নদীতে ভেসে যাওয়া ইলিশ তুলতে গিয়ে নিখোঁজ ফেরির স্টাফ, তীরে নববধূর আহাজারি


Barisal Crime Trace -FF প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২২, ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ /
নদীতে ভেসে যাওয়া ইলিশ তুলতে গিয়ে নিখোঁজ ফেরির স্টাফ, তীরে নববধূর আহাজারি

স্টাফ রিপোর্টার, ভোলা : ভোলা-বরিশাল রুটের ফেরি কৃষ্ণচূড়ার স্টাফ (লস্কর) আমিনুল ইসলাম (২৫) ভেসে যাওয়া একটি ইলিশ মাছ ধরতে গিয়ে তেঁতুলিয়া নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয়েছেন। তিনি ৪ মাস আগে বিয়ে করেছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় এ দুর্ঘটনার পর থেকে তাকে উদ্ধারে কোস্টগার্ড, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস বিভাগের ডুবুরি টিম অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।

বিকাল পর্যন্ত তার হদিস মেলেনি। এদিকে ৪ মাস আগে বিয়ে করা স্ত্রী, মা ও বাবা শামিম মিয়া খাবর পেয়ে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার বাড়ি থেকে ছুটে আসেন ভোলার ভেদুরিয়া ঘাটে।

ফেরির ম্যানেজার কাওসার আহমেদ জানান, ভোলার ফায়ার সার্ভিস বিভাগের ডুবুরি ইউনিট না থাকায় পটুয়াখালী থেকে ডুবুরি টিম এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করতে ৩ ঘণ্টা চলে যায়। এ জন্য ক্ষোভ জানান পরিবারের সদস্যরা। ফায়ার সার্ভিস বিভাগের ফায়ার ফাইটার আবুল কালাম আজাদ জানান, তাদের ডুবুরি ইউনিট চালুর জন্য প্রস্তাবনা রয়েছে। এখন বরিশাল থেকে এনে কাজ করাতে হচ্ছে।

ফেরির ম্যানেজার জানান, সকাল সাড়ে ৮টায় ফেরি কৃষ্ণচূড়া ভেদুরিয়া ঘাট থেকে বাস, ট্রাকসহ যানবাহন লোড দিয়ে বরিশালের লাহারহাট ঘাটের উদ্দেশ্যে ছাড়ার সময় আমিনুল দেখেন একটি ইলিশ মাছ ফেরির পাশ দিয়ে ভেসে যাচ্ছে। মাছটি তুলতে গিয়ে তিনি পিছলে নদীতে পড়ে যান। পড়ার পর তার দুই হাত উপরের দিকে একবার উঁচু করতে দেখা যায়। এর পর স্রোতের টানের মুহূর্তে কোথায় চলে গেছে তা খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তিনি জানান, তাৎক্ষণিক ফেরির স্টাফরা লগি ফেলে বয়া ফেলে খুঁজতে থাকেন। এর পর কোস্টগার্ড, পুলিশ ও ফায়ারসার্ভিস টিমকে খবর দেয়া হয়। ট্রলার নিয়ে তাদের স্টাফরা নদীতে মাইকিং করছেন। জেলেদের জানানো হয়, খোঁজার জন্য। এদিকে স্বামী নিখোঁজের খবর পেয়ে ভেদুরিয়া ঘাটে আসা নববধূ কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। ভোর রাত ৪টার দিকেও একবার ফোনে কথা হয় বলেও জানাতে থাকেন।

খবর পেয়ে এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলামও স্থানীয়দের নিয়ে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন। স্থানীয়রা জানান, লস্কর আমিনুলের উচিত হয়নি এভাবে ভেসে যাওয়া মাছ তুলতে চেষ্টা করা। কেউ কেউ জানান- মাছটি মরা ছিল।

ভোলা স্বার্থরক্ষা উন্নয়ন কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম হাবিবুর রহমান জানান, নদীতে ভেসে যাওয়া মাছ মরা কি জীবিত তা বড় কথা নয়, কিন্তু একজন ফেরির স্টাফ দায়িত্বে থেকে তা ধরতে বা তুলতে চেষ্টা করাটা সমীচীন ছিল না। তবে ভোলার ভেদুরিয়া ও লাহারহাট রুট খুব একটা রুদ্র নয়। তাৎক্ষনিক ডুবুরি দিয়ে অভিযান চালালে তাকে উদ্ধার করা হয় তো সম্ভব হতো। তাই ভোলায় ডুবুরি ইউনিট চালুর দাবি জানান তিনি।