বরিশালে রোগীর মৃত্যুর ৩ মাস পর অভিযোগ আমলে নিলেন সিভিল সার্জন


Barisal Crime Trace -FF প্রকাশের সময় : জানুয়ারি ১৩, ২০২৩, ৬:০৬ অপরাহ্ণ /
বরিশালে রোগীর মৃত্যুর ৩ মাস পর অভিযোগ আমলে নিলেন সিভিল সার্জন

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল : ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভুল রিপোর্টে রোগী মারা যাওয়ার প্রায় তিন মাস পর অভিযোগ আমলে নিয়েছেন বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। তবে একই অভিযোগ জেলা প্রশাসনে দায়ের করলে তাদের সুপারিশ গ্রহণ করে প্রায় তিন মাসের ব্যবধানে গতকাল বৃহস্পতিবার (১২ জানুয়ারি) তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

অভিযোগকারী মরিয়ম বেগম বলেন, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সংলগ্ন ‘সাইন্স ল্যাব মাল্টি স্পেশালিস্ট হেলথ কেয়ারে’ ২০২২ সালের ১০ অক্টোবর আমার মায়ের শারীরিক পরীক্ষা করানো হয়। তারা ৭ পৃষ্ঠায় সম্পূর্ণরূপে মনগড়া রিপোর্ট দেন। এতে আমার মায়ের শারীরি0ক অবস্থার সঠিক পরিস্থিতি সর্ম্পকে জানতে পারিনি। ওই রিপোর্ট দেখে চিকিৎসক ওষুধ দিলে ভুল চিকিৎসার শিকার হই। পরে হাসপাতালের চিকিৎসকের পরামর্শে অন্য একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করালে ‘সাইন্স ল্যাব মাল্টি স্পেশালিস্ট হেলথ কেয়ারের’ রিপোর্ট ভুল ছিল বলে প্রমাণ হয়। ততদিনে আমার মা সংকটাপন্ন অবস্থায় চলে যান এবং ভুল রিপোর্টে সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় মারা যান আমার মা।

তিনি আরও বলেন, সাইন্স ল্যাব মাল্টি স্পেশালিস্ট হেলথ কেয়ার ভুল রিপোর্ট দেওয়ার বিষয়টি আমাদের চোখে ধরা পড়ার পরই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেই। তারা তা আমলে নেননি। এরপর ২০ অক্টোবর জেলা সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেই। সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে অভিযোগ রিসিভ করে রাখলেও আমলে নেয়নি। শেষে জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেই। জেলা প্রশাসন অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য সিভিল সার্জনকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে ১১ জানুয়ারি আমাকে তদন্ত শুরুর বিষয়টি জানায়।

মরিয়ম বেগম বলেন, তদন্ত কমিটি আমার কাছে জানতে চেয়েছিল কেন আমি সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত দেইনি। তখন আমি প্রমাণ দেখাই। এতে তদন্ত কমিটির প্রধান ডেপুটি সিভিল সার্জন অবাক হয়ে যান। তিনি প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছে জানতে চান, কেন তিন মাসেও অভিযোগটি তাদের কাছে দেওয়া হয়নি। প্রশাসনিক কর্মকর্তা এর কোনো সুদত্তর দিতে পারেননি। এমনকি আমার অভিযোগটি সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে গায়েব করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভুল রিপোর্টে আমার মাকে চিরদিনের জন্য হারিয়েছি। তার বিচার চাইতে যাওয়ায় সিভিল সার্জন অভিযোগই আমলে নেননি। জেলা প্রশাসন যদি অভিযোগ আমলে না নিত তাহলে হয়তো কোনেআ তদন্তই হতো না। এভাবে যদি সিভিল সার্জন আচরণ করেন তাহলে আমরা কোথায় যাব?

সিভিল সার্জনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, একই ব্যক্তি সিভিল সার্জন অফিসে এবং জেলা প্রশাসনে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। আমাদের কাছে (সিভিল সার্জন) যে অভিযোগটি দিয়েছেন সেটি কার কাছে রয়েছে তা খুঁজতে হবে। প্রায় তিন মাসেও কেন অভিযোগটি সিভিল সার্জনের টেবিলে পৌঁছেনি জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং প্রতিবেদকের সঙ্গে দেখা করতে চান।

ওদিকে তদন্ত কমিটির প্রধান ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. সব্যসাচী দাস বলেছেন, আমরা তদন্ত শুরু করেছি। কিন্তু অভিযোগকারী আমাকে দেখিয়েছেন ২০২২ সালের অক্টোবরে সিভিল সার্জন অফিসে তিনি এই প্রসঙ্গে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেই অভিযোগটি প্রায় তিন মাসেও কেন আমি বা সিভিল সার্জন মহোদয়ের কাছে পৌঁছেনি তা তদন্ত করে দেখা হবে। এটি দুঃখজনক ব্যাপার।

এই কর্মকর্তা বলেন, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভুল রিপোর্টের প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. মারিয়া হাসান জানান, অভিযোগ দেওয়ার পরও তা আমলে নেওয়া হয়নি- বিষয়টি আমার বোধগম্য হচ্ছে না। তারপরও আমি খতিয়ে দেখবো আসলে কেন এমন অভিযোগ উঠেছে। প্রসঙ্গত, ভুল রিপোর্ট প্রদান প্রসঙ্গে ২০২২ সালের ১৮ অক্টোবর সাইন্স ল্যাব ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সূত্র: ঢাকা পোস্ট