বরিশালে বহিষ্কৃত জামায়াত নেতাকে আহ্বায়ক করে বিএনপির কমিটি! কার্যালয়ে তালা


Barisal Crime Trace -GF প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২২, ৮:০৬ অপরাহ্ণ /
বরিশালে বহিষ্কৃত জামায়াত নেতাকে আহ্বায়ক করে বিএনপির কমিটি! কার্যালয়ে তালা

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে দীর্ঘ ১৪ পর। তবে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত ও বিতর্কিত নেতা, নৌকা প্রার্থীর নির্বাচনী প্রধান সমন্বয়কারী, নিষ্ক্রিয়, অপরিচিত ব্যক্তিদের কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখার অভিযোগ করেছেন বর্তমান ও সাবেক কমিটির নেতা এবং পদবঞ্চিতরা।

 

অগণতান্ত্রিকভাবে উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠনের প্রতিবাদে ও বিলুপ্তির দাবিতে শনিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগরীর সদর রোড টাউন হল সংলগ্ন বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা।

এছাড়া কমিটি বিলুপ্তির দাবিতে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (বিআরইউ) সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট কাজী এনায়েত হোসেন বাচ্চু, চরবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সদ্য ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটির ১ নম্বর সদস্য জিয়াউল ইসলাম সাবু, সদ্য ঘোষিত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মন্টু খান, সদস্য মামুন অর রশিদ, আনোয়ার হোসেন, আব্দুর জব্বার শিকদারসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী।

 

বহিষ্কৃত জামায়াত নেতাকে আহ্বায়ক করে বিএনপির কমিটি, কার্যালয়ে তালা

 

লিখিত বক্তব্যে সদস্য জিয়াউল ইসলাম সাবু বলেন, বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান নান্টু এবং সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আকতার হোসেন মেবুল সদর উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করেন। কাজী এনায়েত হোসেন বাচ্চু বিষয়টি নিয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, বিএনপির মহাসচিব, বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সভাপতি আ. আউয়াল মিন্টু, বিভাগীয় সাংগঠনিক ও সহ সাংগঠনিক সম্পাদকদের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আউয়াল মিন্টু মহাসচিবের বরাতে সাংগঠনিক টিমের পরামর্শক্রমে বরিশাল সদর উপজেলা কমিটি করার লিখিত নির্দেশ দেন। কিন্তু নির্দেশ অমান্য করে তাদের সঙ্গে পরামর্শ না করে ১৫ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার দিকে বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মজিবর রহমান নান্টু ফেসবুকে বরিশাল সদর উপজলো বিএনপির কমিটি ঘোষণা করেন।

 

 

তিনি আরও বলেন, মজিবর রহমান নান্টু ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় একটি হাস্যকর কমিটি ঘোষণা করেন। জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত বিতর্কিত নেতা নুরুল আমিনকে সদ্য ঘোষিত সদর উপজেলা বিএনপির কমিটির আহ্বায়ক ঘোষণা করা হয়েছে। যিনি কি-না সদ্য বিলুপ্ত উপজেলার বিএনপির সদস্যও ছিলেন না। এর আগে নুরুল আমিন কড়াপুর ইউনিয়নের আহ্বায়কের দায়িত্ব নিলে সাবেক সভাপতি ও সম্পাদকসহ ১৯২জন নেতা পদত্যাগ করেন। নুরুল আমিন বর্তমান ইউনিয়ন বিএনপির চলমান কমিটিকে স্থগিত দেখিয়ে নিজেকে সভাপতি ও তার আপন ছোট ভাই যুবলীগ নেতা মনির হোসেনকে সিনিয়র সহসভাপতি ঘোষণা দিয়ে কমিটি প্রকাশ করেন। যে কমিটির বিরুদ্ধে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সিকদার ও হাবিবুর রহমান মিন্টু মেম্বর আদালতে মামলা করেন। যা বর্তমানে চলমান।

বহিষ্কৃত জামায়াত নেতাকে আহ্বায়ক করে বিএনপির কমিটি, কার্যালয়ে তালা

 

বিএনপি নেতা জিয়াউল ইসলাম সাবু বলেন, নুরুল আমিন ২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী অ্যাডভোকেট কাজী এনায়েত হোসেনের সরাসরি বিরোধিতা করেন এবং তার ইউনিয়নে বিএনপি নেতাদের পুলিশ দিয়ে হয়রানি করেন। এছাড়া ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নুরুল আমিন আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সমর্থনে কাজ করেন। বিতর্কিত আহবায়ক কমিটিতে অনেক অঙ্গ সংগঠনের লোকদের সদস্য করা হয়েছে। যাদের অনেককে আমরা চিনি না। কমিটিতে অনেককে যথাযথ স্থানে না রেখে জুনিয়র সদস্যদের নিচে নাম লেখা হয়েছে। তাই সদ্য ঘোষিত কমিটি বিলুপ্ত করে পুনর্গঠনের দাবি জানাচ্ছি।

 

এ বিষয়ে জানতে সদ্য ঘোষিত উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আমিনের মোবাইল নম্বরে কল দিলে বন্ধ পাওয়া যায়।

 

বহিষ্কৃত জামায়াত নেতাকে আহ্বায়ক করে বিএনপির কমিটি, কার্যালয়ে তালা

 

অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান নান্টু বলেন, দীর্ঘ ১৪ পর বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ঘোষণার পর কর্মীদের মধ্যে চাঙাভাব দেখা দিয়েছে। গঠনতন্ত্র মেনে যাচাই-বাছাই করে কমিটি দেওয়া হয়েছে। আগামীতে সরকার বিরোধী আন্দোলনে যারা কাজ করতে পারবেন, তাদের নিয়েই কমিটি গঠন করা হয়েছে।