বরগুনায় বর্ধিত সভায় প্রকাশ্যে পিস্তল প্রদর্শন করে সমালোচনা ও তোপের মুখে যুবলীগ সভাপতি এ্যাটম


Barisal Crime Trace -FF প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৫, ২০২২, ১২:৫৮ অপরাহ্ণ /
বরগুনায় বর্ধিত সভায় প্রকাশ্যে পিস্তল প্রদর্শন করে সমালোচনা ও তোপের মুখে যুবলীগ সভাপতি এ্যাটম

ক্রাইম ট্রেস ডেস্ক : বরগুনা সদর উপজেলার নলটোনা ইউনিয়ন যুবলীগের বর্ধিত সভায় প্রকাশ্যে পিস্তল প্রদর্শন করে বক্তব্য দিয়ে সমালোচনা ও তোপের মুখে পড়েছে বরগুনা জেলা যুবলীগের সভাপতি রেজাউল করিম এ্যাটম। যা নিয়ে ইতিমধ্যে বরগুনা জেলার সর্বস্তরের জনগণের মাঝে চলছে কানাঘুষা ও সমালোচনা। ওই ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, শতশত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সামনে তার কোমড়ে পরিহিত বেল্টের মধ্যে একটি পিস্তল ঝুলছে।

গত ৮ সেপ্টেম্বরে দলীয় অনুষ্ঠানে কেন পিস্তল নিয়ে মঞ্চে হাজির হয়েছেন তিনি এমন প্রশ্ন সবার। এমনকি যুবলীগের সংগঠনটি ক্যাডার সংগঠন। যে কারণে সে যুবলীগ করছেন। ওই ভিডিও ফুটেজে এমনটা দাবী করা হয়। তবে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও লীগের নেতৃবৃন্দের দাবী সে যুবলীগের অন্য নেতৃবৃন্দকে ভয় দেখানোর জন্য এই কাজ করেছেন। তাছাড়া ১৯৮৭-১৯৮৮ সালে সে নতুন বাংলা ছাত্র সমাজ বরগুনা জেলা শাখা আহ্বায়ক কমিটির সক্রিয় সদস্য ছিলেন বলেও জানা গেছে।

তবে বরগুনা জেলা যুবলীগের সভাপতি রেজাউল করিম এ্যাটম বলেন, “আমার জীবনের ঝুঁকি রয়েছে। যে কারণে পিস্তল নিয়ে ঘুরে বেড়াই। দলীয় অনুষ্ঠানেও জীবনের ঝুঁকি রয়েছে কেন? এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, দলীয় অনুষ্ঠানেই জীবনের ঝুঁকি থাকে বেশি। আর জাতীয় পার্টির রাজনীতি আমি কখনও করিনি।”

এদিকে অভিযোগ রয়েছে, তার পরিবারের অন্য সদস্যরা সকলে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। তার ৫ জন চাচাতো ভাই বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের পদধারী নেতা। তার বিরুদ্ধে রয়েছে টেন্ডারবাজি ও সুদে ব্যবসায়েরও অভিযোগ। সভাপতি হওয়ার পরে এসব কর্মকাণ্ড আরও বেড়ে গেছে। তার ছোট ভাই মহসিন মিয়া এক সময়ে ছাত্রদল নেতা হলেও এখন সে জেলা যুবলীগের শিক্ষা প্রশিক্ষণ ও পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বরগুনা জেলা যুবলীগের শীর্ষ এক নেতা বলেন, তার পরিবার ও আত্মীয় স্বজন বিভিন্ন দলের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকা সত্বেও মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সে জেলা যুবলীগের সভাপতির পদ বাগিয়ে নিয়েছে। সভাপতি হওয়ার পর থেকে তার বিলাসবহুল-ফিল্মি স্টাইলের জীবন যাপন ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে। বর্তমান কমিটির দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে জেলা-উপজেলা-ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে তার পছন্দ মতো যোগ্যতাহীন লোকজনকে দলে জায়গা করে দিয়েছে। ত্যাগী নেতাকর্মীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও তাদেরকে কোনঠাসা করে রাখার বিস্তর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বালিয়াতলী ইউনিয়ন যুবলীগের বর্ধিত সভায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথেও করেছে অসৌজন্যমূলক আচরণ।

অন্যদিকে বরগুনা জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহাবুদ্দিন সাবু বলেন, “সরকারী নিয়মনীতি উপেক্ষা করে সে সভায় অস্ত্র প্রদর্শন করেছে। এটা মোটেও কাম্য নয়। হ্যাঁ, তবে জীবনের নিরাপত্তায় লাইসেন্সকৃত অস্ত্র রাখা যাবে লুকিয়ে….। তাছাড়া সে কমিটির সভাপতি হওয়ার পর থেকে কাউকে তোয়াক্কা করছে না। এমনকি সে নতুন বাংলা ছাত্র সমাজ বরগুনা জেলা শাখা আহ্বায়ক কমিটির সক্রিয় সদস্য ছিলো।”

এদিকে বরগুনা জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান মেয়র মহিউদ্দিন মহারাজ বলেন,” পিস্তল প্রদর্শনের ক্ষেত্রে আমি কিছু বলতে পারবো না। কিন্তু যুবলীগের সভাপতি রেজাউল করিম এ্যাটম একসময়ে নতুন বাংলা ছাত্র সমাজ বরগুনা জেলা শাখা আহ্বায়ক কমিটির সক্রিয় সদস্য ছিলো, এটা সত্য। কতিপয় জেলা আ’লীগের ছত্রছায়ায় সে এসব অসৌজন্যমূলক আচরণ করছে।”