ভাণ্ডারিয়ায় ২০ বছর পরে স্বপদে বহাল শিক্ষক দম্পতি


Barisal Crime Trace -FF প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২২, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ /
ভাণ্ডারিয়ায় ২০ বছর পরে স্বপদে বহাল শিক্ষক দম্পতি

স্টাফ রিপোর্টার, ভাণ্ডারিয়া : পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ার এক শিক্ষক দম্পতি দীর্ঘ ২০ বছর পরে হাইকোর্টের রায়ে নিজ কর্মস্থলে স্বপদে বহাল হয়েছেন। বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির রোষানলে পড়ে ওই শিক্ষক দম্পতি একাধিক মামলায় হয়রানির পর তাদের বেতন-ভাতাদি বন্ধ হয়ে যায়।

উপজেলার খাতুন্নেছা স্মৃতি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাইয়েদুর রহমান ও তার স্ত্রী একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মাসুমা আক্তার টানা ২০ বছর পর বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে যোগদান করেন।

এ সময় বিদ্যালয় মিলনায়তনে ওই শিক্ষক দম্পতিকে ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেন বর্তমান বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, সদস্যবৃন্দ, শিক্ষক শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা।

পরে বিদ্যালয়রে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. মজিবুর রহমান আকনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন- সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান খান মো. রুস্তুম আলী, মজিদা বেগম মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য মো. মহসীন মিয়া শাহিন, স্বপদে বহালকৃত প্রধান শিক্ষক মো. সাইয়েদুর রহমান, সুন্দরবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাসুম বিল্লাহ, খাতুন্নেছা স্মৃতি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক রিপন কুমার মিস্ত্রী, ধর্মীয় শিক্ষক মো. কবির হোসেন, স্থানীয় সমাজসেবী মো. মতিউর রহমান প্রমুখ।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মিসেস নাসরীন মল্লিকের বাসায় বিদ্যালয়ের আয়া ডালিম বেগম কাজ না করায় এবং পিয়ন হরলাল চন্দ্র রায় নোটিশ বোর্ডে নোটিশ টাঙানোর জন্য তাদের বেতন-ভাতা আটকে দেন। ওই সময় প্রধান শিক্ষক মো. সাইয়েদুর রহমান সভাপতির এমন অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। এত বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির সঙ্গে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।

এ নিয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি প্রধান শিক্ষক ও তার স্ত্রী একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মাসুমা আক্তারের বিরুদ্ধে ২০০২ সালের ২০ মার্চ পিরোজপুর সহকারী জজ আদালতে একটি হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেন। সে মামলায় উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে মামলাটি খারিজ হয়।

পরবর্তীতে সভাপতি ওই শিক্ষক দম্পতির বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের করে। এতে তাদের বেতন-ভাতাদি বন্ধ হয়ে যায়। মামলা গড়ায় হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের এপিলেড ডিভিশন পর্যন্ত। সর্বশেষ ওই মামলা গত ৪ আগস্ট খারিজ করে হাইকোর্ট প্রধান শিক্ষক মো. সাইয়েদুর রহমান এবং তার স্ত্রী মাসুমা আক্তারকে স্বপদে বহালে হাইকোর্টের রায় দেন। টানা ২০ বছর আইনি লড়াই শেষে ওই শিক্ষক দম্পতি বৃহস্পতিবার নিজ কর্মস্থলে যোগদান করেন।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক মো. সাইয়েদুর রহমান বলেন, সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আমাকে ও আমার স্ত্রী সহকারী শিক্ষিকাকে বরখাস্ত করেন। এছাড়া আমাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দিয়ে চরম হয়রানি করেন। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে নিজ বিদ্যালয়ে হাইকোর্টের রায়ে কর্মস্থলে যোগদান করতে পেরে আনন্দ লাগছে।