মাধ্যমিকে ক্লাস পরীক্ষায় ফল বিপর্যয়, ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত ফেল


Barisal Crime Trace -GF প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২২, ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ /
মাধ্যমিকে ক্লাস পরীক্ষায় ফল বিপর্যয়, ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত ফেল

বিশেষ প্রতিবেদক : দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এ প্রতিষ্ঠানে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মাধ্যমিক শ্রেণির অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ফল উদ্বেগজনক। অধিকাংশ শ্রেণিতে পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে। সর্বোচ্চ ফেল প্রায় ৯৫ শতাংশ। আরেক সেরা স্কুল গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরির অবস্থাও করুণ। প্রতিষ্ঠানটিতে একটি শ্রেণির পাসের হার ১৩ দশমিক ৬৬। টেস্টে একটি বিভাগে পাসের হার আবার শূন্য। হলিক্রসসহ রাজধানীর অন্য নামি স্কুলগুলোর চিত্রও সন্তোষজনক নয়। করোনাভাইরাস পরবর্তী বিভিন্ন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের এ অবনতি বলে মনে করছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও স্বয়ং শিক্ষার্থীরা।

 

 

এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-অভিভাবকরা বলছেন, করোনার কারণে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। সেই ছুটি ও তৎপরবর্তী সময়ে মোবাইল ফোন, টিভি এবং অন্যান্য ডিভাইসে শিক্ষার্থীরা ঝুঁকে পড়ে বেশি, কেউ কেউ আসক্তও হয়। এই আসক্তিই পাঠ্যবইয়ের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ নষ্ট করে দিয়েছে। নিয়মিত হাতের লেখার চর্চা না থাকায় কমেছে অনেকের লেখার গতি। যে কারণে পরীক্ষায় তারা যথাযথ উত্তর লিখতে ব্যর্থ হচ্ছে।

 

রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের (মূল শাখা, বেইলি রোড) মাধ্যমিকের সবগুলো শ্রেণির ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২২ সালের মাধ্যমিক পর্যায়ের অর্ধ সাময়িক পরীক্ষায় বাংলা ভার্সনে নবম শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগে ১৬৫৮ জন পরীক্ষা দিয়ে ফেল করেছে ১০৭৩ জন। ফেলের হার ৭৩ দশমিক ৭০ শতাংশ। এ বিভাগে বেশি ফেল উচ্চতর গণিতে, ৬২ দশমিক ৯৬ শতাংশ। এরপরই গণিতে ৫১ দশমিক ৩১ শতাংশ, রসায়নে ৪১ দশমিক ৬৯ শতাংশ, জীববিজ্ঞানে ৩৬ দশমিক ২৬ শতাংশ শিক্ষার্থী ফেল করেছে। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ ছাত্রী পেয়েছে জিপিএ-৫।

 

 

বাবসায় শাখার ফলে দেখা যায়, ১৭৭ জন অর্ধসাময়িক পরীক্ষা দিয়ে মাত্র ১৯ জন পাস করেছে, ফেল করেছে ১৫৮ জন। ফেলের হার ৮৯ দশমিক ২৭ শতাংশ। একজনও জিপিএ-৪ পায়নি। বিভাগভিত্তিক গণিতে ৮৭ দশমিক ০১ শতাংশ ছাত্রী ফেল করেছে। এরপর ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিষয়ে ৩৭ দশমিক ২৯ শতাংশ, অ্যাকাউন্টিংয়ে ৩৬ দশমিক ১৬ শতাংশ, বাংলায় ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ ফেল করেছে।

 

 

মানবিক বিভাগে দেখা যায়, ৭৩ জনের মধ্যে মাত্র চারজন পাস করেছে। ফেলের হার ৯৪ দশমিক ৫২ শতাংশ। এ বিভাগে কেউ জিপিএ-৫ পায়নি। বেশি ফেল গণিতে ৮৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এরপর রিলেজিয়ান অ্যান্ড মোরাল এডুকেশনে ৮০ দশমিক ৮২ শতাংশ, ইতিহাসে ৭৬ দশমিক ৭১ শতাংশ, হোম সায়েন্স, ইকোনমিক্স, বাংলা, ইংরেজি বিষয়ে ৫০-৬০ শতাংশের ওপরে ফেলের হার।

 

 

ভিকারুননিসায় চলতি বছরের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে ১৭৯৮ জনের মধ্যে পাস করেছে ৭১০ জন। পাসের হার ৩৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ, ফেলের হার ৬০ দশমিক ৫১ শতাংশ। এ স্তরে বিজ্ঞানে ৪২ দশমিক ৭৭ শতাংশ, গণিতে ৩৯ দশমিক ২৭ শতাংশ, বাংলাদেশ ও গ্লোবাল স্ট্যাডিজে ৩৮ দশমিক ২৭ শতাংশ, বাংলায় ২৪ দশমিক ২৫ শতাংশ ফেল করেছে।

online-class-2

 

সপ্তম শ্রেণিতে ১৭৮০ জনের মধ্যে ৯২৫ জন অনুত্তীর্ণ। পাসের হার ৪১ দশমিক ০৮ শতাংশ, ফেল ৫৮ দশমিক ৯২ শতাংশ। বিজ্ঞান, ধর্ম, গণিত বাংলা বিষয়ে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ফেল রয়েছে।

 

 

অষ্টম শ্রেণিতে ১৮১৪ জনের মধ্যে ৬৩৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৩৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ, ফেলের হার ৬০ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এ স্তরে গণিত বিজ্ঞান ও ধর্ম বিষয়ে বেশি ফেল করেছে। সেখানে ৪৭ থেকে ৩০ শতাংশ ছাত্রীর ফেল দেখা গেছে।

 

 

করোনার আগে অর্ধসাময়িক পরীক্ষায় ভিকারুননিসার ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পাস করতো। বর্তমানে সেটি উল্টে গেছে বলে জানিয়েছেন ক্লাস শিক্ষকরা।

 

 

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শুধু ভিকারুননিসা নয়, রাজধানীর অন্য অনেক নামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায়ও ৭০ থেকে ৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।

 

 

যেমন- রাজধানীর গর্ভনমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুলের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পাসের হার ১৩ দশমিক ৬৬ থেকে সর্বোচ্চ ৪৮ দশমিক ৭০ শতাংশ পর্যন্ত। দশম শ্রেণির টেস্ট পরীক্ষায় ব্যবসায় বিভাগে পাসের হার শূন্য। স্বাভাবিক সময়ে ৩০-৪০ শতাংশ পর্যন্ত ফেল থাকলেও কোনো বিভাগে কেউ পাস করেনি এমন হয় না।

 

 

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে চলতি বছর মাধ্যমিক স্তরে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায় ৫০ থেকে ৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে বলে জানা যায়। যদিও এ প্রতিষ্ঠান থেকে ফেলের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশে অপারগতা জানিয়েছেন অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) ফৌজিয়া রশিদ।

 

 

ভিকারুননিসার ফেল করা এক ছাত্রী জানায়, সপ্তম শ্রেণির পর প্রায় দুই বছর তারা এক ধরনের পড়ালেখা ছাড়া নবম শ্রেণিতে উঠেছে। অনলাইনে ক্লাস নেওয়া হলেও সবাই সেটাতে যুক্ত হতে পারেনি। অনেকে অনলাইন ক্লাসে ভালোভাবে বুঝতো না। এক ধরনের দায়সারা জুম ক্লাস ও পড়ালেখা করে সময় পার করেছে। নিচের স্তরের অধ্যায় ঠিকমতো বুঝতে না পারায় নবম শ্রেণিতে গিয়ে কঠিন মনে হচ্ছে। সে কারণে এখন নিয়মিত ক্লাস শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট ও কোচিং সেন্টারে যাচ্ছে। সামনে বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল যাতে ভালো হয় সেই চেষ্টা শুরু করেছে তারা।

 

 

মিজানুর রহমান নামে ভিকারুননিসার বিজ্ঞান বিভাগের এক ছাত্রীর অভিভাবক বলেন, ক্লাসে ছাত্রী-শিক্ষকদের অনুপাত অস্বাভাবিক। ক্লাসে গিয়েও ছাত্রীদের লাভ হচ্ছে না। তাই ক্লাস শিক্ষকদের বাড়িতে প্রাইভেট পড়তে পাঠাতে হচ্ছে। বিষয়ভিত্তিক যেসব হোমওয়ার্ক দেওয়া হচ্ছে তা কেউ কেউ জমা দিচ্ছে আবার কেউ দিচ্ছে না। হোমওয়ার্ক তৈরিতে অনেক ভুল হলেও শিক্ষকরা তা সমাধান করে দিচ্ছেন না। এসব বিষয়ে শিক্ষকদের আরও আন্তরিক হওয়া প্রয়োজন।

 

 

‘অনেক শিক্ষকের সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর মূল্যায়নে দক্ষতা নেই। হুবহু বইয়ের মতো না লিখলে নম্বর না দিয়ে কেটে দেওয়া হচ্ছে। অনেক প্রশ্ন পড়ে নিজের মতো লিখলে তাকে নম্বর দেওয়া হচ্ছে না। বেশি ফেল করার এটিও একটি কারণ।

 

 

গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র জিসান (ছদ্মনাম)। পঞ্চম শ্রেণিতে সে মেধাবৃত্তি পেলেও বর্তমানে পড়ার প্রতি আগ্রহ কমে গেছে। জিসান বলে, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে নিয়মিত ক্লাস করতে না পেরে নবম শ্রেণির পাঠ্যবই কঠিন মনে হচ্ছে। সে কারণে গণিত, বিজ্ঞান, ইংরেজি, বাংলা বিষয়ে চারজন শিক্ষকের কাছে নিয়মিত প্রাইভেট পড়ছি।

 

 

জিসান জানায়, পরীক্ষায় প্রশ্ন অনেক কঠিন মনে হয়েছে। ইংরেজি, বিজ্ঞান ও গণিতে ফেল করেছে। এটি নিয়ে তার বাবা বকাঝকাও করেছেন। স্কুলের স্যারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তার মতো ক্লাসে অনেকে এক থেকে ছয় বিষয়ে ফেল করেছে।

 

 

হলিক্রস স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী ইসমত আরা (ছন্দনাম) জানায়, বিজ্ঞান বিভাগে তাদের ৬০ জন ছাত্রী রয়েছে। অর্ধসাময়িক পরীক্ষায় ৪২ জন ফেল করেছে। এক থেকে চার বিষয় পর্যন্ত কেউ কেউ ফেল করেছে। তার মধ্যে উচ্চতর গণিত, বিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, পদার্থ বিজ্ঞানে ফেলের সংখ্যা অধিক।

 

online-class-2

 

এই ছাত্রী বলে, ফেল করা অনেক মেয়ে ক্লাস শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেটে পড়ে। স্যারদের কোচিংয়ে পড়েও তারা ফেল করেছে। বিজ্ঞানের বিষয়গুলো অনেক কঠিন মনে হচ্ছে। গণিতের অনেক সূত্র ভুলে গেছি। সেগুলো নতুন করে মুখস্ত করতে হচ্ছে। একটি অধ্যায়ে স্যাররা একটি অংক করিয়ে বাকিগুলো আমাদের করতে বলেন। সেগুলো একার পক্ষে সমাধান করতে পারছি না। স্যারকে বললে ভালো করে আর বেঝাতে চান না।

 

 

অভিভাবকদের মতো ক্লাস শিক্ষকরাও বলেন, মেয়েদের বাসায় হোমওয়ার্ক দিলে সেটি ক্লাসে করতে পারছে না। দীর্ঘদিন বাসায় বসে থাকায় হাতের লেখায় তারা দুর্বল হয়ে পড়েছে। ছাত্রীরা নিয়মিত বই পড়লেও গত দুই বছর লেখার প্র্যাকটিস কম করেছে বলে পরীক্ষায় তারা খারাপ করছে। এটি নিয়ে শিক্ষকরাও দুশ্চিন্তায়।

 

 

তবে সহজেই সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার। তিনি বলেন, শুধু ভিকারুননিসায় নয়, অনেক স্কুলে ফেলের হার বেড়েছে। আগের ক্লাসের সব অধ্যায়ের ওপর পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় পাঠ্যবই কঠিন মনে হচ্ছে। এটি কীভাবে কাটিয়ে ওঠা যায় সেই চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। তবে ফলাফল যেন ভালো হয় সে কারণে বার্ষিক পরীক্ষার আগে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ছাত্রীদের সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধান করতে ক্লাস শিক্ষকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

জানতে চাইলে শিক্ষানীতি-২০১০ প্রণয়ন কমিটির সদস্য ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক একরামুল কবির বলেন, করোনার মধ্যে অনলাইনে ক্লাস নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা হয়েছে দাবি করা হলেও আসলে বিষয়টি সত্য নয়। সরকারিভাবে যে ধরনের ধারণা দিচ্ছে তার চেয়ে শিক্ষার্থীরা অনেক পিছিয়ে। তাদের ঘাটতি অনেক। এ ঘাটতি পূরণের জন্য মানোন্নয়ন কমিটি বা শিক্ষকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। গতানুগতিক পাঠদান চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

 

 

 

তিনি বলেন, শিক্ষকরা আগের মানে প্রশ্ন প্রণয়ন করে পরীক্ষা নিচ্ছেন। সেটি শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারছে না বলে খাতায় উত্তর লিখতে পারছে না। সে কারণে হলিক্রস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী ফেল করায় তিরস্কারের কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। এখন ছেলেমেয়েরা খারাপ করলেও তাদের উৎসাহ দেওয়া উচিত। তা না করে কেউ ফেল করলে তাকে চাপ দিয়ে, অভিভাবকদের তিরস্কার করে ভালো ফল পাওয়া যাবে না।

 

 

শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি মেটাতে শিক্ষকদের কার্যঘণ্টা বাড়িয়ে বাড়তি ক্লাসের ব্যবস্থা করতে হবে উল্লেখ করে এই শিক্ষাবিদ বলেন, শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক আরও নিবিড় করে তুলতে হবে। যারা দুর্বল ও পিছিয়ে পড়েছে তাদের বাড়তি ক্লাসের ব্যবস্থা এবং পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করে তুলতে পারলে কিছুটা ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে। করোনায় যে ঘাটতি হয়েছে তা এক বছরে কাটিয়ে তোলা সম্ভব হবে না। সে কারণে শিক্ষার্থীদের সেশনের সময় বাড়াতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দিলেও তা করা হয়নি।

 

 

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের বড় গ্যাপ তৈরি হয়েছে। তাদের পড়ার জন্য বাড়তি সময় দিতে হবে। সেটি না করে যদি ক্লাস-পরীক্ষা আগের মতো করা হয় তবে এমন ফলাফল ছাড়া আর কিছু আশা করা যায় না। সরকারি-বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের সুবিধা বাড়াতে হবে। তবে তারা অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত কাজ করতে আগ্রহী হয়ে উঠবেন। সরকারের অনলাইন ক্লাসের সুবিধা সবাই পাবে না। এই ব্যয় সবার পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম বাড়বে। শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার বেড়ে যাবে।

 

 

শিক্ষার্থীদের পিছিয়ে পড়ার বিষয়টি স্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, স্কুল বন্ধ থাকায় বিকল্প পদ্ধতিতে পাঠদান চালিয়ে নিতে অনলাইন ক্লাস ও অ্যাসাইমেন্ট কার্যক্রম চালু করা হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের যে ঘাটতি হয়েছে সেটি কাটিয়ে তুলতে আমরা নানা ধরনের কার্যক্রম শুরু করার চিন্তা-ভাবনা করছি। এ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। তারা বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন। সেসবের বাস্তবিক দিক বিবেচনা করে তা কার্যকর করা হবে।

 

 

তিনি আরও বলেন, ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে এসএসসি-সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এখন বাধ্য হয়ে স্কুল বন্ধ রাখতে হচ্ছে। স্কুল বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়ালেখা চালিয়ে যেতে আবারও অ্যাসাইমেন্ট কার্যক্রম শুরু করা হবে। এটি অনেক কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে।