পটুয়াখালীতে গণপূর্তের ২৬ ভবন পরিত্যক্ত, চলে অপরাধ কর্মকাণ্ড


Barisal Crime Trace -GF প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২২, ১২:২৫ অপরাহ্ণ /
পটুয়াখালীতে গণপূর্তের ২৬ ভবন পরিত্যক্ত, চলে অপরাধ কর্মকাণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালী পৌর শহরে দাঁড়িয়ে আছে গণপূর্ত বিভাগের ২৬টি পরিত্যক্ত ভবন। বসবাসের সুযোগ না থাকায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাড়তি ভাড়ায় ব্যক্তি মালিকানাধীন বাড়িতে বসবাস করছেন। ফলে পরিত্যক্ত ভবনগুলো এখন অপরাধীদের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে। তবে গণপূর্ত বিভাগ বলছে, এসব ভবন ভেঙে নতুন বহুতল ভবন নির্মাণের বিষয়ে কাজ করছে তারা।

 

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্বাধীনতা পরবর্তী সময় পটুয়াখালী পৌর শহরে সরকারি অফিস পাড়ার কাছেই এ-টাইপ, বি-টাইপ, সি-টাইপ এবং ডি-টাইপ নামে চারটি আবাসিক এলাকায় বিভিন্ন আকারের ২৬টি ভবন নির্মাণ করে গণপূর্ত অধিদপ্তর। তবে কালের বিবর্তনে এসব ভবন এখন ব্যবহারের অনুপযোগী। এরই মধ্যে ২০টি ভবন ব্যবহার সম্ভব না হওয়ায় কনডেম ঘোষণা করে তা পরবর্তী দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে উদ্যোগ নিয়েছে গণপূর্ত বিভাগ।

 

 

 

বর্তমানে পরিত্যক্ত ভবনগুলো মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ ছাড়া ভবনের মূল্যবান জিনিসপত্রও চুরি হয়ে গেছে।

 

 

পটুয়াখালী শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তৈহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পরিত্যক্ত ভবনগুলোকে কেন্দ্র করে এখন অপরাধীদের একটা নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সময় স্কুল-কলেজগামী ছেলে-মেয়েদের এসব পরিত্যক্ত ভবনে ঢুকতে দেখা যায়। এছাড়া ভবনের পাশে নতুন লেক তৈরি হওয়ায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরতে গেলেই বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

 

 

পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক ব্যবসায়ী মনির হোসেন বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য নির্মাণ করা এসব ভবন এখন পরিত্যক্ত হওয়ায় সরকারি কর্মচারীরা এখন শহরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যক্তি মালিকানাধীন বাড়িতে ভাড়া থাকছেন। তবে এসব ভবন ভেঙে নতুন বহুতল ভবন নির্মাণ করলে সরকারি কর্মচারীদেরও উপকার হতো এবং সরকারেরও অর্থ অপচয় কম হতো। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পটুয়াখালীসহ দক্ষিণ অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময় যে উন্নয়ন করেছে এ পরিস্থিতিতে এ ধরনের পরিত্যক্ত ভবনের জঞ্জাল থাকাটা বেমানান।

 

 

সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. মিঠুন বলেন, পটুয়াখালী পৌর শহরে এখন অপরাধের কেন্দ্র হচ্ছে পুরাতন ভবনগুলো। এ ছাড়া রক্ষণাবেক্ষণ না করায় অধিকাংশ ভবনের দরজা, জানালা, গ্রিলসহ বিভিন্ন ইলেকট্রিক সুইচ, সকেটসহ মূল্যবান জিনিসিপত্র চুরি হয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের নজর দেওয়া উচিত।

 

 

পটুয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হারুন অর রশিদ বলেন, এরই মধ্যে ২০টি ভবন কনডেম ঘোষণা করে সার্ভে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ৯টি বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য ভবনের ডিজাইন তৈরি করা হচ্ছে। আশা করছি দ্রুত সম্পন্ন করে ডিপিপি তৈরি সম্ভব হবে।