মর্টার শেল বিস্ফোরণ, ঘুমধুম সীমান্তে চরম আতঙ্ক


Barisal Crime Trace -GF প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২২, ৫:১৭ অপরাহ্ণ /
মর্টার শেল বিস্ফোরণ, ঘুমধুম সীমান্তে চরম আতঙ্ক

ডেস্ক সংবাদ : মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশ সীমান্তে কয়েকবার মর্টার শেল ও গুলি ছোড়া হয়েছে। এতে হতাহতের ঘটানও ঘটেছে। এছাড়া প্রায় প্রতিদিন মিয়ানমারের অভ্যন্তর থেকে হালকা ও ভারী অস্ত্রের ফায়ারের বিকট শব্দ শোনা যাচ্ছে। এতে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভয়ে ঘর থেকে বের হচ্ছেন না অনেকে। আবার অনেকে জুম ক্ষেতেও যেতে পারছেন না।

 

 

এদিকে স্থানীয় অভিভাবকদের উদ্বেগের কারণে সীমান্তবর্তী এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র সরিয়ে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং পরীক্ষা কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপরে নাইক্ষ্যংছড়ি ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের তমব্রু হেডম্যান পাড়া সীমান্তের ৩৫ নম্বর পিলার সংলগ্ন ৩০০ মিটার মিয়ানমারের অভ্যন্তর থেকে গরু ফিরিয়ে আনতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে অংঞাথোয়াই তঞ্চঙ্গ্যা নামে এক বাংলাদেশি যুবক পা হারান।

 

 

একই দিন সন্ধ্যা ৮টায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া দুটি মর্টার শেল একই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড কোনার পাড়া নোম্যান্সল্যান্ড এলাকার রোহিঙ্গা শিবিরের কাছাকাছি এসে পড়ে। ঘটনাস্থলে মো. ইকবাল নামের এক রোহিঙ্গা যুবক নিহত হন এবং অন্তত ছয়জন আহত হন। এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে স্থানীয়দের মধ্যে।

 

 

এর আগে ২৮ আগস্ট মিয়ানমার থেকে ছোড়া দুটি মর্টার শেল ঘুমধুম ইউনিয়নের তমব্রু উত্তর পাড়া জামে মসজিদ এলাকায় এসে পড়ে। সেই মর্টার শেল গুলো বিস্ফোরিত না হওয়ায় কোনো ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ৩ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া গোলা বাংলাদেশ সীমান্তের অভ্যন্তরে এসে পড়েছিল। ৯ সেপ্টেম্বর মিয়ানমার থেকে ছোড়া কয়েকটি ক্ষুদ্রান্ত্রের গোলা এসে পড়েছিল ঘুমধুম ইউনিয়নের কোনার পাড়া এলাকায়।

 

 

স্থানীয় বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘প্রায় মাসখানেক ধরে বান্দরবান নাইক্ষ্যংছড়ি ঘুমধুম ইউনিয়নের মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মির সংঘর্ষ ও গোলাগুলি চলছে। এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো গোলা ও গুলি এসে পড়েছে। সর্বশেষ কোনার পাড়া এলাকায় যে গোলাটি পড়েছে তাতে একজন নিহত ও অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘গোলাগুলির শব্দে আগে থেকে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। কিন্তু শুক্রবারের ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘর থেকে বাইরে যেতেও ভয় পাচ্ছেন স্থানীয়রা।

 

 

আরেক বাসিন্দা মো. সৈয়দ বলেন, ‘আমার সন্তানের এসএসসি পরীক্ষা চলছে। পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে ভয় পাচ্ছিল সে। পরীক্ষা কেন্দ্র স্থানান্তরিত করায় অনেকটা স্বস্তি পেয়েছি।

 

 

ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, শুক্রবার মর্টার শেল বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় স্থানীয়রা চরম ভয়ে আছে। আজ সকালেও সীমান্তের ওপারে কয়েটি ফায়ারের শব্দ শোনা গেছে। ফলে সীমান্ত লাগোয়া জুম ক্ষেতে ফসল আনতে যেতেও ভয় পাচ্ছে তারা।

 

 

বান্দরবান জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভিন তিবিরিজী বলেন, শুক্রবার ঘুমধুম এলাকায় যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল তার কারণে ঘুমধুম পরীক্ষা কেন্দ্রের ৪৯৯ জন শিক্ষার্থীদের কক্সবাজার উখিয়ার কুতুপালং স্কুল কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের পৌঁছে দিতে পর্যাপ্ত গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে।