বরগুনার ফসলি জমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়, বিপর্যয়ের মুখে কৃষি উৎপাদন


Barisal Crime Trace -FF প্রকাশের সময় : জানুয়ারি ১৬, ২০২৩, ১:০৩ অপরাহ্ণ /
বরগুনার ফসলি জমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়, বিপর্যয়ের মুখে কৃষি উৎপাদন

আমতলী প্রতিনিধি : বরগুনার আমতলী উপজেলার ফসলি জমির উর্বর মাটি যাচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। একশ্রেণীর দালাল কৃষকদের ইটভাটায় মাটি বিক্রি করতে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি দেদারসে বিক্রি করতে বাধ্য করছে। দিন দিন জমি কমে যাওয়ায় হুমকিতে পড়েছে কৃষির আবাদ। কৃষিবিদরা বলেছেন, দ্রুত মাটি কাটা বন্ধ না হলে কৃষি উৎপাদন বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উপজেলার গুলিশাখালী, আঠারগাছিয়া, কুকুয়া, হলদিয়া, চাওড়া ও আমতলী সদর ইউনিয়নে ঝিকঝ্যাঁক এবং ড্রামচিমনি পদ্ধতির ২০টির মত ইটভাটা রয়েছে। ওই সকল ইটভাটায় বছরে কয়েক কোটি ইট তৈরি হয়। ইট তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় মাটি ভাটার মালিকরা একশ্রেণীর দালালদের মাধ্যমে কৃষকদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তাদের ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে বিভিন্ন ভাটায় নিয়ে যাচ্ছে।

আবার অনেক কৃষক ইটভাটাতে মাটি বিক্রির জন্য কৃষি জমি কেটে বড় বড় পুকুরও খনন করেছেন। এর ফলে হাজার হাজার একর কৃষি জমির উর্বরতা হারাচ্ছে। ফসলি জমির মালিকরা না বুঝে দালালদের খপ্পরে পড়ে তাদের ফসলি জমির এক হাজার মাটি এক হাজার টাকায় বিক্রি করে দিচ্ছেন। ভেকু মেশিন দিয়ে অনেক গভীর করে মাটি উত্তোলন করে ইট প্রস্তুত করার জন্য নিয়ে যাচ্ছেন। আবার অনেক কৃষক মাছের চাষ করতে ঘের (বড় পুকুর) করার নামে ভাটার মালিকদের কাছে নামমাত্র মূল্যে মাটি বিক্রি করে দিচ্ছেন।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৩ মাটির ব্যবহার হ্রাসকরণ নিয়ন্ত্রণ আইনে উল্লেখ আছে, ইট প্রস্তুতের জন্য ইটভাটার মালিকরা কৃষি জমি, পাহাড় বা টিলা থেকে মাটি কেটে বা সংগ্রহ করে ইটের কাঁচামাল হিসেবে তা ব্যবহার করতে পারবে না। যদি কোনো ব্যক্তি ওই আইনের ৫ এ উপধারা (১) এ বিধান লঙ্ঘন করে ইটভাটা প্রস্তুত করার উদ্দেশ্যে কৃষি জমি বা পাহাড় বা টিলা থেকে মাটি কেটে বা সংগ্রহ করে ইটের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করেন তাহলে তিনি অনধিক ২ (দুই) বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। ইটভাটার মালিকরা ওই আইনের তোয়াক্কা না করে ফসলি কৃষি জমি থেকে দেদারসে মাটি কেটে তা সংগ্রহ করে ইটভাটার কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করছেন।

সরেজমিনে উপজেলার চুনাখালী, রায়বালা, ফকিরবাড়ী, বান্দ্রা, ছোট নীলগঞ্জ, খলিয়ান, ঘটখালী, কালিবাড়ী, হলদিয়া, তালুকদার বাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভেকু মেশিন দিয়ে ফসলি জমির মাটি কেটে ট্রলি গাড়িতে বোঝাই করে বিভিন্ন ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

আমতলী সদর ইউনিয়নের বান্দ্রা এলাকার কৃষক সফিকুল ইসলাম বলেন, কিছু দালালদের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রলোভনে ভাটা মালিকরা এ এলাকার কয়েক শ একর কৃষি জমির উপরি অংশের উর্বর মাটি কেটে স্থানীয় কয়েকটি ইটভাটায় নিয়ে যাচ্ছে। এতে ফসলি জমির অনেক ক্ষতি হচ্ছে।

রায়বালা হাজার টাকা বাঁধ এলাকার বৃদ্ধ কৃষক সোলায়মান মিয়া জানান “মোগো এলাকায় অনেক মানু হ্যাগো জমির মাটি বেইচ্ছা হালাইছে, কেউ সরল জমি কাইট্টা পুহুইর বানাইছে, মুই মোর জমি’র মাডি কাইটা সর্বনাশ হরমুনা”।

আমতলী উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সিএম রেজাউল করিম বলেন, সকল কৃষি জমির মাটির ৬ ইঞ্চি উপরিভাগে উর্বরতার বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান রয়েছে। ওই মাটি কাটা হলে ফসলি জমি উর্বরতা হারাবে। এতে ফসল আবাদে বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিতে পারে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আলম মুঠোফোনে বলেন, ফসলি জমি কেটে উর্বর মাটি ইটভাটায় বিক্রি ফসল উৎপাদনের জন্য হুমকি। জমির মালিকরা না বুঝেই তাদের কৃষি জমির উর্বর মাটি বিক্রি করছে। ফসলি জমি রক্ষায় প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ইটভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।