বরগুনায় কুয়াশায় ঝুঁকিতে নৌপথ, নাব্য সংকটে লঞ্চ চলাচলে বিঘ্ন


Barisal Crime Trace -GF প্রকাশের সময় : জানুয়ারি ২৬, ২০২৩, ১:০৮ অপরাহ্ণ /
বরগুনায় কুয়াশায় ঝুঁকিতে নৌপথ, নাব্য সংকটে লঞ্চ চলাচলে বিঘ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক : শীত মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে বরগুনার নৌপথ। ঘন কুয়াশা ও নাব্য সংকটে ডুবোচরে আটকা পড়ছে যাত্রীবাহী লঞ্চ। এতে নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না লঞ্চগুলো।

 

 

বরগুনার লঞ্চঘাট ঘুরে জানা যায়, ডুবোচরে আটকে যাওয়ার ভয়ে ঘন কুয়াশায় ধীরগতিতে লঞ্চ চলাচল করছে। এতে নির্ধারিত সময় থেকে তিন-চার ঘণ্টা দেরিতে গন্তব্যে পৌঁছায় লঞ্চগুলো। এছাড়া অধিকাংশ লঞ্চেই আধুনিক যন্ত্রপাতি নেই। রাডার এবং নদীতে পানি কম আছে কী না তা জানার জন্য ইকো সাউন্ডার মেশিন থাকা জরুরি বলে মনে করছেন লঞ্চ চালক এবং সুপারভাইজারা।

 

মিশু নামে এক লঞ্চযাত্রী বলেন, বরগুনা থেকে লঞ্চগুলো এর আগে খুব ভোরে ঢাকায় পৌঁছাত। কিন্তু এখন কুয়াশার কারণে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে।

 

 

আরেক যাত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, কুয়াশার কারণে লঞ্চ যদি চরে আটকে যায় তাহলে বিপদের পাশাপাশি খরচ বেড়ে যায়। আর যদি কারও পরীক্ষা থাকে তাহলে একদিন আগে রওয়ানা হতে হয়। তা না হলে সময়মতো পৌঁছানো নিয়ে চিন্তায় থাকতে হয়।

 

 

 

ঢাকা থেকে বরগুনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা এমভি অথৈ-১ লঞ্চের চালক মো. হারুন অর রশীদ বলেন, ঢাকা-বরগুনাগামী নৌরুটে নিয়মিত চলাচলকারী এমভি পূবালী-১ লঞ্চের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রক্সি ট্রিপে আসে এমভি অথৈ-১। নদীতে ঘনকুয়াশা ও নতুন রুট হওয়াতে দুই শতাধিক যাত্রীসহ ৮ জানুয়ারি রাতে লঞ্চটি ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীর তীরে ডুবোচরে আটকে যায়। তাছাড়া এখন অনেক লঞ্চ কুয়াশা এড়াতে ধীরগতিতে চলাচল করছে।

 

 

একই লঞ্চের সহকারী চালক এনামুল বলেন, এবারের শীত মৌসুমে বরগুনাগামী লঞ্চগুলোর মধ্যে অথৈ-১ লঞ্চটি দীর্ঘ ১৩ দিন পর্যন্ত ডুবোচরে আটকে ছিল। তখন প্রায় দুইশতাধিক যাত্রীকে কোম্পানির খরচে অন্য লঞ্চে বরগুনায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, ভোলাগামী লঞ্চ আওলাদ-৪ ও সম্রাট-২ ঘনকুয়াশায় প্রায় আট-দশদিন ডুবোচরে আটকে ছিল। ঘনকুয়াশার কারণে লঞ্চগুলো ধীরগতিতে এবং অনেক সময় নোঙর করে রাখলে নাব্য সংকটে চরে আটকে যায়। এ কারণে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেরি হয়।

 

 

এ বিষয়ে বরগুনা নদী বন্দরের সহকারী পরিচালক নিয়াজ মোহাম্মদ খান বলেন, বিআইডব্লিউটিএ থেকে ঘন কুয়াশায় লঞ্চ চলাচলে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চলতি পথে কুয়াশা পড়লে নৌযান থামিয়ে হুইসেল বাজাতে হবে। ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আছে। মাঝ নদীতে যাত্রী ওঠানামায়ও নিষেধাজ্ঞা আছে।

 

 

তিনি আরও বলেন, বরগুনা থেকে ঢাকাগামী লঞ্চগুলোকে দুর্ঘটনা এড়াতে সব ধরনের সতর্কতা মেনে চলাচলের নির্দেশনা দিয়েছি।