পটুয়াখালীতে খেয়া পারে সংসার চলে ৬২ বছরের আকলিমার


Barisal Crime Trace -FF প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২৫, ২০২২, ৫:৫৪ অপরাহ্ণ /
পটুয়াখালীতে খেয়া পারে সংসার চলে ৬২ বছরের আকলিমার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : ১৮ বছর আগে স্বামীকে হারিয়ে তিন মেয়েকে নিয়ে অথৈই জলে ভাসছিলেন আকলিমা বেগম। স্বামীর অর্থ-সম্পদ না থাকায় তিন বেলা খাবার জোটানোই ছিল দুষ্কর। সে সময় মানুষের সাহায্য কিংবা ভিক্ষাবৃত্তি বেছে না নিয়ে শক্ত হাতে নৌকার বৈঠা নিয়ে নেমে পড়েন খেয়া পারাপারে। আর সেই থেকে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে নৌকায় যাত্রী পারাপার করে জীবন পরিচালনা করছেন ৬২ বছর বয়সী আকলিমা বেগম।

পটুয়াখালী জেলার দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলার সুতাবাড়িয়া নদীতে খেয়ার মাঝি হিসেবে যাত্রী পাড়াপার করেন আকলিমা বেগম। গলাচিপা উপজেলার বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের দোয়ানী গ্রামের মৃত ফুল খাঁ মিয়ার স্ত্রী।

আকলিমা বেগমের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত তিনি যাত্রী পারাপার করেন। মাঝে মাঝে তার বড় ভাই এসে সহযোগিতা করলেও বেশিরভাগ সময় একাই নৌকা পরিচালনা করছেন। এ নদীতে প্রতিদিন শত শত মানুষ পারাপারে পাশাপাশি সাইকেল ও মোটরসাইকেলও পারাপার করেন তিনি। পারাপারে ২-৫ টাকা করে যাত্রীপ্রতি ভাড়া নিয়ে প্রতিদিন ৩০০-৪০০ টাকা আয় হয়ে থাকে তার।

আকলিমা বেগম বলেন, স্বামী মারা গেছে ১৮ বছর। হের পর দিয়া আমি এ নৌকায় মানুষ পারাপার করি। তিনডা মাইয়া বড় করছি বিয়া দিছি। কিন্তু ছোডো মাইয়াডার স্বামী মারা গেছে, হের লগে একটা নাতি আছে। মাইয়া-নাতি আর আমি একসঙ্গে থাহি। আমরা জায়গা জমি কিছু নাই। ঘরের লইগ্যা সরকারের ধারে আবেদন করছেলাম, হে ঘর বোলে চরে চইলা গেছে। তয় মানসের সহযোগিতা করছে, হেইয়া দিয়া একটা ঘড় উডাইছি। হেই হানে থাকি। তয় সরকার আমারে সহযোগিতা করলে কোন একটা ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারতাম। নৌকা চালাইতাম না, এ বয়সে নৌকা চালাইকে কষ্ট হয়।

স্থানীয় মসজিদের ইমাম হাফেজ নজরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে খেয়ায় পার হই। যখন খেয়া পাড় হই তখন খারাপ লাগে। আসলে এভাবেতো চলে না। এ বয়সে এত কষ্ট করছেন। তার মত অসহায় মানুষরা ভিক্ষা করে কিন্তু সে ভিক্ষা না করে এ কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে। সমাজের বিত্তবানরা কিংবা সরকার তার একটি আয়ের পথ তৈরি করলে শেষ বয়সে এ নারী হয়তো একটু শান্তি পেত।

আকলিমা বেগমের মেয়ে জাহানুর বেগম বলেন, আমাগো গ্রামে কোনো কাজ-কাম নাই যে করে খামু, যখন যে কাজ পাই সেটা করি। মানুষের ক্ষেতের ডাইল তুলি, হাঁসমুরগি পালি এগুলো বিক্রি করি খাই, আর কী করমু। মায় এ খেওয়া বাইয়া যে কয় টাহা পায় হে দিয়া চলি।

এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল বলেন, আমি আকলিমা বেগমের কথা আগে থেকেই জানি। তিনি এ বয়সে কষ্ট করছেন। উনি একজন সফল জয়ীতা। এ ধরনের সফল জয়ীতাদের আমরা খুঁজি। আকলিমা বেগমকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা দেওয়া হবে।

পটুয়াখালী জেল পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান বলেন, আপনাদের মাধ্যমে আকলিমা বেগমের বিষয়টি জানতে পারলাম। আকলিমা বেগমের জীবনমান কিভাবে উন্নত করা যায় এবং তার কী ধরনের সহযোগীতা প্রয়োজন সে বিষয়ে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।