বরিশালে ইউএনওর বিরুদ্ধে নোটিশ না দিয়েই বীর মুক্তিযোদ্ধার স্থাপনা উচ্ছেদ


Barisal Crime Trace -GF প্রকাশের সময় : জানুয়ারি ২৫, ২০২৩, ১২:৩০ অপরাহ্ণ /
বরিশালে ইউএনওর বিরুদ্ধে নোটিশ না দিয়েই বীর মুক্তিযোদ্ধার স্থাপনা উচ্ছেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় নোটিশ না দিয়েই বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়ির বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ করে নালা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। বাধা দিতে গেলে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে আটকে রেখে মারধর ও ছাদ থেকে ফেলে দেয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিনা অপরাধে তাদের দুই ছেলেকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

 

 

মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হালিম।

 

 

 

 

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ফসলি জমিতে পানি সেচের জন্য নালা তৈরি করতে নোটিশ না দিয়েই সোমবার আমার বাড়িতে উচ্ছেদে যায় বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। এ সময় আমার বসতবাড়ির উঠানে থাকা মুরগির খামার, গাছপালা ও গভীর নলকূপ উপড়ে ফেলে তারা। উচ্ছেদের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও নুসরাত ফাতিমা ক্ষেপে যান। কোনো কথা বললে ধরে নিয়ে যাওয়ারও হুমকি দেন।

 

 

 

আবদুল হালিম আরও বলেন, ইউপি সদস্য মোসলে উদ্দিনের বিরোধিতা করায় আমার বাড়ির ওপর থেকে ফসলি জমির জন্য পানি নিষ্কাশনের নালা নির্মাণ করাচ্ছেন। আমার কেনা এবং পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ৪২ শতক জমির ওপর পাঁচ বছর আগে বাড়ি করি। আমার বসতবাড়ির পাশে অব্যবহৃত অনেক জমি পড়ে আছে। কিন্তু সেখানে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করে ইউপি সদস্যের ইন্ধনে আমা উঠান নষ্ট করে করে নালা নির্মাণ করা হচ্ছে। আমি এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছি।

 

 

 

 

বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ‘প্রশাসন আমার পুরো পরিবার ধরে নিয়ে গেছে। আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য চাই। বিনা কারণে আমার ২০ লাখ টাকার সম্পদ নষ্ট করেছে। আমার ছেলেদের সাজা দিয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে হয়রানি করার বিচার চাই।’

 

 

 

হালিমের স্ত্রী বলেন, ‘ইউএনও এসেই আমাকে ধরে ছাদে নিয়ে ফেলে দেয়ার হুমকি দেন। তার কথার প্রতিবাদ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার গালে থাপ্পড় মারেন। শুধু বসতভিটা ভাঙচুর নয়, মিথ্যা অভিযোগ এনে আমার তিন ছেলেকে আটক করেন তারা। সবার অনুরোধে এক ছেলেকে ছেড়ে দেয়। বাকি দুজনকে তিন মাসের সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠায়।

 

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও নুসরাত ফাতিমা বলেন, ‘চাঁদপাশা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের আরজী কালিকাপুর গ্রামের আনুমানিক ৪৫ একর ফসলি জমিতে ৩০ জন কৃষক পরিবার ৬০-৭০ বছর ধরে চাষাবাদ করে আসছেন। ওই ফসলি মাঠের আবদ্ধ পানি সাবেক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হালিমের বাড়ির পাশের একটি নালা দিয়ে বছরের পর বছর ধরে নিষ্কাশিত হতো। কিন্তু সেই নালা ভরাট করে ফেলায় ফসলি মাঠের আবাদি জমি জলাবদ্ধ হয়ে চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সেই জমিতে চাষাবাদ করতে না পেরে ৩০টি কৃষক পরিবার লিখিত অভিযোগ দেয়।’

 

ইউএনও আরও বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী (নির্মাণ), উপ সহকারী প্রকৌশলী, স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং ভরাটকারী পরিবার ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নালাটি উদ্ধারের সিদ্ধান্ত হয়। নিয়মানুযায়ী জনস্বার্থে নালাটি উদ্ধারে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে উদ্ধার কাজ শুরু করলে আবদুল হালিমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বহিরাগত কিছু লোক বাধা দেয়। খবর পেয়ে আমরা পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে তারা আমাদের ওপরও হামলার চেষ্টা চালায়। দলবদ্ধ লোকজন ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চকোলেট বোমার বিস্ফোরণও ঘটায়। এ সময় সেখান থেকে তিনজনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নাইম হাসান ও মাইনুল ইসলামকে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 

 

ইউএনও বলেন, ফসলি জমি ও খালের সঙ্গে সংযোগস্থলের গুরুত্ব থাকায় নালাটি যেখানে ছিল সেখানেই রাখা হয়েছে। এখানে বিভিন্ন ধরনের জমি আছে, তবে জনস্বার্থে এ কাজটি নিয়ম মেনেই করা হয়েছে। আর বাধা প্রদানকারীরা বিকল্প কোনো পথের কথা বলেনি। আমরা ক্ষতিপূরণও পাইয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলাম, তাতে তারা রাজি হননি।