ইউক্রেন এখন ‘জলপাই জাতি’


Barisal Crime Trace -FF প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২৪, ২০২২, ১২:২১ অপরাহ্ণ /
ইউক্রেন এখন ‘জলপাই জাতি’

ক্রাইম ট্রেস ডেস্ক :  রুশ আক্রমণের শুরু থেকেই জলপাই রঙের পোশাককে অনুপ্রাণিত করছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। যেখানেই তিনি যান না কেন, জলপাই পোশাকের বাইরে অন্য কোনো রঙে তাকে দেখা যায়নি। আট মাসের যুদ্ধে তারই নেতৃত্ব অনুসরণ করছেন ইউক্রেনীয়রা।

যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে থাকা বেসামরিক লোকেরাও ওই পোশাক কোডকে পরিণত করেছে জাতীয় অস্ত্রে। যে অস্ত্রের নাম ঐক্য। এএফপি। ইউক্রেনের সেনাপ্রধান হিসাবে জেলেনস্কি জাতীয় সামরিক ইউনিফর্ম পরতে পারতেন। কিংবা তিনি পরতে পারতেন অন্য যেকোনো আরামদায়ক বেসামরিক পোশাক।

কিন্তু তা না করে তিনি খাকি জলপাই পোশাকেই তৈরি করেছেন যুদ্ধংদেহী আবহ। যুদ্ধের প্রথমদিন থেকে তিনি পরেছেন জলপাই রঙের টি-শার্ট। একটু ঠান্ডা পড়লেই পরছেন একই রঙের কার্গো ট্রাউজার্স। ফ্যাশন ইতিহাস গবেষক ভোগ ম্যাগাজিনের সাবেক সাংবাদিক তানিয়া সলোভে বলেন, ‘তার পরনের সস্তা স্নিকার্সগুলো সারল্যের ইঙ্গিত।’

সেনাপোশাক পরা ইউক্রেনে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু জেলেনস্কির যুদ্ধকালীন ডিক্রি অনুযায়ী ১৮ থেকে ৬০ বছরের প্রতিটি পুরুষই দেশটির যোদ্ধা। সে কারণে সবুজ রঙের ওই পোশাকে তাদের কোনো বাধা ছিল না। কিন্তু জলপাই রঙের সঙ্গে মিশে থাকা খাকি রঙকেই লুফে নিয়েছে সাধারণ মানুষ। তাদের দৈনন্দিন জীবনের নিত্য রং এখন এই দুই রঙের মিশেল। পুরুষ কি মহিলা, ঠান্ডা কি গরম, অধিকাংশ ইউক্রেনীয়র ব্যবহৃত রং এখন জলপাই। আঙুলের ডগা থেকে ছোট আনুষঙ্গিক পর্যন্ত আপাদমস্তক জলপাইতে সাজেন ফ্যাশনেবল নারীরা। কুরা শহরের ৬২ বছর বয়সি এসভিতলানা খাকি পোশাকে বেরিয়েছেন প্রাতঃভ্রমণে। তিনি বলেন, ‘সময়ের প্রয়োজনে আমরা রংটিকে বেছে নিয়েছি।’

সালোভে বলেন, ‘জলপাই সবসময়ই ইউক্রেনে একটি জনপ্রিয় রং। কিন্তু এখন এটি যুদ্ধে থাকা একটি জাতির জন্য শৈলীর চেয়ে বড় কিছু। চোখের অনুভূতিতে পুরো জাতিকে এক করে দেখা।’ কিয়েভের প্রধান পোস্ট অফিসের সামনে পা থেকে মাথা পর্যন্ত জলপাই রঙে সেজেছেন। ২০১৫ সালে যুদ্ধে তার নিহত ভাই এবং বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা স্বামীর প্রতি সম্মান জানাতে এ রংটিকে গায়ে মেখেছেন। ৪২ বছর বয়সি এ হিসাবরক্ষক বলেন, ‘এটাই একমাত্র রং, যা আমাকে মনে করিয়ে দেয় আমি সুরক্ষিত আছি।’

এ রঙের পোশাক পরা নিয়ে রয়েছে ভিন্ন মতও। ১৫ বছর বয়সি ছাত্র আনাস্তাস্যা গ্রেবিনিচেঙ্কো বলেন, ‘আমি রংটি পছন্দ করি। কিন্তু আমি মানুষকে বিভ্রান্তি এবং সেনাদের অসুবিধা এড়াতে রংটিকে বিশেষভাবে এড়িয়ে যাচ্ছি।’ ইউক্রেনের প্রতিষ্ঠিত ফ্যাশন ডিজাইন কোম্পানি ‘আভিয়েতসিয়া হ্যালিচিনি’।

রাশিয়াকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ঘোষণা করল ইইউ : ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য রাশিয়াকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ঘোষণা করল ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। বুধবার ফ্রান্সের স্ট্রাসবার্গে অবস্থিত ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এই প্রস্তাব পাশ হয়। এতে রাশিয়াকে ‘সন্ত্রাসবাদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক’ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭ জাতি জোটকে তা অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। আইনপ্রণেতাদের ভোটে পাশ হওয়া প্রস্তাবে বলা হযেছে-ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকদের ওপর রাশিয়ার হামলা, নৃশংসতা, বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস এবং মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সমান। এএফপি। এদিকে ইউক্রেনজুড়েই মঙ্গলবার রাতভর তীব্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। রাজধানী কিয়েভ মিকোলাইভ, জাপোরিজঝিয়া, দিনিপ্রোসহ প্রায় সব শহরেই ক্ষেপণাস্ত্র, শেল ছুড়েছে মস্কো। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভ। বিদ্যুৎহীন হয়ে অন্ধকারে ডুবে গেছে পুরো লভিভ শহর।

বুধবার এক বিবৃতিতে মেয়র আন্দ্রি সাডোভি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, পুরো শহর বিদ্যুৎহীন। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটস্কো বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা হয়েছে। বিস্ফোরণের পর লোডশেডিং হয়েছে।

জাপোরিজঝিয়ার এক প্রসূতি ওয়ার্ডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। দফায় দফায় রকেট হামলা চালিয়েছে মিইকোলাইভ অঞ্চলেও। এদিনে জোরালো হামলায় বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে ইউক্রেনের প্রতিবেশী দেশ মলদোভা। দেশটির অবকাঠামো মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ইউক্রেন সীমান্তে মলদোভার বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অন্ধকারে ডুবে যায় পুরো দেশ।