আগৈলঝাড়ায় ১৬৩ মণ্ডপে চলছে পূজার আয়োজন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার


Barisal Crime Trace -GF প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২২, ৭:২১ অপরাহ্ণ /
আগৈলঝাড়ায় ১৬৩ মণ্ডপে চলছে পূজার আয়োজন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, বরিশাল : বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ১৬৩টি মন্ডপে শারদীয় দূর্গোৎসবের আয়োজন চলছে। ইতোমধ্যেই প্রতিমা নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পুজায় সরকারী অনুদান হিসেবে প্রতি মন্ডপে ৫শ কেজি করে চাল হিসেবে ৮১ মেট্টিক টন চাল বরাদ্দ করেছে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়।

শেষ সময়ে রং-তুলির আঁচড়ে দেবী দূর্গাকে অপরুপ সাজে সজ্জিত করতে চলছে নির্মাণ শিল্পীদের কাজ। ১৬৩টি মন্ডপে প্রতীমা নির্মানের মাধ্যমে বরিশাল বিভাগের বেশী পুজার আয়োজন চলছে আগৈলঝাড়ায়।

আগৈলঝাড়া উপজেলা কেন্দ্রীয় পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সুনীল কুমার বাড়ৈ ও সাধারণ সম্পাদক বাকাল ইউপি চেয়ারম্যান বিপুল দাস জানান এ বছর উপজেলায় মোট ১শ ৬৩টি মন্ডপে শারদীয় দূর্গা পুজার প্রস্তুতি চলছে। এরমধ্যে রাজিহার ইউনিয়নে ৪৯টি, বাকাল ইউনিয়নে ৪০টি, বাগধা ইউনিয়নে ২৪টি, গৈলা ইউনিয়নে ২৬টি ও রত্নপুর ইউনিয়নে ২৪টি পুজা মন্ডপ রয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মো. মোশারফ হোসেন জানান, পুজায় সরকারী সাহায্য হিসেবে পূর্বের প্রেরিত ১৬২টি মন্ডপের তালিকার অনুকুলে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রনালয় থেকে ইতোমধ্যেই (২১ সেপ্টেম্বর) ৫শ কেজি করে চাল হিসেবে ৮১ মেট্টিক টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। পরবর্তি একটি পুজা মন্ডপ বাড়তি হওয়ায় ওই মন্ডপের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বাকী ১টি মন্ডপের জন্য বরাদ্দের আশাবাদী বলেও জানান তিনি।

থানা ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইন চার্জ (ওসি, তদন্ত) মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যেই গুরুত্ব বিবেচনা করে মন্ডপগুলোর তালিকা প্রনয়ণ করা হয়েছে। তালিকায় ১৫২টি স্থায়ী মন্ডপের মধ্য সাধারণ পুজা মন্ডপের সংখ্যা ৬২টি, ঝুঁকিপূর্ণ মন্ডপের সংখ্যা ৫০টি এবং অধিক ঝুঁকিপূর্ণ মন্ডপের সংখ্যা ৪০টি নির্ধারন করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুজা শুরু থেকে প্রতীমা বিসর্জন পর্যন্ত মন্ডপগুলোতে গুরুত্ব বিবেচনা করে তিন ভাগে ভাগ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। এছাড়াও মন্ডপগুলোতে স্থানীয়ভাবে স্বেচ্ছাসেবক কমিটি গঠন, ও আসনার সদস্যদের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, নির্বিঘ্নে পুজা সম্পন্ন করতে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। সরকারীভাবে আলোকসজ্জার উপর বিধিনিষেধ থাকায় পুজার জন্য প্রয়োজন এমন সংখ্যক লাইট ছাড়া গেট, তোড়ন বা পথের জন্য বাড়তি কোন আলোকসজ্জা করা যাবে না। বাড়তি আলোকসজ্জার উপর কঠোর নজরদারি মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

পঞ্জিকা মতে, ১অক্টোবর শনিবার ষষ্ঠী পুজার মধ্য দিয়ে দেবীর দূর্গার নবপত্র কল্পারম্ভ, ওইদিন মন্ডপে মন্ডপে বেঁজে উঠবে ঢাক-ঢোল আর কাঁসরের বাজনার শব্দ। এদিন থেকে ৫ অক্টোবর বুধবার পর্যন্ত দশমী বিহিত পুজা সমাপনান্তে দেবী বিসর্জণ ও দশহরার মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিভাবে সম্পন্ন হবে পাঁচ দিন ব্যাপী শারদীয় দূর্গা পুজার ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান।