দুগ্ধপোষ্য বকনা বাছুর দেখে বিতরণ না করে ফিরে গেলেন এমপি


Barisal Crime Trace -HR প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২২, ৪:০১ পূর্বাহ্ণ /
দুগ্ধপোষ্য বকনা বাছুর দেখে বিতরণ না করে ফিরে গেলেন এমপি

রাহাদ সুমন, বিশেষ প্রতিনিধি ।। বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মোঃ শাহে আলম বানারীপাড়ায় দুগ্ধপোষ্য,রুগ্ন ও অপুষ্টির শিকার বকনা বাছুর দেখে জেলেদের মাঝে বিতরণ না করে ফিরে যান।

 

জানা গেছে, ২২ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টায় বানারীপাড়ায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলায় ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বকনা বাছুর বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য মো.শাহে আলম উপস্থিত হন।

 

এসময়ে জেলেদের জন্য ক্রয়কৃত মাত্র ১- ৪ মাস বয়সী দুগ্ধপোষ্য, রুগ্ন ও অপুষ্টির শিকার বকনা বাছুর দেখতে পেয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বিতরণ না করে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়ে বিতরণ অনুষ্ঠান থেকে ফিরে যান।

 

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ঢাকা থেকে আগত ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের সহকারি পরিচালক মোঃ রাকিবুল ইসলামও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি এসময় সিডিউল অনুযায়ী নির্ধারিত সাইজের ও মূল্যের বকনা বাছুর ক্রয় করে দ্রুত সময়ের মধ্যে জেলেদের মাঝে বিতরণ করতে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।

 

 

এসময় অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল হুদা,,সাবেক প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগ নেতা ডাঃ খোরশেদ আলম সেলিম ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সুব্রত লাল কুন্ডুসহ উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং এমপির সঙ্গে অনুষ্ঠান স্থল থেকে চলে যান। হতাশ হয়ে খালি হাতে ফিরে যান জেলেরাও।

 

 

প্রসঙ্গত, প্রকল্পের সিডিউল (দরপত্র) অনুযায়ী প্রতিটি বকনা বাছুরের মূল্য ২৫ হাজার টাকা করে ও ১ বছর বয়সী হওয়ার কথা ছিল।

 

এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঠিকাদার মামুনকে সিডিউল অনুযায়ী বকনা বাছুর দেওয়ার জন্য তিন দিনের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে অন্যথায় তার বিরুদ্ধে সিডিউল বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

এ প্রসঙ্গে বিতরণ অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিপন কুমার সাহা অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন সিডিউল অনুযায়ী বকনা বাছুর ক্রয় না করায় বিতরণ না করে এগুলো ফেরত পাঠানো হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সিডিউল অনুযায়ী বকনা বাছুর না দিলে ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল ও জামানত বাজেয়াপ্তসহ তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

এদিকে এধরণের বকনা বাছুর ক্রয়ের দায় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা এড়াতে পারেন না বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন।

 

অপরদিকে ছোট সাইজের রুগ্ন ও দুগ্ধপোষ্য বকনা বাছুর বিতরণ না করে ফিরে যাওয়ায় সংসদ সদস্য মোঃ শাহে আলমকে স্থানীয় সচেতন মহল সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি বরাদ্দের টাকা লোপাটের উদ্দ্যেশে এধরণের বকনা বাছুর ক্রয়ের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।