জেলা পরিষদ নির্বাচনেও মুখোমুখি পংকজ ও বিরোধীরা


Barisal Crime Trace -FF প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৫, ২০২২, ১:৫৪ অপরাহ্ণ /
জেলা পরিষদ নির্বাচনেও মুখোমুখি পংকজ ও বিরোধীরা

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল : মেহেন্দীগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে গত বুধবার অনুষ্ঠিত কাউন্সিলর পদের উপনির্বাচনে ছিল ভিন্ন রকম উত্তেজনা। দুই প্রার্থীই ছিলেন আওয়ামী লীগের। তবে তাঁদের পেছন ছিলেন দলটির শীর্ষ তিন নেতা। তাঁরা হলেন- দলের পদ হারানো স্থানীয় সংসদ সদস্য পংকজ নাথ এবং তাঁর বিরোধী পক্ষের শীর্ষ নেতা ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র কামাল উদ্দিন খান। পৌর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচন শেষে এ তিন নেতার পরোক্ষ লড়াই দেখা যাবে জেলা পরিষদ নির্বাচনেও।

সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার পর্যায়ের সব নির্বাচনে বরিশাল-৪ আসনের মেহেন্দীগঞ্জ ও হিজলা উপজেলায় এমপি পংকজ ও তাঁর বিরোধীরা পাল্টাপাল্টি প্রার্থী দেওয়ায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। গত বুধবার অনুষ্ঠিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচনেও এ চিত্র দেখা গেছে। দিন শেষে ৯১ ভোটের ব্যবধানে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন পংকজ সমর্থিত আলী আবদুল্লাহ দোলন। হেরে যান উমায়ের আহমেদ।

নেতাকর্মীর একাংশের সঙ্গে বিরোধের জেরে গত মাসের প্রথম সপ্তাহে দলীয় পদ হারান পংকজ। আগামী সোমবার (১৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হবে জেলা পরিষদ নির্বাচন। সদস্য পদে ওই নির্বাচনেও পংকজ ও বিরোধীদের মধ্যে লড়াই হবে। দুই উপজেলাতেই দুই পক্ষের প্রার্থী রয়েছেন।

পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নবনির্বাচিত কাউন্সিলর আলী আবদুল্লাহ দোলন বলেন, এমপি পংকজ সমর্থক হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে শাহে আলম মুরাদের নেতৃত্বে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মাহফুজ আলম লিটন, পৌর মেয়র কামাল উদ্দিন খানসহ জেলা আওয়ামী লীগ নেতারা প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন। এখন তাঁরা জেলা পরিষদের (সদস্য পদে) প্রার্থীদের নিয়ে মাঠে নেমেছেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র কামাল উদ্দিন খান বলেন, তাঁদের সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী উমায়ের আওয়ামী লীগ বা সহযোগী সংগঠনের কোনো পদে নেই। কিন্তু অপর প্রার্থী পংকজ অনুসারী হওয়ায় তাঁরা তাঁকে নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন।

জানা যায়, সোমবারের জেলা পরিষদ নির্বাচনে মেহেন্দীগঞ্জে সদস্য পদের প্রার্থী পাঁচজন। তাঁদের মধ্যে রাকিব মাহমুদ তালুকদার পংকজ সমর্থিত প্রার্থী। বর্তমান সদস্য জিল্লুর রহমান, মিজানুর রহমান ও মিনু মাস্টারকে সমর্থন করছেন বিরোধীরা। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আছেন ফকরুদ্দিন রাজা। অন্যদিকে হিজলা উপজেলায় পংকজ সমর্থিত প্রার্থী ফখরুল ইসলাম। বিরোধীরা সমর্থন করছেন কাজী কামরুজ্জামান সাইলুকে। উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক পণ্ডিত সাহাবউদ্দিন আহমেদ লড়ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে।

নিজেদের গ্রুপে মেহেন্দীগঞ্জে একাধিক প্রার্থী প্রসঙ্গে কামাল উদ্দিন খান বলেন, তাঁরা একজন প্রার্থী নির্ধারণে সমঝোতার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তবে সে সম্ভাবনা কম।

পংকজ নাথ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জে প্রার্থী মনোনয়নে জেলা আওয়ামী লীগ সব সময় তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা করে অজনপ্রিয়দের প্রার্থী করে। তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে তৃণমূল নেতাকর্মীর সঙ্গে থাকেন। নৌকার প্রার্থী পরাজিত হওয়ায় জেলা আওয়ামী লীগকে দায়ী করেন তিনি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দুই উপজেলা পরিষদ ও ২২টি ইউনিয়নের ১৪টিতে সমর্থিত প্রার্থীকে জয়ী করে তৃণমূলে জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিয়েছেন বলেও দাবি করেন পংকজ নাথ।