উচ্ছেদ আতংকে কলাপাড়ার অর্ধশত অসহায় ভূমিহীন পরিবার


Barisal Crime Trace -FF প্রকাশের সময় : জানুয়ারি ২৪, ২০২৩, ১২:১২ অপরাহ্ণ /
উচ্ছেদ আতংকে কলাপাড়ার অর্ধশত অসহায় ভূমিহীন পরিবার

এস এম আলমগীর হোসেন, কলাপাড়া : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অর্ধশত বছর ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় বসবাসরত ভূমিহীন অসহায় পরিবারগুলো উচ্ছেদ আতংকে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দশ দিনের উচ্ছেদ নোটিশে বসবাস করার আশ্রয়স্থলটুকু হারাতে হচ্ছে। সহায় সম্ভলহীন অসহায় এ মানুষগুলো এখন যাবে কোথায়।

অথচ পানি উন্নয়ন বোর্ড তাদের জায়গা দখল ও উচ্ছেদের বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে। তাই পানি উন্নয়ন বোর্ডের উচ্ছেদ নোটিশের প্রতিবাদে বুধবার বিকালে উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের নাচনাপাড়া বেড়িবাঁধের পাশে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন ভুক্তভোগীরা। মানবন্ধনে তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবিক হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

জানা যায়, উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের নাচনাপাড়া গ্রামের বেড়িবাধের পাশে ছোট্ট কুটির ঘরে দীর্ঘ প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে বংশ পরাম্পরায় সন্তানাদি নিয়ে বসবাস করে আসছে সেখানকার খেটে খাওয়া দিনমজুর মানুষগুলো। এতগুলো বছর কেটে গেলেও হয়নি কোন সমস্যা। কত সরকার এলো গেলো কেউ কখনও তাদের উচ্ছেদের বিষয়ে আঙ্গুল তুলেনি। অথচ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারিদের চক্ষুশুল্ম হয়েছে অসহায় মানুষগুলোর বসবাসের এ জায়গাটুকুতে।

অভিযোগ উঠেছে পাশেই একটি ইট ভাটার ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিতে আকশ্মিক ও তড়িগড়ি এ নোটিশ। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ২০২৩ সালে ১০ জানুয়ারী ৪৩/১ বি পোল্ডারে বেড়িবাধের পাশে বসবাসরত প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবারকে উচ্ছেদের নোটিশ দিয়েছে। এরমধ্যে রাজু গোলদার, লতিফ গাজী, মনির ডাক্তার, মিলন হাওলাদার, বাহাদুর, জবিউল, পনির, গৌরঙ্গ বাবু, বশির মাষ্টার, মনির মাওলানা, আলমগীর হওলাদার ও সোবাহান হাওলাদারের পরিবারসহ কয়েকটি পরিবারকে দশদিনের উচ্ছেদের নোটিশ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া প্রায় ৪০ থেকে ৫০ টি পরিবারকে ক্রোস চিহ্ন দিয়ে উচ্ছেদের সংকেত দেয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রয়োজনে আমরা জায়গা ছাড়তে বাধ্য। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলে অবৈধ অর্থের লোভে আমাদের উচ্ছেদ করে অন্য কিছু লোকদের সুবিধা পাইয়ে দেয়ার পায়তারা চালাচ্ছে।

ভুক্তোভোগী সত্তোরর্ধ আব্দুল মজিদ বলেন, আজ থেকে প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে আমিই প্রথম এ জায়গায় বসতি শুরু করি। পরবর্তীতে অনেকগুলো পরিবার একত্রিত হয়ে দীর্ঘ এতগুলো বছর পার করেছি। এ পর্যন্ত কোন সমস্যা হয়নি। হঠাৎ দশদিনের নোটিশে আমাদের উচ্ছেদ করতে চাচ্ছে। আমরা এখন কোথায় গিয়ে দাঁড়াবো।

অপর এক ভুক্তোভোগী সাফিয়া বেগম বলেন, আমরা শুনেছি পাশের একটি ইট ভাটাকে অবৈধ সুবিধা দেয়ার জন্য আমাদের উচ্ছেদ করতে চাচ্ছে। আমরা স্থানীয় এমপি মহোদয় ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সু-দৃষ্টি কামনা করছি।

টিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাহামুদুল হাসান সুজন মোল্লা বলেন, ওটা পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা। তাদের প্রয়োজনে জায়গার দখল নিতে পারে। তবে, ওখানকার মানুষগুলো খুবই অসহায়, তাদের উচ্ছেদ করে অন্য কাউকে সুবিধা দিতে চাইলে সেটা কোনভাবেই মেনে নেয়া যাবে না। মানবিক কারনে অসহায় মানুষগুলো যাতে ওখানে বসবাস করতে পারে সেজন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে সদয় হওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কলাপাড়া নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফ হোসেন বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রয়োজনে ওই জায়গার অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হবে। তাদের বসবাসের সমস্যা হলে তারা সরকারী খাস জায়গায় যেতে পারে।