ভোলায় শ্বশুরবাড়িতে আগুন দিলেন জামাই


Barisal Crime Trace -FF প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২২, ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ /
ভোলায় শ্বশুরবাড়িতে আগুন দিলেন জামাই

স্টাফ রিপোর্টার, চরফ্যাশন : ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট থানার আহাম্মদপুরে স্বামী একরামের নির্যাতন সইতে না পেরে তালাক দিয়েছেন স্ত্রী আকলিমা বেগম। তালাক দেওয়ার কথা শুনে স্বামী একরাম ক্ষোভে শ্বশুরবাড়ির ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলেছে বলে অভিযোগ করেন আকলিমার বাবা আ. কাদের। উপজেলার আহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের এ ঘটনা ঘটে। একরাম আহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মো. জয়নুল আবেদীনের ছেলে। আকলিমা বেগম একই এলাকার আ. কাদেরের মেয়ে।

শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আকলিমার বাবা আ. কাদের অভিযোগ করেন, তার মেয়ে আকলিমার সঙ্গে আহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের জয়নুল আবেদীনের ছেলে একরামের সঙ্গে ৪ বছর পূর্বে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে আকলিমাকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করে একরাম। আকলিমা নির্যাতন সইতে না পেরে স্বামী একরামকে স্বেচ্ছায় তালাক দেয়।

একরাম তালাক মেনে না নিয়ে আকলিমা ও তার বাবা আ. কাদেরেকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে। ঘটনার ১৫ দিন পূর্বে বসত ঘর পুড়িয়ে ফেলার হুমকি দেয় একরাম। বুধবার একরামের ভয়ে আ. কাদের তার মেয়ে আকলিমাকে নিয়ে ঢাকাতে যান।

বৃহস্পতিবার লঞ্চ থেকে ঢাকায় নেমেই ফোনে খবর পায় তার গ্রামের বসত ঘরে আগুন লেগেছে। ওই দিন লঞ্চে আবার গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসেন কাদের। এসে দেখেন তার বসত ঘরের অধিকাংশ পুড়ে গেছে। এলাকার লোকজন আগুন দেখে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

প্রত্যক্ষদর্শী আমিরজান জানান, বৃহস্পতিবার তিনি ফজরের আজানের সময় ঘুম থেকে উঠে দেখেন পাশের আ. কাদেরের বসত ঘরে আগুন জ্বলছে। পরে তার ডাক চিৎকারে এলাকার লোকজন এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

অভিযুক্ত একরাম জানান, তার স্ত্রী আকলিমা তাকে তালাক দিয়েছে। আগুন দিয়ে আকলিমার পিতার বসত ঘর পুড়িয়ে ফেলার বিষয়ে একরাম জানান, ঘটনার দিন একরাম ঢাকাতে চলে যায়। পরক্ষণে ফোন দিয়ে জানান- তিনি ঘটনার দিন এলাকায় ছিলেন এবং এলাকার প্রভাবশালীদের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান একরাম।

দুলারহাট থানার ওসি আনোয়ারুল হক জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।