পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চিকিৎসকদের অভিযোগ

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত জুন ১৩ রবিবার, ২০২১, ০৬:০৪ অপরাহ্ণ
পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চিকিৎসকদের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আবুল ফাত্তাহ’র বিরুদ্ধে চিকিৎসকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা আটকে রেখে অর্থ আদায়সহ ৭টি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৮ এপ্রিল বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ও বরগুনা সিভিলে সার্জন বরাবর ওই লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তবে ওই অভিযোগের গত দু’মাসেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

চিকিৎসকদের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ’র বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা আটকে রেখে অর্থ আদায়, উন্নয়ন ফান্ড নামে টাকা আদায়, প্রশিক্ষণের নামের অর্থ আত্মসাৎ, পরিচ্ছন্নতা কর্মীর নামে বিল ভাউচারে টাকা আত্মসাৎ, সরকারি বাসভবনকে টাকার বিনিময় রোগী দেখার জন্য শুধুমাত্র চেম্বার হিসেবে ব্যবহার ও জরুরি বিভাগের চারটি অক্সিজেন সিলিন্ডার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ কাছে রাখার অভিযোগ রয়েছে।

পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাবেক অ্যাম্বুলেন্স চালক নাসির উদ্দিন বলেন, অ্যাম্বুলেন্স মেরামতের ৫৮ হাজার ছয়শত টাকার দুইটি বিল ভাউচার গত ২ জুন আমার স্বাক্ষর রাখলেও কোন টাকা আমাকে দেননি আবুল ফাত্তাহ স্যার।তবে ওই বিল ভাউচারে স্বাক্ষর দেয়ার শর্তে শেষ বেতনের প্রত্যয়নপত্র (এলপিসি) নিতে আমি বাধ্য হয়েছি।

পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসক বলেন, আমার তিন মাসের বেতন স্যার (আবুল ফাত্তাহ) আটকে রেখেছেন, আজকের পর্যন্ত ওই বেতন আমি পাইনি। এভাবে পাথরঘাটা হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসকের বেতন স্যার আটকে রেখেছেন।

অপর আর এক চিকিৎসক বলেন, চিকিৎসকদের বাসভবনের জন্য আমরা ডরমেটরি ব্যবহার করি। ওই ডরমেটরির ভাড়া প্রায় এক হাজার টাকা। কিন্তু স্যার আমাদের কাছ থেকে ডরমেটরি হিসেবে ভাড়া না নিয়ে মূল বেতনের বাড়িভাড়া অংশ ধরে বাড়িভাড়া কাটছেন। এতে আমরা ডরমেটরিতে থেকেও বাড়িভাড়া বাবদ দশ হাজার টাকারও বেশি দিতে হচ্ছে। যা আমাদের ওপর অবিচার।

অভিযোগ প্রসঙ্গে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আবুল ফাত্তাহ বলেন, চিকিৎসকদের বেতন আটকে রাখা যায় না তারা অনলাইনে বেতন পেয়ে যান। আর হাসপাতালে যে উন্নয়ন হয়েছে তার অনেক টাকা আমার পকেট থেকেও গেছে। তবে আমার বিরুদ্ধে দেয়া অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

এ ব্যাপারে বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মারিয়া হাসান বলেন, চিকিৎসকদের ওই একই অভিযোগ পরিচালক স্বাস্থ্য স্যারের কাছেও করা হয়েছে। তাই এ ব্যাপারে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক স্যার যে সিদ্ধান্ত দেবেন,সেভাবেই কাজ হবে।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]