ইউএনওর বিরুদ্ধে নৈশপ্রহরীকে মারধরের অভিযোগ


Barisal Crime Trace -HR প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২২, ১০:৫৬ অপরাহ্ণ /
ইউএনওর বিরুদ্ধে নৈশপ্রহরীকে মারধরের অভিযোগ

ক্রাইম ট্রেস ডেস্ক ।। বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সমর কুমার পালের বিরুদ্ধে আলমগীর হোসেন শেখ (৪৮) নামে পরিষদের এক চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীকে (নৈশপ্রহরী) মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি মারধর করে তাকে পরিষদ চত্বর থেকে বের করে দেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে ‘সংজ্ঞাহীন অবস্থায়’ উদ্ধার করে তাকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন উপজেলা চেয়ারম্যান।

 

 

বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

 

 

এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান সফিক বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, আহত ওই নৈশপ্রহরীর অভিযোগ—তার (আলমগীর) স্ত্রীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই আনসারের সহযোগিতায় ইউএনও তাকে মারপিট করেছেন।

 

ইউএনও তাকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দিয়েছেন। পরে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। অবশ্য অজ্ঞাত কারণে শুক্রবার সকালে সে সেখান থেকে কাউকে না জানিয়ে চলে গেছে।

 

যদিও অভিযোগের ব্যাপারে জানতে একাধিকবার ফোন করেও ইউএনও সমর কুমার পালের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তিনি স্থানীয় অন্য সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এটা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র’।

 

তার দাম্পত্য কলহের কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, সহানুভূতি পাওয়ার জন্য আলমগীর আহত হওয়ার অভিনয় করেছেন।

 

বগুড়া সদর উপজেলা পরিষদ সূত্র জানায়, আলমগীর হোসেন শেখ সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চক শিয়ালকোল গ্রামের মৃত মেহের আলীর ছেলে। তিনি বগুড়া সদর উপজেলায় এলজিইডি অফিসের নৈশপ্রহরী। কিছু দিন ধরে স্ত্রী শহিদা বেগমের সাথে তার কলহ চলে আসছে। এ কারণে তিনি স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরিষদের তৃতীয় তলায় সরকারি কোয়ার্টারে থাকেন।

 

গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে শহিদা বেগম উপজেলা পরিষদে আলমগীরের খোঁজ করতে আসেন। তখন তাকে না পেয়ে তিনি ইউএনওকে নালিশ করে চলে যান।

 

 

এর আগে তিনি (শহিদা) এ ব্যাপারে এলজিইডি প্রকৌশলীর কাছে অভিযোগ করেন। তখন প্রকৌশলী তার কাছ থেকে ঘরের চাবি কেড়ে নেন এবং চাকরিচ্যুত করার ভয় দেখান।

 

আহত নৈশপ্রহরী আলমগীর হোসেন শেখের জামাতা মাসুদ, মেয়ে লোপা খাতুন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে ইউএনও সমর কুমার পাল আনসার সদস্যদের মাধ্যমে আলমগীরকে তার কক্ষে ডেকে নেন। স্ত্রী শহিদার অভিযোগ যাচাই না করেই ক্ষমা চাওয়ার পরও ইউএনও এবং তার দেহরক্ষী আনসার সদস্যরা আলমগীরকে লাঠিপেটা করেন। এরপর তাকে অচেতন অবস্থায় উপজেলা পরিষদের মসজিদে সামনে রাস্তায় ফেলে দিয়ে আসা হয়।

 

 

পথচারীরা সেখানে ভিড় করলে উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান সফিক নিজ গাড়িতে নৈশপ্রহরীকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। এর আগে আলমগীর উপস্থিত লোকজনের কাছে অভিযোগ করেন, ইউএনও তাকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দিয়েছেন।

 

 

তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে যোগাযোগ করলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বলেন, ওই রোগীর এক্সরে করা হয়েছিল। ওই ব্যক্তির বাম হাত ও দুটি আঙুল ভেঙে গেছে।

 

 

শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক জানান, ‘ইউএনও’র বিরুদ্ধে নৈশপ্রহরীকে মারপিটের অভিযোগ ওঠায় এ ব্যাপারে তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালাহ্উদ্দিন আহমেদকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।