আমতলীতে ইট ভাটার পাশে ৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য ঝুঁকি


Barisal Crime Trace -FF প্রকাশের সময় : জানুয়ারি ১৮, ২০২৩, ১২:৩৩ অপরাহ্ণ /
আমতলীতে ইট ভাটার পাশে ৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য ঝুঁকি

বরগুনা প্রতিনিধি : ইটভাটার প্রায় আধা কিলোমিটারের মধ্যে ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। চলতি মৌসুমে ভাটাটিতে ইট পোড়ানো শুরু হয়েছে। এতে কালো ধোঁয়া ও ধুলাবালুতে এসব প্রতিষ্ঠানে পাঠদানের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। চোখ জ্বালাপোড়া, চোখ দিয়ে পানি পড়া, শ্বাসকষ্টসহ নানা সমস্যায় পড়ছে শিক্ষার্থীরা। স্থানীয় বাসিন্দারাও নানা অসুখে আক্রান্ত হচ্ছে।

মেসার্স ইসলাম অ্যান্ড সন্স ব্রিকস নামের ভাটাটির অবস্থান বরগুনার আমতলীর গুলিশাখালী ইউনিয়নের কালীবাড়ি এলাকায়। ভাটাটির মালিক এ আর রফিকুল ইসলাম। এটি ভাড়া নিয়ে ইট তৈরি করছেন আমতলী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও আমতলী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) ২০১৯ অনুযায়ী, বিশেষ কোন স্থাপনা, রেলপথ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও ক্লিনিক, গবেষণা প্রতিষ্ঠান কিংবা অনুরূপ কোনো স্থান বা প্রতিষ্ঠান থেকে কমপক্ষে এক কিলোমিটার দূরে ইটভাটা স্থাপন করতে হবে। কিন্তু ইসলাম অ্যান্ড সন্স ব্রিকসে এই আইনের লঙ্ঘন করা হয়েছে। এ ছাড়া এই ভাটার হালনাগাদ পরিবেশ ছাড়পত্রও নেই। ২০১২ সালে ভাটাটি স্থাপন করা হয়। তিন-চার বছর ধরে ভাটা ভাড়া নিয়ে ইট তৈরি করছেন মজিবুর রহমান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাটাটির উত্তর পাশে ২৫০ মিটার দূরে কালীবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ পাশে ৩৯৬ মিটার দূরে আবু বকর সিদ্দিকী ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও ৫০০ মিটার দূরে গোচখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ ছাড়া ভাটার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ৮০০ মিটার দূরে চুনাখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চুনাখালী বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চুনাখালী নুরানি হাফিজি ও কওমি মাদ্রাসা।

পরিবেশ অধিদপ্তরে বরিশাল বিভাগের পরিচালক আবদুল হালিম বলেন, মেসার্স ইসলাম অ্যান্ড সন্স ব্রিকসের পরিবেশ ছাড়পত্রের নবায়ন নেই। আইন অনুযায়ী ভাটাটি অবৈধ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন করা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সম্পর্কে মজিবর রহমান বলেন, ‘মালিকের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে আমি ভাটাটি চালাচ্ছি। ভাটার পাশে কোনো স্কুল নেই। যেগুলো আছে, অনেক বাইরে। আমাদের ব্রিকস ফিল্ড ভালো আছে।’

ভাটার ব্যবস্থাপক সুলতান বয়াতি বলেন, ‘যে সময় ভাটা বন্ধ করা হয়, তখন গন্ধ আসে। তখন সমস্যা হয়। তবে আমরা ম্যানেজ করে চালাচ্ছি।’ কালীবাড়ি এলাকার বাসিন্দা সালাম কাজী বলেন, ইট পোড়ানোর ধোঁয়ায় তাঁদের শ্বাসকষ্ট হয়। ধোঁয়ায় ধান ও সবজিখেত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁরা যে প্রতিবাদ করবেন, তার কোনো উপায় নেই। এটা আওয়ামী লীগের নেতারা চালান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে চুনাখালী বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, ভাটাটির কারণে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হচ্ছে। বিদ্যালয়ের পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে। ভাটার কালো ধোঁয়ার কারণে বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সব ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে যদি ভাটা থাকে, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’