গোরস্থানে বস্তাবন্দি লাশ মরিয়মের মায়ের!


Barisal Crime Trace -FF প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২২, ২:২৩ অপরাহ্ণ /
গোরস্থানে বস্তাবন্দি লাশ মরিয়মের মায়ের!

ক্রাইম ট্রেস ডেস্ক : দীর্ঘ ২৭ দিন নিখোঁজ থাকার পর মায়ের লাশের সন্ধানে আজ সকালে ফুলপুর থানায় আসেন মরিয়ম মান্নান। লাশের সাথে থাকা সুরতহাল তথ্য অনুযায়ি নিশ্চিত করেন লাশটি তাঁর মায়ের। এ সময় লাশের সাথে বিভিন্ন আলামত দেখে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, এ লাশটি আমার মায়ের। নিখোঁজ হওয়া ঐ নারীর নাম রহিমা খাতুন (৫২)।

জানা যায়, দ্বিতীয় স্বামী বিল্লাল হাওলাদারকে নিয়ে খুলনার দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা খানাবাড়িতে থাকতেন রহিমা। গত ২৭ আগস্ট রাত ১০ টায় বাসার নিচে টিউবওয়েলের পানি আনতে গিয়ে নিখোঁজ হন মরিয়মের মা। এ সময় রহিমা খাতুনের পায়ের জুতা, গায়ের ওড়না, পানির পাত্র থাকলেও ছিলেননা তিনি।

এ দিকে গত ১০ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহের ফুলপুরে বওলা ইউনিয়নের এক গোরস্থান সংলগ্ন ঝোপে বস্তাবন্দি (৫২) এক নারীর লাশ উদ্ধার করে ফুলপুর থানার পুলিশ। দুপুরে এ নারীর লাশ উদ্ধার করা হলেও তার পরিচয় পাওয়া যায়নি। এ সময় নিহত নারীর পরনে ছিল গোলাপী রংয়ের স্যালোয়ার, গায়ে সূতি ছাপা গোলাপী, কালো বেগুনী, কমলা রংয়ের কামিজ। গলায় গোলাপী রংয়ের ওড়না পেচানো ছিল।

ফুলপুর থানার পুলিশ জানায়, হত্যাকান্ডটি বেশ কয়েকদিন আগে হওয়ায় ও এ লাশের ফিংগার প্রিন্ট নিতে না পারায় লাশ সনাক্ত করা যায়নি। উক্ত অজ্ঞাতনামা লাশ পরিচয় পাওয়ার জন্য স্থানীয় সাংবাদিকসহ বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়াতে সংবাদ প্রচার করেন। ফুলপুর থানার পুলিশ লাশের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন স্থানে পোস্টার লাগানোর ব্যবস্থা করেন। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের কোনো তথ্য ১৪ দিনেও পাওয়া যায়নি।

আজ শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে মরিয়ম মান্নানসহ পরিবারের ছয় সদস্য আসলে লাশের সাথে থাকা আলামত দেখান আলামত সংগ্রহকারী ভ্যানচালক জামাল উদ্দিন। মরিয়ম মান্নান মায়ের লম্বা চুলের বিবরণ শোনেন জামালের কাছ থেকে। পরিবারের সবাই চিৎকার করে বলেন এ লাশ আমাদের।

এ সময় মরিয়ম মান্নান ও তার দুই বোন সহ সবাই জানান, লাশের সাথে ওড়না ও স্যালোয়ার মায়ের পড়নে ছিল না। তাঁদের ধারণা হত্যাকারীরা এসব আলামত নষ্ট করে যাতে পরিচয় সনাক্ত না করা যায়। বাকী আলামত মা রহিমা খাতুনের বলে নিশ্চিত করেন দুই বোন ও পরিবারের সদস্যরা।

মরিয়ম মান্নান জানান, সে ঢাকা তেজগাঁও কলেজের রাষ্টবিজ্ঞানে ছাত্রী। তারা ছয় ভাইবোন। মা রহিমা খাতুন দ্বিতীয় স্বামী বিল্লাল হাওলাদারকে নিয়ে বসবাস করতেন। মেয়ে আদুরি খাতুন বলেন, নিখোঁজের পর মাকে না পেয়ে ২৮ আগস্ট খুলনার দৌলতপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামী করে অপহরণ মামলা করি। জানা যায়, নিখোঁজ রহিমা খাতুনের সাথে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশীদের সাথে জমিসংক্রান্ত বিরোধ চলছিল।

মা নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টির ব্যাপারে জানতে চাইলে মরিয়ম মান্নান জানান, আইনি প্রক্রিয়া আমরা এগিয়ে যাব। এ মুহুর্তে আদালতের মাধ্যমে বাকি কাজ সম্পন্ন করতে ফুলপুর থানার ওসির সাথে কথা বলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফুলপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আলমামুন বলেন, বিষয়টি আদালতে জানানো হবে। রবিবার আদালতে এ বিষয়টি তুলে ধরা হবে। ডিএনএ পরীক্ষার পর নিশ্চিত করা হবে লাশটি মরিয়মের মায়ের কিনা।