নিষেধাজ্ঞায় মেলেনি ত্রাণ, দুশ্চিন্তায় ৪ লক্ষাধিক জেলে


Barisal Crime Trace -FF প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৩, ২০২২, ১:৩২ অপরাহ্ণ /
নিষেধাজ্ঞায় মেলেনি ত্রাণ, দুশ্চিন্তায় ৪ লক্ষাধিক জেলে

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল : মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় বেকার হয়ে পড়েছেন বরিশাল বিভাগের প্রায় চার লাখ জেলে। অথচ সাত দিনেও সরকারের কোনোর খাদ্যসহায়তা পাননি তারা। এতে সংসারের ব্যয়ভার বহন, দাদন ও এনজিওর ঋণ পরিশোধ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।

জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, অনিবন্ধিত হাজার হাজার জেলে পান না এই বরাদ্দ। জানা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার ৫৫৪ নিবন্ধিত জেলের বসবাস দ্বীপজেলা ভোলায়। তবে ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকার জেলেরা।

বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় সম্পূর্ণ বেকার তারা। সংসারের ব্যয়ভার বহন ও এনজিওর ঋণের কিস্তি পরিশোধে চরম সংকটে তারা। বরিশালের আড়িয়াল খাঁ নদের পাড়ে জেলে হেলাল হাওলাদার ও শাফিয়া বেগমের ছোট্ট সংসার। এ নিষেধাজ্ঞায় বিপাকে তারাও।

হেলাল হাওলাদার বলেন, ‘সরকার যে চালটা দেবে, সেটা নিষেধাজ্ঞার আগে দিলে চলা যাবে। কিন্তু সেটা আগে দেবে না পরে দেবে, নাকি দেবেই না–সেটাও আমরা জানি না।’ শাফিয়া বেগম বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় হাতে টাকা-পয়সা নেই; ছোট ছোট ছেলেমেয়ে নিয়ে কোথায় যাব, কী খাওয়াব জানি না।’

এদিকে একই অবস্থা বরিশালের প্রায় ৮৫ হাজার নিবন্ধিত জেলে পরিবারের। অবরোধের শুরু থেকেই মাছ ধরার নৌকা আর ট্রলারগুলো পড়ে থাকায় বেকার তারা। একই অবস্থা পটুয়াখালীর ৭৯ হাজার ৬৬১ ও বরগুনার ৪০ হাজার ২৭৭ জন নিবন্ধিত জেলের।

জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, নিবন্ধিত জেলেদের বাইরেও হাজার হাজার জেলে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু অনিবন্ধিত হওয়ায় সরকারি সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত তারা। নিষেধাজ্ঞার সাত দিন পেরোলেও ভোলা ছাড়া সরকারের খাদ্যসহায়তা এখনো পাননি বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী , ঝালকাঠি ও পিরোজপুরের জেলেরা।

বরিশাল বিভাগ মৎস্য অধিদফতরের উপপরিচালক আনিছুর রহমান তালুকদার বলেন, অসন্তুষ্ট হওয়ার কোনো কারণ নেই। পর্যায়ক্রমে সাহায্যের আওতায় সবাইকে আনা হবে; চাল বরাদ্দ দেয়া হবে। এতে কেউ বাদ যাবে না।

চলতি বছর বরিশাল বিভাগের নিবন্ধিত ৪ লাখ জেলের মধ্যে ৩ লাখ ৬১ হাজার ১২০ জেলেকে ২০ কেজি করে মোট ৯ হাজার ১৮৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হবে।