‘বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতন্ত্র নির্বাসনে দিয়েছে শেখ মুজিব’


Barisal Crime Trace -FF প্রকাশের সময় : জানুয়ারি ২৬, ২০২৩, ১২:২৬ অপরাহ্ণ /
‘বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতন্ত্র নির্বাসনে দিয়েছে শেখ মুজিব’

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল : বরিশাল মহানগরী জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের অন্যতম সদস্য অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মুহাঃ বাবর বলেছেন, কলঙ্কিত একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করে শেখ মুজিব বাংলাদেশর গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করেছিল। বাংলাদেশর স্বাধীনতা উত্তর সময়ে এই বাকশাল প্রতিষ্ঠা করে শেখ মুজিব প্রকারন্তরে রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিল। সেদিন বাংলাদেশের মানুষের রক্ত বিনিমিয় অর্জিত স্বাধীনতা ও গনতন্ত্র ধ্বংশ করে এক দলীয় বাকশাল কায়েম করে মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছিল। আর এই অপকর্মের খেসারত আওয়ামী লীগকে সেদিন দিতে হয়েছে।

বুধবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে বরিশাল মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে বরিশাল নগরীর একটি হল রুমে ‘কলঙ্কিত বাকশাল প্রতিষ্ঠা ও গণতন্ত্র হত্যাদিবস’ বিষয়ক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে কোনো গণতন্ত্র নেই, মানুষের কথা বলার অধিকার নেই। মৌলিক অধিকার বলতে বাংলাদেশে এখন শুধু হাসিনা আর তার প্রশাসন। কলঙ্কিত বাকশালের ছদ্ম্যাবারণে বাংলাদেশে এখন ডিজিটাল বাকশালী শাসন চলছে। দিনের ভোট রাতে করে বিনা ভোটের অবৈধ এই লুটেরা সরকার মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। দেশে আজ কোনো পর্যায়ের নির্বাচনের মানুষের অংশ গ্রহণ নেই। মানুষ তার ভোটাধিকার প্রয়োগের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। আর এর প্রবর্তক এই আওয়ামী অপশক্তি। এদেশের সাধারণ মানুষ তাদের অধিকার হারিয়ে আজ এক স্বৈরতান্ত্রিক শাসকের কবলে আছে। মানুষ যেকোনো মূল্যে এই অপশক্তি ও দুঃশাসনের হাত হতে মুক্তি চায়।

তিনি বলেন, তৎকালে এক দলীয় বাকশাল কায়েমের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের মৌলিক মানবিক অধিকার খর্ব করা হয়েছিল। মাত্র চারটি বাদে বাকি সকল সংবাদ মাধ্যম বন্ধ করেছিল শেখ মুজিব। সেনাবাহিনীসহ দেশের সকল প্রশাসনের মধ্যে পরিবারতন্ত্র ও দলীয় লোক বসিয়ে এক নজিরবিহীন অরাজকতা সৃষ্টি করেছিল তৎকালের আওয়ামী সরকার। খুন, হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, চুরি-ডাকাতি ও ছিনতাই এসব ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে তার হাত হতে মুক্তির জন্য সেদিন আল্লাহর দরবারে হাত তুলে বলেছিল, ‘আমরা আওয়ামী জাহেলিয়াত হতে মুক্তি চাই।’

মুহাঃ বাবর বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বাকশালী শাসনের চেয়েও জঘন্য ও বর্বরতম শাসন চলছে। প্রশাসনকে ব্যবহার করে সরকার আয়না ঘর করে সেখানে অন্ধকার কারা প্রকোষ্ট তৈরি করেছে। আর সেই নির্যাতন সেলের বাসিন্দারা হলো বর্তমান বাংলাদেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। গায়েবি মামলা দিয়ে সরকার বিরোধী দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে জেলে আটক করছে। মিথ্যা অভিযোগে আমাদের শীর্ষ নেতাদের বিচারের নামে প্রহসন করে হত্যা করেছে।

তিনি বর্তমান সরকারের অপশাসন ও দুশাসনের চিত্র তুলে ধরে আরো বলেন, এই অবৈধ সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য জামায়াতের আমির এবং সেক্রেটারিসহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে বিনা অপরাধে আটক করে জেলে রেখেছে। হামলা-মামলা দিয়ে দেশে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে সরকার আবার ক্ষমতায় আসতে চায়। আমরা সরকারকে বলতে চাই, মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে ক্ষমতা থেকে সরে পড়ুন। কোনো হামলা-মামলা করে কাজ হবে না।
অবিলম্বে আমিরে জামায়াতসহ সকল রাজবন্দিদের নিঃশর্ত মুক্তি দিন। তা না হলে দেশের মানুষ আপনাদের পালাবার পথ দেবে না।