মির্জাগঞ্জে পুলিশের সহায়তায় মাদক দিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ, অতঃপর…


Barisal Crime Trace -FF প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২২, ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ /
মির্জাগঞ্জে পুলিশের সহায়তায় মাদক দিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ, অতঃপর…

স্টাফ রিপোর্টার, মির্জাগঞ্জ : পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে এক অটোচালককে অভিনব কায়দায় মাদক দিয়ে পুলিশের সহায়তায় চাঁদাবাজির এক অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রোববার পটুয়াখালী পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী স্বপন ফরাজী নামের ওই অটোচালক।

বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় সুবিদখালী লঞ্চঘাট সিনেমা হল এলাকায় অটোচালককে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে চাঁদাবাজির ঘটনাটি ঘটে। এদিকে মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশ বলছে, মাদক দিয়ে ফাঁসিয়েছে স্থানীয় একটি চক্র; এখানে পুলিশের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এমন ঘটনায় পুলিশ ও ওই চক্রের আতঙ্কে রয়েছে স্থানীয় সাধারণ মানুষ।

অভিযোগপত্র ও ভুক্তভোগীর সাক্ষাৎকারে জানা যায়, ২২ সেপ্টেম্বর স্থানীয় অটোচালক স্বপন ফরাজীর চলন্ত অটো থামিয়ে ৩ জন যাত্রী ওঠেন, যাদের নাম মনিরুল ইসলাম (কালা মনির), পল্লব ও তারিকুল ইসলাম সুজন। পরে ওই অটোচালককে সুবিদখালী লঞ্চঘাট সিনেমা হল এলাকায় নিয়ে যান। ওই অটোচালককে বলে- তোর সঙ্গে মাদক আছে, আমাদের কাছে খবর আছে তুই ইয়াবার ব্যবসা কর। এমন কথায় অটোচালক অস্বীকৃতি জানালে কালা মনির বলে তোকে সার্চ করব, তোকে কিন্তু এরেস্টও করব। সাথে সাথে ঘটনাস্থলে আসেন ওই চক্রের আরেক সদস্য মেহেদি হাসান মুবিন। এ সময় মনির তার পকেট থেকে তিন পিস ইয়াবা বের করে অটোগাড়ির সামনে থাকা ছোট্ট ক্যাশবাক্সের (কাটা ড্রাম) মধ্যে রাখেন।

এরপর তিনজন সদস্য মিলে অটোচালককে বলেন তুই এখন ৫০ হাজার টাকা দিবি না হয় তোকে কিন্তু এরেস্ট করব, থানা পুলিশ দিয়ে তোকে ধরাব। পরে ওই অটোচালক বলেন- আমি গরিব মানুষ অটো চালিয়ে সংসার চালাই আমি টাকা কোথায় পাব? এমনটা বললেই তিনজন মিলে মারধর শুরু করেন এবং সাথে থাকা আরেকজন (সুজন সিকদার) অটোচালকের হাতে ইয়াবা দিয়ে ভিডিও করেন। এরপরও অটোচালক টাকা দিতে না চাইলে মির্জাগঞ্জ থানায় ফোন দেয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যে একজন পুলিশ সদস্য আসেন, যার নাম এসআই জালাল আহম্মেদ।

ভুক্তভোগী স্বপন ফরাজী জানান, পুলিশের এসআই জালাল এসে আমার হাতে হাতকড়া লাগায়; পরে আমাকে হাসপাতাল চত্বরের একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে বলেন- তুমি কি করো বা না করো এটি দেখার বিষয় না; মাল (ইয়াবা) যেহেতু পেয়েছে তুমি এদের সঙ্গে টাকা পয়সা দিয়ে মিটমাট কর। এমনটা বলে জালাল স্যার ইয়াবা ওদের কাছে রেখেই চলে যায় এবং তাদের বলে আপনাদের সঙ্গে পরে দেখা করব। পরে আমি একপ্রকার বাধ্য হয়ে আমার আত্মীয়স্বজনদের ফোন দিলে আমার বড়ভাই আমিনুল ইসলাম ও স্ত্রী মুক্তা বেগম ১২ হাজার ২০০ টাকা নিয়ে আসলে সেই টাকা কালা মনিরের হাতে দিলে আমাকে মুক্তি দেয়। ওই সময় তারা বলেন- এই কথা বাহিরে জানাজানি করলে তোকে আবার এরেস্ট করব।

ওই অটোচালক আরও জানান, শুক্রবার বিষয়টি জানাজানি হলে ওই রাতে ওই চক্রের সদস্য মুবিন আমার স্ত্রীর ফোনে ফোন দিয়ে নানাভাবে হুমকি দেয় এবং বলেন- তোর স্বামীর হাতে রাখা ইয়াবার ভিডিও আমাদের কাছে আছে। এটি ফেসবুকে ছেড়ে দিলে যে কী হবে ভেবেও পাবি না। পরে আমি কোনো কূল না পেয়ে এসপি অফিসে যাই এবং এসপি স্যারের কাছে আমি আইনি সহায়তা ও নিরাপত্তা চেয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়ে এসেছি।

এ ব্যাপারে মোবাইল ফোনে কথা হয় ওই চক্রের সদস্যদের। তখন মুবিন ও মনির বলেন, এসআই জালাল যাওয়ার পরে আমরা চলে গিয়েছি। কোনো ধরনের টাকা-পয়সা লেনদেন হয়েছি কিনা আমার জানা নাই। মনির বলেন, আপনি তদন্ত করেন যা শোনার তো শুনছেনই। আরও বক্তব্য লাগলে আমার সামনে আসেন বক্তব্য দিব আনে ঠিকমতো।

এসআই মো. জালাল আহম্মেদ বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি সত্য, তবে ওই অটোচালকের কাছে কোনো মাদক ছিল না। পরে আমি তাদের সঙ্গে মিটমাট করতে বলে চলে এসেছি। তারা আসলে বাঁচার জন্য আমার নাম ব্যবহার করতেছে।

এ ব্যাপারে পটুয়াখালী পুলিশ সুপার সাইদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।