বাকেরগঞ্জে গৃহবধুকে নির্যাতন মামলায় নারী ব্রাক কর্মী গ্রেফতার


Barisal Crime Trace -HR প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২২, ১:২২ পূর্বাহ্ণ /
বাকেরগঞ্জে গৃহবধুকে নির্যাতন মামলায় নারী ব্রাক কর্মী গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক ।। যৌতুকের দাবিতে গৃহবধুকে নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় ননদ শামসুন্নাহার বিথী ওরফে বিথী বেগম (২২) কে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।

 

 

বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১ টার দিকে নগরীর চাঁদমারী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত বিথী বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা এলাকার বাসিন্দা ও মামলার দুই নম্বর আসামি মো. মুনসুর আলী হাওলাদারের মেয়ে এবং ব্রাক বাকেরগঞ্জ শাখার কর্মী।

 

 

যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের ওই মামলায় গ্রেফতার বিথীর স্বামী নাসির হাওলাদার (৩০), বাবা মুনসুর আলী হাওলাদার (৫৫), মা মোসাঃ সেতারা বেগম (৪৭) এবং গ্রেফতার বিথীর ভাই ও নির্যাতিতরা স্বামী মো. মিজানুর রহমান আসামি রয়েছেন।

 

 

বিষয়টি নিশ্চিত করে বাকেরগঞ্জ থানার এসআই মাহাবুব বলেন, ২০০০ সালের সংশোধিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১ (খ) ৩০ ধারায় দায়ের হওয়া মামলায় ব্রাকের এইচ এন পি পি প্রোগ্রামের ফিল্ড অফিসার শামসুন্নাহার বিথী ওরফে বিথী বেগমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হবে। বাকী আসামিদেরও গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

 

 

ব্রাকের এইচ এন পি পি প্রোগ্রামের ফিল্ড অফিসার শামসুন্নাহার বিথীকে গ্রেফতারের বিষয়ে ব্র্যাকের বরিশাল জেলা সমন্ময়কারী বিভাস চন্দ্র তরফদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান ব্র্যাক নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কাজ করছে, আর ব্র্যাকের মত প্রতিষ্ঠানে কাজ করে এ ধরনের অপরাধের সাথে জড়িত হলে তদন্তে প্রমানিত হলে ব্র্যাকের চাকুরি বিধিমালা অনুযায়ী ব্যাবস্থা নেয়া হবে। যদিও মামলা কিংবা গ্রেফতারের বিষয়ে আমি এখনও কিছু জানি না।

 

 

শনিবার শামসুন নাহার বিথী কর্মস্থলে অপুস্থিত থাকলে তাঁর বিষয়ে কৈফিয়ত তলব করা হবে এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত কমিটির রির্পোট এর ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

মামলা সূত্রে জানাগেছে, বাকেরগঞ্জ উপজেলার দেউলী গ্রামের মো. মীর আয়নাল হক ওরফে আয়নাল হোসেনের মেয়ে শিরিন আক্তারের সাথে মিজানুর রহমানের ২০১৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বিবাহ হয়। মেয়ের স্বামী মিজানুর রহমান ব্রাক্ষবাড়িয়ায় পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যান হিসেবে চাকুরিরত থাকলেও বেশিরভাগ সময় বাকেরগঞ্জে থাকে। কিছুদিন পূর্বে শিরিন আক্তারের গর্ভে ৭ মাসের সন্তান আসলেও তা স্বামী মিজানুর রহমানের নির্যাতন আর অবহেলায় নষ্ট হয়ে যায়।

 

 

বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছেন, মামলার ৫ জন আসামি পরষ্পর যোগসাজেশে গত ৬ মাস ধরে ৩ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে তাঁর মেয়ে শিরিনের ওপর শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছে। সবশেষ গত ২৫ আগস্ট সবাই মিলে শিরিনকে বেধম মারধর করে। যা পরের দিন সকালে বাদী জানতে পেরে মুমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেহ হাসপাতালে ভর্তি করে। নির্যাতিতার চিকিৎসার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর বাদী বাকেরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।