বরগুনায় ডাকাত আতঙ্কে রাত জেগে পাহারা


Barisal Crime Trace -FF প্রকাশের সময় : জানুয়ারি ২৫, ২০২৩, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ /
বরগুনায় ডাকাত আতঙ্কে রাত জেগে পাহারা

বরগুনা প্রতিনিধি : বরগুনার আমতলী ও তালতলী উপজেলার কয়েকটি এলাকায় ডাকাত আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ডাকাত থেকে রক্ষায় রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন স্থানীয়রা। পুলিশ প্রশাসনের দাবি, এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

গত মঙ্গলবার রাতে জেলার তালতলী উপজেলার পঁচাকোড়ালীয়া, পঁচাকোড়ালীয়া স্লুইসগেট বাজার, চান্দখালী, কলারং, কচুপাত্রা, বড়পাড়া এবং আমতলী উপজেলার চরকগাছিয়া, তারিকাটা, ঘোপখালীসহ বেশ কিছু এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, দেশীয় অস্ত্র ও লাঠি নিয়ে দলবদ্ধভাবে পাহারা দিচ্ছেন গ্রামবাসী। মাইকিং করে সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। রাত ১০টার পরে সব যানবাহনে তল্লাশি করা হচ্ছে। পাহারায় রয়েছেন স্থানীয় শ্রমজীবী থেকে শুরু করে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ।

তালতলী উপজেলার পঁচাকোড়ালীয়া মধ্যবাজারের মো. জাকির হোসেন জানান, গত ২০ জানুয়ারি রাত ২টার দিকে ৭-৮ জন ডাকাত পার্শ্ববর্তী আমতলী উপজেলার চরকগাছিয়া থেকে খালপাড় হয়ে বাজারে ঢুকে। এ সময় চিৎকার করতে থাকলে ডাকাতরা চলে যায়।

একই এলাকার মো. হারুন সরদার বলেন, গত ১৫ দিনে আমতলী উপজেলার তারিকাটা, পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার চাঁকামইয়া ও তালতলী উপজেলার শারিকখালী গ্রামে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ কারণে তাদের জানমালের নিরাপত্তা দিতে গ্রামবাসী পাহারার ব্যবস্থা করেছেন।

তালতলী উপজেলার চান্দখালী গ্রামের মো. জাকির তালুকদার বলেন, ‘আমাদের সারাদিন কাজ করে আবার রাতে পাহারা দিতে হচ্ছে, যা খুবই কষ্টকর।’

একই এলাকার মো. জহিরুল বলেন, পঁচাকোড়ালীয়া মধ্যবাজার থেকে তালতলী থানার দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। কোনো ঘটনা ঘটলে পুলিশ আসার আগে অপরাধীরা পালিয়ে যেতে পারে। তাই এ এলাকায় অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের দাবি তাঁর।

আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সোহেলী পারভীন মালা জানান, গত ১৬ জানুয়ারি রাতে ওই ইউনিয়নের তারিকাটা গ্রামের মনির মোল্লার ঘরে ডাকাতরা হামলা করে নগদ টাকাসহ স্বর্ণের জিনিসপত্র নিয়ে যায়। চাঁকামইয়া গ্রামে হামলা চালিয়ে মানুষকে আহত করে নগদ টাকাসহ জিনিসপত্র নিয়ে যায়। এসব ঘটনার পর থেকে পরিষদের মেম্বার, চৌকিদারসহ স্থানীয়দের সমন্বয়ে পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। চোর-ডাকাত দমনে পুলিশ প্রশাসনের আরও কঠোর হওয়ার দাবি জানান তিনি।

বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) এস এম তারেক রহমান বলেন, গত ৩ মাসে বরগুনার পাথরঘাটা ও বামনা উপজেলায় ২টি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতির ঘটনায় আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে এবং ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছে। এ ছাড়া জেলার অন্য কোথাও ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি। তবে শীতের মৌসুমে চোর-ডাকাতের কিছু তৎপরতা বেড়ে যায়। এ কারণে স্থানীয়দের সচেতন থাকার পাশাপাশি পাহারার মাধ্যমে পুলিশকে সহায়তা করতে বলেছেন।