ঝালকাঠিতে সবজি চাষে বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি


Barisal Crime Trace -FF প্রকাশের সময় : জানুয়ারি ১৫, ২০২৩, ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ /
ঝালকাঠিতে সবজি চাষে বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

রিয়াজুল ইসলাম বাচ্চু, ঝালকাঠি : ঝালকাঠিতে শীতকালীন শাক-সবজির আবাদে ভরে গেছে কৃষকের মাঠ। সকাল সন্ধ্যা পরিচর্যা আর বিকিনিতে ব্যস্ত কৃষক। মৌসুমী এ সবজি আবাদে বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষক। লাউ-কুমড়া, শালগোম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, লালশাকসহ সবধরনের শীতের শাক-সবজির সমাহার এখন কৃষকের মাঠ জুড়ে।

ঝালকাঠি জেলার সীমান্তবর্তী পোষন্ডা, কাফুরকাঠি, শাখাগাছি, ভীমরুলি, বিনয়কাঠি, বাউকাঠিসহ কমপক্ষে ২৫ গ্রামের চিত্র এখন এমনই। মাচা ঝুলে পড়েছে লাউ-কিংবা মিষ্টি কুমড়োর ভারে। সবধরনের শীতের সবজিই উৎপাদন করেন জেলার অসংখ্য চাষিরা।

পুরুষের পাশাপাশি ক্ষেতে কাজ করছেন নারীরাও। ফলে আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে শীতের এ মৌসুম জুড়ে আর্থিকভাবে ভাল থাকছেন কৃষক পরিবার। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থার আরও উন্নতি এবং সার ও কীটনাশকের দাম কমলে স্বচ্ছলতার মুখ দেখতে পারেন বলে কৃষকরা জানান।

এবছর এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় শীতের এ শাক-সবজি আবাদে বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষক। বাজারে দামও পাচ্ছেন ভাল।
ডুমুরিয়া গ্রামের মিন্টু মন্ডল জানান, “আমরা বহু বছর যাবত কৃষি কাজ করে আসছি। কৃষি কাজ করে মোটামুটিভাবে জীবনযাপন করছি। কিন্তু উৎপাদিত কৃষির ন্যায্য মূল্য আমরা পাই না। সার ঔষধের দাম আরো কমানো দরকার। লেবার মজুরি যেহারে বেড়েছে কৃষি পণ্যের দাম সেভাবে বাড়ে নাই।ফলে কৃষি কাজের খরচ অনুপাতে আয় হয় না। ”

রমজানকাঠি গ্রামের কৃষক সেলিম হাওলাদার জানান, ঝালকাঠি পিরোজপুর সীমান্তে কাফুরকাঠি ও পেষন্ডা গ্রামে আমরা চাষাবাদ করছি। আমরা প্রান্তিক চাষীরা ফসলের ন্যায্য মূল্য পাই না। কিন্তু মধ্যসত্ত্বভোগীরা আমাদের নিকট থেকে কমদামে পন্য কিনে ভোক্তার নিকট চড়া দামে বিক্রি করে। ফলে উৎপাদনকারী কৃষকরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়।

সরকার এব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহন করলে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা সুবিধা পাবে। রমজানকাঠি কারিগরি ও কৃষি কলেজের কৃষি শাখার বিভাগীয় প্রধান কৃষিবিদ ড. চিত্ত রঞ্জন সরকার জানান, “ ঝালকাঠি, স্বরুপকাঠি ও বানারীপাড়া উপজেলার শতাধিক গ্রামের বাসিন্দা সম্পূর্ণ কৃষি নির্ভর। এখানকার শতকরা ৯৮ ভাগ মানুষ কৃষিজীবি। নারী পুরুষ মিলে কৃষি কাজ করে জীবিকা ধারণ করেন।

কিন্তু উন্নত কৃষি প্রযুক্তির ছোঁয়া এ অঞ্চলে এখনও লাগেনি। শত শত বছরের পুরানো পদ্ধতিতে এখনও কৃষি কাজ করা হয়ে থাকে।এছাড়া এসব এলাকার কৃষকদের কৃষি শিক্ষারও ঘাটতি রয়েছে। রোগ বালাই প্রতিরোধ, সার ঔষধ ব্যবহার ও কৃষি চাষ পদ্ধতির সঠিক জ্ঞানের অভাব রয়েছে কৃষকদের মধ্যে। তাই ভালো ও অধিক ফসল পেতে হলে কৃষি শিক্ষা ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে কৃষি পন্য বিদেশেও রপ্তানী করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যাবে।”

ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মনিরুল ইসলাম জানায়, “বাজারে এখন শীতের সবজির দাম থাকায় লাভবান হচ্ছেন তারা। পতিত জমিতে চাষ বাড়ানোর জন্য কৃষি বিভাগ পরার্মশসহ নানা ভাবে কৃষকদের উদ্বুগ্ধ করে যাচ্ছে। এবছর ঝালকাঠি জেলায় ৮ হাজার ২শত ৬৫ হেক্টর জমিতে শীতের শাখ-সবজির আবাদ হয়েছে।”