিশ্বের সাত লাখেরও বেশি মানুষ প্রতিবছর আত্মহত্যা করে। ২০১৮- ২০১৯ সালের দিকে দেশের ১০ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের ওপর একটি জরিপ করেছি। ওই জরিপে দেখা যায়, ৪ দশমিক ১০ শতাংশ কিশোর-কিশোরী কখনো কখনো আত্মহত্যার চিন্তা করে থাকে। তাদের মধ্যে এক দশমিক ৫ শতাংশ আত্মহত্যার পরিকল্পনা ও চেষ্টা করে থাকে। এ সংখ্যাটা বয়ঃসন্ধিকালীন বেশি এবং শহরে বেশি।

 

আমরা মতে আত্মহত্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব। ডব্লিউএইচও’র একটি প্রোগ্রাম আছে ‘লাইফ অ্যাপ্রোচ’ নামে। এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে ডব্লিউএইচও যেসব জিনিস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে থাকে- যেমন মেডিসিন, আগ্নেয়াস্ত্র, দড়ি ইত্যাদির অবাধ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এছাড়া আত্মহত্যা নিয়ে যেসব নিউজ হয়, সেগুলো আরও সতর্কতার সঙ্গে দিতে হবে। একই সঙ্গে কিশোর-কিশোরীদের জীবনমানের উন্নয়ন এবং তাদের সামাজিক আবেগের জায়গার উন্নতি করতে হবে। এছাড়া কারও মধ্যে আত্মহত্যা চেষ্টার প্রবণতা দেখা দিলে তাকে দ্রুত চিহ্নিত করে নিয়মিত তার অবস্থান পর্যালোচনা করতে হবে।

আনোয়ার সাত্তার

৯৯৯ জরুরি প্রয়োজনে সেবা দিয়ে থাকে। কোনো সমস্যা সৃষ্টি হলে তার সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া আমাদের কাজ। আত্মহত্যা চেষ্টারত অবস্থায় অনেকেই আমাদের ফোন করেন। এসময় আমরা কৌশলে তার ঠিকানা নিয়ে আত্মহত্যা চেষ্টাকারীকে নিবৃত করার চেষ্টা করি। এদের মধ্যে অনেকে পারিবারিক সমস্যা কিংবা মাদকাসক্ত হয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে থাকেন।

 

৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর ওই আত্মহত্যা ঠেকাতে আমাদের জন্য দুটি বড় চ্যালেঞ্জ থাকে। একটি হলো- এখনো কল করার সঙ্গে সঙ্গে অটোমেটিক কলার লোকেশন পাই না। এ বিষয়ে কাজ করা হলেও তা এখনো সম্ভব হয়নি। এটি সম্ভব হলে আমরা দ্রুত কলারের লোকেশন পেয়ে যাবো। এখন আমাদের নিজেদেরই কৌশলে জেনে নিতে হয় ভিকটিমের ঠিকানা। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সাধারণত ভিকটিম কখনো নিজের ঠিকানা দিতে চান না। আরেকটি চ্যালেঞ্জ হলো এই যে একটি মানুষ আত্মহত্যা করতে যাচ্ছে, এসময় তার সঙ্গে কথা বলে দক্ষতার সঙ্গে যে তার থেকে ঠিকানা নেবে বা তাকে কাউন্সেলিং করবে- এমন কোনো প্রশিক্ষণ আমাদের লোকজনের নেই। এসময় তারা শুধুমাত্র কমন সেন্সের মাধ্যমেই এই সেবা দিয়ে থাকেন। কমন সেন্স ব্যবহার আর প্রশিক্ষিত লোকের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আমরা চাই আমাদের জনবলকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করতে।

 

অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ

আত্মহত্যা রোধে জরুরি হটলাইন ব্যবস্থাও চালু করা যায়। যেখানে প্রশিক্ষিত লোকবলের মাধ্যমে এই সেবা দেওয়া যাবে। এটি আমাদের পাইলটিং প্রক্রিয়ায় আছে। এছাড়া ২০২২ সালে মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য দুইটি সুখবর আছে। তার একটি হলো আমাদের ১০ বছরের চেষ্টায় যে মানসিক স্বাস্থ্যনীতি তা মন্ত্রণালয়ে অনুমোদিত হয়েছে। আত্মহত্যা প্রতিরোধে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই নীতিমালায় রয়েছে। এছাড়াও জাতীয় মানসিক কর্মকৌশলের অনুমোদন পেয়েছি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে। সেখানেও আত্মহত্যা প্রতিরোধের অনেক বিষয় আছে। কিন্তু মূল বিষয় হচ্ছে কাগজে-কলমে থাকলে হবে না। তা বাস্তবে প্রয়োগ করতে হবে।

 

যেমন কেউ আত্মহত্যা করার পর আমরা একজনকে আত্মহত্যার প্ররোচনাকারী বানিয়ে দেই। অথচ অনেক কারণেই মানুষ আত্মহত্যা করে থাকে। অনেকে মানসিকভাবে দুর্বল থাকে। সেক্ষেত্রে একজনকে ধারণাবশত প্ররোচনাকারী বানানো উচিত না।

 

এছাড়া আত্মহত্যাকে ডিক্রিমিনালাইজ (অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত না করা) করা উচিত। দেখা যায় কেউ আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে বিফল হলে তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। তাকে অপরাধী বানিয়ে জেলে পাঠানো হচ্ছে। তা না করে তাকে মানসিকভাবে সুস্থ করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন এ চিকিৎসক।

অধ্যাপক জোবেদা খাতুন

করোনাকালীন অনেকজনই আমার কাছে এসেছিল। যাদের মধ্যে অনেকেই ছিল বয়ঃসন্ধিকালের। তাদের অভিযোগ যে তাদের শারীরিক এবং মানসিক তাল হারিয়ে গেছে। তারা ভালো নেই, এরসঙ্গে বাবা-মা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চাপ। এই চাপে পড়ে তাদের অনেকেই মনে করে, পৃথিবীতে সবচেয়ে খারাপ মানুষ তার মা-বাবা অথবা শিক্ষক। এ ধারণা গড়ে ওঠার কারণ পরিবার তাদের বেশি চাপ প্রয়োগ করছে। অসম প্রতিযোগিতায় ঠেলে দিচ্ছে। আর এ বিষয়ে তাদের মা-বাবাকে বলা হলে তারা বলেন আমার বাচ্চাতো পিছিয়ে যাবে।

 

শিক্ষকদেরও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কীভাবে আচরণ করা যায় সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এর সঙ্গে ছাত্র-ছাত্রীদেরও এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন। এছাড়া বাচ্চারা যে একটু খেলাধুলা করবে তার জন্য কোনো মাঠ নেই। শুধু পড়াশোনা আর রুটিন লাইফের চাপে খেই হারিয়ে ফেলে তারা। অন্যদিকে অধিকাংশ মা-বাবা তাদের বাচ্চাদের কথা শোনেন না। শুধু তারাই কথা বলেন। তাহলে তাদের মনের কথা কীভাবে বুঝতে পারবেন?

 

বর্তমানে কিশোর-কিশোরীরা হুট করেই প্রেমে পড়ে যায়। এরপর দেখা যায় সম্পর্ক ভেঙে গেলে তাদের মধ্যে হতাশা কাজ করছে। এর কারণ তারা জেনেবুঝে সম্পর্কে জড়াচ্ছে না। খুব সহজে ও কম সময়ে কারও প্রেমে পড়ছে। কিন্তু পরে দেখছে তারা ভালোবাসাটা সেভাবে পাচ্ছে না। এর ফলে অনেকেই মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। এ কারণে সম্পর্কে জড়ানোর আগে অবশ্যই জেনেবুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

 

প্রত্যেকের উচিত নিজেকে জিজ্ঞেস করা আমি শান্তিতে আছি কি না। আমি স্বাবলম্বী কি না। মানসিকভাবে সুস্থ থাকা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়গুলো মা-বাবাকে বোঝাতে এবং কীভাবে তারা এ বিষয়গুলো বুঝবেন তার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নন ক্রেডিট কোর্স চালু করতে যাচ্ছি। এতে পরিবার পরিচালনায় অনেকেই প্রশিক্ষিত হতে পারবেন।

ড. বিধান রায় পোদ্দার

সমাজ পরিবর্তনের জন্য আমরা অনেকেই অনেক পরামর্শ দেই। কিন্তু সেখানে সবাই মধ্যবিত্ত আর উচ্চবিত্তদের নিয়েই ভাবি। কিন্তু আড়ালে থেকে যায় গরীব মানুষগুলো। আমাদের এটাও জানতে হবে কতজন কৃষক দারিদ্র্যতার জন্য আত্মহত্যা করেছেন। আত্মহত্যার ক্ষেত্রে দারিদ্র্যতা অনেক বড় বিষয়। আমাদের দেশে মেয়েদের আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি। কারণ দেখা যায় কোনো মেয়ে কোনোভাবে হেনস্তার স্বীকার হলে সমাজ তাকে সাপোর্ট দেওয়ার পরিবর্তে তার জীবন অতিষ্ঠ করে তোলে। অন্যদিকে দেখা যায় হেনস্তাকারী ছেলেকেই হিরো হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। সমাজের এই দিকগুলো পরিবর্তন করতে হবে। তাহলে মেয়েদের আত্মহত্যার প্রবণতা কমবে।

 

বর্তমানে শিক্ষাক্ষেত্রে এত প্রতিযোগিতা যে একজন শিক্ষার্থী তার সহপাঠীদের শত্রু ভাবে। দেখা যায় একজন আরেকজন থেকে এগিয়ে যাবে বলে সহপাঠীরা সহযোগিতা করে না। এভাবে প্রতিযোগী না ভেবে একজন আরেকজনকে সহযোগী ভাবা উচিত। জীবনে ভালোবাসা সবচেয়ে বড় বিষয়। অর্থবিত্ত, টাকা-পয়সা অর্জনে সব সুখ নেই। শুধুমাত্র ভালোবাসা পারে মানুষকে সুখ এনে দিতে।

অধ্যাপক ডক্টর জিয়া রহমান

আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে সমাজে যে বিশাল পরিবর্তন আসবে তার বড় একটি কারণ হবে মিডিয়া। আগে একজন সাংবাদিকই অনেক ধরনের রিপোর্টিং করতেন। বর্তমানে তা অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে। এখন একটা বিষয়ে কাজ করার জন্যই অনেক রিপোর্টার থাকেন।

 

আমারা বড় একটা পরিবর্তনের দিকে যাচ্ছি। এই পরিবর্তন খুবই দ্রুত গতিতে হচ্ছে। এই পরিবর্তনের ফলে আমরা যে গ্লোবালাইজেশনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি তাতে আমাদের যে আইন কানুন তা অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো হয়ে যাচ্ছে। তা এখন কাজ করছে না। আমাদের যে গ্লোবালাইজেশন বা চেঞ্জ হচ্ছে তার জন্য রাষ্ট্রকে এখনো সেই পর্যায়ের পরিবর্তনে নিয়ে যেতে পারিনি।

 

ওয়েস্টার্ন, ইসলামিক,দেশীয়- নানান সংস্কৃতি আমাদের সমাজে একসঙ্গে চলছে। এতে দেখা যাচ্ছে একজন একটি কাজ করতে চাইলে আরেকজন তার বিরোধিতা করেন। এসব একদিনে পরিবর্তন করা যাবে না। কিন্তু আমাদের জানতে হবে ভ্যালুজ, মোরালিটি কিংবা সমাজের বাইরে কেউ না এটাও ভাবতে হবে।