বরগুনার বমনায় করোনা সন্দেহে যুবকের মৃত্যু বাড়ীতে ইউএনও’র লাল নিশান

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত এপ্রিল ৬ মঙ্গলবার, ২০২১, ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ
বরগুনার বমনায় করোনা সন্দেহে যুবকের মৃত্যু বাড়ীতে ইউএনও’র লাল নিশান

রাসেল চৌধুরী,বামনা(বরগুনা) প্রতিনিধিঃ বরগুনার বামনায় করোনা সন্দেহে এক যুবকের মৃত্যু ঘটেছে। তবে পরিবারের দাবী সে ডায়েরিয়ায় মারা গেছেন। এদিকে বামনা উপজেলা প্রশাসন ওই বাড়িতে লাল নিশান টানিয়ে বাড়িটি সম্পূর্ন লকডাউন ঘোষনা করেছেন।

 

মারা যাওয়া ওই যুবক উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রামের মৎস্য ব্যবসায়ি নুরুল ইসলামের ছেলে মো. সবুজ(২৫)। বাড়িটিতে লাল নিশান টানিয়ে লকডাউন ঘোষনা করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বজন, প্রতিবেশী ও ওই বাড়িটির লোকজন।

 

আজ মঙ্গলবার(৬ এপ্রিল) সকাল ৭টার দিকে ওই যুবকের পাতলা পায়খানা বৃদ্ধি পেলে তাকে বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভার্তি করানো হয়। পরে সেখানে তিনি সকাল ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

 

এদিকে ওই যুবকের মৃত্যু সংবাদ বামনায় ছড়িয়ে পরলে করোনা উপস্বর্গে সে মারা গেছেন এমন সন্দেহের কারনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিবেক সরকারের নির্দেশে বাড়িটিতে ঢোকার মুখে লাল নিশান টানিয়ে দেওয়া হয়।

কেবল মাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে একটি বাড়ি লকডাউন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মরহুমের বাবা নুরুল ইসলাম ও বাড়িটির আশেপাশে থাকা প্রতিবেশীরা। মারা যাওয়া যুবকের বাবা নুরুল ইসলাম বলেন, গতকাল রাতে আমার ছেলে সবুজ তার শ্বশুরবাড়িতে যায়।

 

সেখানে সে রাতে প্রচুর পরিমানে হাঁসের ও গরুর মাংস দিয়ে খেয়ে বাড়িতে আসে। রাতে বহুবার সে পাতলাপায়খানা ও বমি করে। আজ মঙ্গলবার সকালে হওয়ার সাথে থাকে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করি ।

 

হাসপাতালে ডায়েরিয়ার স্যালাইন চালু অবস্থায় ৯ টার দিকে সে মারা যায়। আমার ছেলের করোনার কোন উপস্বর্গ ছিলো না সে ডায়েরিয়ায় মারা গেছে। ছেলের মৃত্যুর পরে করোনা হয়েছে এমন সন্দেহের কারনে তার নমুনা নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে আমার ক্ষোভ হলো পরীক্ষার ফলাফল আসার আগেই কেন আমার বাড়িটি লকডাউন করা হলো? করোনা পজেটিভ হওয়ার পরে প্রশাসন বাড়িটি লকডাউন করতো।

 

এদিকে বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ওই যুবককে সকালে পাতলাপায়খানা, বমি ও বুকে ব্যথার কারনে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সে চিকিৎসাধিন অবস্থায় মারা যায়। বুকে ব্যাথা থাকায় আমরা তার নমুনা সংগ্রহ করে বরগুনায় পাঠাই। পরে উপজেলা প্রশাসন বাড়িটি লকডাউন করে। তবে আমারা স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় থেকে এখন পর্যন্ত সনাক্তের পূর্বে বাড়ি লকডাউন করতে হবে এমন কোন প্রজ্ঞাপন পায়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিবেক সরকার বলেন, করোনা উপস্বর্গ থাকার কারনে আমরা বাড়িটি লকডাউন করার নির্দেশ দিয়েছি। পরীক্ষায় নেগেটিভ হলে লকডাউন তোলা হবে।

 




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]