হেঁটে গণভবনের পথে ইন্দুরকানীর প্রতিবন্ধী শিক্ষক, উদ্দেশ্য প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ


Barisal Crime Trace -FF প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৩, ২০২২, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ /
হেঁটে গণভবনের পথে ইন্দুরকানীর প্রতিবন্ধী শিক্ষক, উদ্দেশ্য প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

স্টাফ রিপোর্টার, ইন্দুরকানী : পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাতের আশায় পিরোজপুরের ইন্দুরকানী থেকে ঢাকার পথে পদযাত্রা শুরু করেছেন বিদ্যালয়টির প্রতিবন্ধী শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম। ইন্দুরকানী থেকে ঢাকার দূরত্ব ২৩৩ কিলোমিটার। বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে ইন্দুরকানী প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় থেকে হেঁটে তিনি ঢাকার গণভবনের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন।

জাহিদুল ইসলামের একটি পা অচল ও একটি চোখ দৃষ্টিহীন। হাত দুটিও প্রায় অচল। ঘরে তার বৃদ্ধ বাবা শাহজাহান মোল্লা মানসিক রোগী। বৃদ্ধা মা নানা রোগে আক্রান্ত। বাবা, মা, স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে তার।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নিজের শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছি। প্রতিবন্ধীদের শিক্ষাজীবন কতটা কষ্টের হয় তা আমি জানি। তাই ২০১৮ সালে ইন্দুরকানী প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি আমরা প্রতিষ্ঠা করি। সরকারের সকল ধরনের নীতিমালা মেনে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে স্বীকৃতির জন্য আবেদন করা হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বিদ্যালয়টির প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্য একাধিকবার ডিও লেটার প্রদান করেছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে। তার পরও কোনো কাজ হয়নি।

আমরা ২১ জন শিক্ষক-কর্মচারী বিনা বেতনে ১৫৩ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করি। তাদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বর্তমানে অর্থাভাবে বিদ্যালয়টি প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। আমরা শিক্ষক-কর্মচারীরা মানবেতর জীবন যাপন করছি। সরকারিভাবে আমাদের কোনো ধরনের সহায়তা দেওয়া হয় না। যাতে বিদ্যালয়টির স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্ত করা হয় সে দাবি নিয়ে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে চাই। তার দেখা পেলে আশা করি তিনি আমাকে খালি হাতে ফেরাবেন না। ’

ইন্দুরকানী প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আহাদুল ইসলাম বলেন, ‘২০১৮ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করার পর থেকে নিয়মিত বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পাঠদান চলছে। তবে বর্তমানে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও বিদ্যালয়ের সার্বিক খরচ মেটাতে পারছি না। সেটি প্রায় বন্ধের উপক্রম হয়েছে। বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে গেলে ১৫৩ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। ’