বাউফলে ভয়ংকর মহসিন ডাকাতের আতঙ্কে দিশেহারা জেলেরা!

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত জুন ১৩ রবিবার, ২০২১, ০৬:১৮ অপরাহ্ণ
বাউফলে ভয়ংকর মহসিন ডাকাতের আতঙ্কে দিশেহারা জেলেরা!

বরিশালক্রাইমট্রেস ডেস্কঃ পটয়াখালীর বাউফলের তেঁতুলিয়া নদীতে দুর্বৃত্ত, অনুপ্রবেশকারী, জলদস্যুদের দৌরত্ম্য বেড়েই চলছে। জলদস্যুরা এখন জেলেদের জন্য মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছে। তেঁতুলিয়ায় বৈরী আবহাওয়া যতটা না ভয়ংকর, তার চেয়ে ভয়ংকর মানুষ। তেঁতুলিয়া নদীতে এই আতঙ্কের নাম ‘মহসিন ডাকাত’। তেঁতুলিয়া নদীর বিশাল এলাকা নিয়ন্ত্রণ করেন মহসিন ও তাঁর সশস্ত্র দস্যু বাহিনী। দিনে দুপরে ডাকাতি হয় নদীতে। প্রতিনিয়ত জীবন বাজি রেখে মাছ ধরেন জেলেরা। তেঁতুলিয়া নদীতে মহসিন ডাকাতের অত্যাচরে অতিষ্ঠ জেলেরা। ৭ বছরের বেশি সময় ধরে তাঁর কাছে জিম্মি পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী নৌযান শ্রমিক মালিকেরা। অদৃশ্য কারণে প্রশাসনের ধরা ছোঁয়ার বাহিরে মহসিন গাজী ওরফে মহসিন ডাকাত।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুখ্যাত জলদস্যু এই মহসিন ডাকাত ভোলা জেলার দৌলতখাঁন উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর গ্রামের কয়সর গাজীর ছেলে। মহসিন ডাকাতের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসাবে কাজ করেন তার আপন ভাই পারভেজ গাজী। অন্যতম সহযোগী হিসাবে কাজ করেন তাঁর মামা হাসান ও কবির রাঢ়ী। ২০/২৫জন সদস্য নিয়ে গড়ে তুলেছেন জলদস্যু বাহিনী। এই বাহিনীর কাছে দেশি-বিদেশি পাইপগান, রিভালবারসহ দেশীয় অস্ত্রের ব্যাপক মজুদ রয়েছে। ডাকাতিকালে কয়েকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটেছে।

সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বরিশালের দূর্গাপাশা থেকে বাউফলের ধুলিয়া, কেশবপুর, চন্দ্রদ্বীপ ও নাজিরপুর ইউনিয়নের জেলেদের মহসিন ডাকাতকে চাঁদা দিয়ে মাছ ধরতে হয়। ছোট নৌকা ৫হাজার,ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ১০হাজার করে বছরে দুই বার চাঁদা দিতে হয়। নদী পথে পণ্য ও যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল করতেও চাঁদা দিতে হয় মহসিন ডাকাতকে। চাঁদা না দিলে হামলা, মারধর নির্যাতন ও লুটপাতের শিকার হতে হয়। মহসিনের নির্যাতনের শিকার হয়নি এমন জেলের সংখ্যা কম। মহসিনের নির্যাতনে গুরুত্বর আহত হয়েছেন কেশবপুরের মমিনপুর গ্রামের ইব্রাহিম ব্যাপারী, ফিরোজ হাজী, অহেদ মাল, দুলাল গাজী, মোতাহার, মিরাজ, সজল সিকদার, ধুলিয়া ইউনিয়নের মঠবাড়িয়া গ্রামের জহিরুলসহ অনেকে। তাঁর অত্যাচার নির্যাতন থেকে বাঁচতে চাঁদা দেওয়া এখন নিয়মে পরিনত হয়েছে। চাঁদা দিয়েই নদীতে মাছ ধরেন জেলেরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কেশবপুর ইউনিয়নের ১০/১২জনের সংঘবব্ধ চক্র মহসিন ডাকাতের হয়ে কাজ করেন। তাদের মাধ্যমে টাকা লেনদেন হয়। এদের মধ্যে মমিনপুরের কুক্কা খালেক ও বাদামতলীর ফারুক জোমাদ্দার সক্রিয় ভূমিকা রাখে। কেশবপুরের কালামিয়ার বাজারের এক বিকাশের দোকান থেকে টাকা লেনদেন হয় বলে জানা যায়।

এছাড়াও কেশবপুর ইউনিয়নের একটি প্রভাবশালী মহলের সাথে মহসিনের যোগাযোগ রয়েছে। মহসিনের কাছ থেকে সুবিধাও নেয় তাঁরা। মহসিনের ডাকাতির পরে রফাদফাও করে দেন ওই প্রভাবশালী মহল।

জাফরাবাদ ও বাদামতলী গ্রামের বাসিন্দারা জানান, ‘কেশবপুর ইউনিয়নের লালচরে প্রায় ৫০টি খাল রয়েছে। এসব খালে মাছ ধরে প্রায় ১হাজার জেলেরা জীবিকা নির্বাহ করে। এমৌসুমে মহসিন বাহিনী সেই চর দখলে নিয়ে প্রায় ২০লাখ টাকার মৎস্য সম্পদ হাতিয়ে নিয়েছে। এবিষয়ে প্রতিকার চেয়ে ওসি ও ইউএনও’র কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে কেশবপুর ইউনিয়নের এক জনপ্রতিনিধি বলেন, তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ে প্রায় মানুষই জেলে। মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। মহসিনের ভয়ে ক্যামেরার সামনে কেউ কিছু বলবে না। সবাই চাঁদা দিয়ে নদীতে মাছ ধরে। আমি নিজেও জেলে। কয়েকদিক আগেও আমার ট্রলারে হামলা করে। আমার নাম প্রকাশ হলে আবারও আমার ওপর হামলা হবে।ওর ভয়ে কেউ মুখ খুলে না। ওই জনপ্রতিনিধি আরও বলেন, ভোলা, পটুয়াখালী ও বাউফলের পুলিশের কাছে অনেক বার লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অদৃশ্য কারনে পুলিশ, নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ড মহসিন ডাকাতকে ধরতে পারছে না। দিনে দুপুরেই নদীতে ডাকাতি হচ্ছে।

এ ব্যাপারে মহসিন গাজী ওরফে মহসিন ডাকাত জানান, আমি কোন জেলের থেকে টাকা নেই না, কিছু জেলে খুশি হয়ে আমাকে তিন চার হাজার টাকা করে দেয়।

বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির হোসেন বলেন,‘কেশবপুর ইউনিয়নের জেলেরা অভিযোগ করেছেন। ওসি সাহেবকে ব্যাবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

বাউফল থানা অফিসার ইনচার্জ আল মামুন বলেন, ‘স্থানীয় সাংসদ মহোদয় ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমাকে বলেছেন। আমি ঐ এলাকার লোকজনের সাথে যোগাযোগ করেছি। এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যাবস্থা নেয়া হচ্ছে।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]