বাবা দৃষ্টিহীন, পাঁচ সদস্যের পরিবারের হাল ধরেছে আব্দুর রহমান


Barisal Crime Trace -GF প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২২, ৩:২৭ অপরাহ্ণ /
বাবা দৃষ্টিহীন, পাঁচ সদস্যের পরিবারের হাল ধরেছে আব্দুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক : তিন বছর আগে চোখে ছানি পড়ে দৃষ্টিশক্তি হারান সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম আব্দুর রহমানের বাবা সিরাজ মুন্সি। তিনি দৃষ্টিহীন হওয়ার পর অসহায় হয়ে পড়ে পরিবারটি। এ অবস্থায় পরিবারের বোঝা নিজের কাঁধে তুলে নেয় কিশোর আব্দুর রহমান। স্কুলের বই-খাতা আলমারিতে রেখে ভ্যানের হ্যান্ডেল হাতে ধরেছে সে। পাঁচ সদস্যের পরিবারে একমাত্র উপার্জনকারী এই কিশোর।

 

আব্দুর রহমান ভ্যানে করে চা, পানি ও চকলেট বিক্রি করে। সারাদিন বিক্রি করলে ৩০০-৪০০ টাকা আয় হয়। এ টাকা দিয়েই কোনোরকমে খেয়ে না খেয়ে চলছে তাদের সংসার।

jagonews24

আব্দুর রহমান (১৩) শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের নাওডোবা গ্রামের সিরাজ মুন্সির ছেলে। তারা দুই বোন ও এক ভাই।

 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভ্যান চালিয়ে অন্য ১০টি পরিবারের মতো ভালোই চলে যাচ্ছিল সিরাজ মুন্সির দিনকাল। ২০১৯ সালের প্রথম দিকে হঠাৎ তার চোখে ছানি পড়ে। কিন্তু চিকিৎসা না করার কারণে ধীরে ধীরে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারান। তখন সিরাজের একমাত্র ছেলে আব্দুর রহমানের বয়স ছিল ১১ বছর। তখন চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র সে।

 

সিরাজ মুন্সি দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর পরিবারের সদস্যরা অসহায় হয়ে পড়েন। এ সময় আব্দুর রহমান পড়াশোনা বন্ধ করে সংসারের হাল ধরে। ছয় মাস ভ্যান চালায়। তবে যাত্রী বহন করতে কষ্ট হওয়ায় এখন ভ্যানে করে চা, পানি ও চকলেট বিক্রি করে এই কিশোর।

শনিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পদ্মা সেতুর দক্ষিণ প্রান্তের এক্সপ্রেসওয়েতে দেখা হয় আব্দুর রহমানের সঙ্গে। সে বলে, ‘স্কুলে গিয়া কী করমু? হামারতো পেটেত ভাত নাই (আমারতো পেটে ভাত নেই)। মা-বাবা, বোন সাদিয়া (২০) ও সুমাইয়াকে (৬) নিয়ে কী খাইমু (খাবো)? এজন্যইতো ভ্যানে মাল বিক্রি করি। যা টাহা (টাকা) পাই তাতে সংসার চলে না। কষ্ট আর কষ্ট।

 

আব্দুর রহমানদের নিজস্ব কোনো বাড়ি বা জমি নেই। সে বলে, ‘সরকার জাজিরা নাওডোবা পদ্মা সেতু প্রজেক্টে অল্প জমি দিছে। সেখানে সবাই থাকি। আমার বাবার চিকিৎসা দরকার। চেয়ারম্যান বলছে চিকিৎসা করাবে, কিন্তু করায়নি।

 

আব্দুর রহমানের মা নাজমা বেগম জানান, তার স্বামী দুচোখে দেখতে পান না। টাকার অভাবে চিকিৎসাও করাতে পারছেন না। তাই একমাত্র ছেলে তাদের সংসারের হাল ধরেছে।

 

jagonews24

 

তিনি বলেন, ‘ইচ্ছা ছিল একমাত্র ছেলেকে পড়াশোনা করাবো। কিন্তু নির্মম পরিহাস! কিন্তু শিশু ছেলে আমার আমাদের দিকে তাকিয়ে হাতে বই না ধরে, সংসারের হাল ধরেছে।

 

এ বিষয়ে নাওডোবা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন ঢালী বলেন, ‘আমি পরিবারটির খোঁজ নেবো। কেউ পরিবারটির কারও ভোটার আইডি কার্ড নিয়ে এলে সহযোগিতা করবো।

 

জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল হাসান সোহেল বলেন, বিষয়টি জানা নেই। তবে আমরা পরিবারটির খোঁজ নেবো। দৃষ্টি হারানো সিরাজকে চিকিৎসার জন্য সমাজসেবা থেকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা হবে।