বরগুনায় দশ মাস ক্লাসে না গিয়েও বেতন-ভাতা তুলেছেন শিক্ষক!


Barisal Crime Trace -FF প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২০, ২০২২, ২:৪৮ অপরাহ্ণ /
বরগুনায় দশ মাস ক্লাসে না গিয়েও বেতন-ভাতা তুলেছেন শিক্ষক!

স্টাফ রিপোর্টার, বরগুনা : বরগুনার তালতলী উপজেলার কড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ঝাড়াখালী সালেহিয়া দাখিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক মানসুরুল আলমের বিরুদ্ধে ক্লাসে না গিয়েও নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা তোলার অভিযোগ উঠেছে।

ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত একাধিক শিক্ষক ও অভিভাবকরা জানান, শিক্ষক মানসুরুল আলম চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে মাদরাসায় কোনো ক্লাস নেননি। অথচ ভারপ্রাপ্ত সুপার মাওলানা আ. জব্বার শিক্ষক হাজিরা খাতা গোপনে বাড়িতে পাঠিয়ে তার স্বাক্ষর নিয়েছেন। এভাবে তিনি বাড়িতে বসেই স্বাক্ষর করে মাসিক ২০ হাজার টাকা হিসেবে এক বছরে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন।

বিষয়টি জানতে সরেজমিনে মাদরাসায় গেলে সত্যতাও মেলে। হাজিরা খাতায় সেপ্টেম্বর মাসে শিক্ষক মানসুরুল আলমের বিগত দিনের সম্পূর্ণ হাজিরা খালি রয়েছে। এ ছাড়াও খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি বছরের ১৫ জুন কড়াইবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণ হয়। নির্বাচনে তিনি ওই ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা আরও জানান, নির্বাচন চলাকালীন সময়ে মাদরাসা থেকে তিনি ছুটি না নিয়ে নির্বাচন করেছেন। মে ও জুন মাসে নির্বাচনি প্রচারে মাদরাসায় অনুপস্থিত থেকে জুলাই মাসে মেডিকেল সার্টিফিকেট দাখিল করে বেতন-ভাতা তোলেন। সেপ্টেম্বর মাসে হাজিরা খাতায় তার স্বাক্ষর না থাকলেও তিনি কলাপাড়ার একটি বেসরকারি ক্লিনিক থেকে হাতে লেখা একটি মেডিকেল সার্টিফিকেট এনে বিল করিয়ে বেতন নেন। চলতি মাসেও তিনি অনুপস্থিত রয়েছেন।

নাম না প্রকাশে একাধিক শিক্ষক বলেন, মানসুরুল আলম চলতি বছরে কোনো মাসে মাদরাসায় আসেননি। তিনি ভারপ্রাপ্ত সুপারের সঙ্গে গোপনে সখ্যতা তৈরি করে বাড়িতে হাজিরা খাতা পাঠিয়ে স্বাক্ষর করে নিয়ে আসেন।

এ বিষয়ে শিক্ষক মানসুরুল আলমের কাছে জানতে চাইলে মুঠোফোনে তিনি বলেন, নিউজ করেন না। আমি অসুস্থ। অপরদিকে মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মাওলানা আ. জব্বার বলেন, মেডিকেল ফিটনেসের ভিত্তিতে তাকে বেতন-ভাতা দিয়েছি।

মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার লুৎফুল কবির মো. কামরুজ্জামান জানান, মেডিকেল ফিটনেস দিতে হলে সিভিল সার্জনকে মেডিকেল ফিটনেস দিতে হবে। তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম সাদিক তানভীর বলেন, যদি কোনো শিক্ষক অনুপস্থিত থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলন করেন, তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।