প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে নতুন নতুন আইন করছে সরকার: মির্জা ফখরুল


Barisal Crime Trace -FF প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১১, ২০২৩, ৮:৫৩ অপরাহ্ণ /
প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে নতুন নতুন আইন করছে সরকার: মির্জা ফখরুল

ক্রাইম ট্রেস ডেস্ক : বর্তমান সরকার দখলদারি সরকারের ভূমিকা পালন করছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘তারা রাজতন্ত্র কায়েম করতে চায়। এখন একটাই মত, এ সরকারকে সরাতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। বিচার বিভাগের বিচার পাওয়া এখন একটা ভাগ্যের ব্যাপার। অর্থনৈতিক, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছে। সামনে নির্বাচন রেখে নতুন নতুন আইন করছে, যাতে কেউ রুখে দাঁড়াতে না পারে, প্রতিবাদ করতে না পারে। নির্বাচনে প্রতিপক্ষকে আইন দিয়ে ঘায়েল করে সরকার পার পেতে চায়।’

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, গণতন্ত্র এবং সাংবিধানিক কাঠামো’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে বিএনপি। এতে দলের মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন। এ সময় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কারাভোগ করা কয়েকজন ‘নির্যাতনের’ চিত্র তুলে ধরেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ১৭ মাস কারাবন্দি থাকা বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিইউএফজে) সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজী বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের মানুষের সমস্ত অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এই আইনের সমস্ত ধারাই খারাপ, নির্মম, নির্দয়, মানবাধিকার পরিপন্থি। সেইদিন আমাকে কর্মস্থল থেকে তুলে নেওয়া হয়েছিল। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন রেখে দেশে গণতন্ত্রের কথা চিন্তা করা যায় না। এই ফ্যাসিস্ট সরকার যতদিন থাকবে দেশে মানুষ স্বাধীন থাকবে না।’

ডিজিটাল আইনে কারাভোগ করা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ বলেন, ‘আমি শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় একটু বক্তব্য দিয়েছিলাম। আবেগ থেকে একটু কথা বলেছিলাম, সেজন্য আমাকে তুলে নিয়ে গেল। আমাকে একের পর এক ইন্টারোগেশন করেছে তার বর্ণনা দিলে শিহরিত হয়ে উঠতে হয়। রিমান্ডের পর জেলে পাঠানো হয় সেখানে আমাকে কম্বল-বালিশটা পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। এই হচ্ছে আমাদের স্বাধীন দেশ।’

দীর্ঘদিন ‘গুম’ থাকা আলোকচিত্রী শফিকুল ইসলাম কাজল বলেন, ‘বাংলাদেশের গণমাধ্যম কতটা স্বাধীন? আমার মনে হয়, গণমাধ্যম এখন মৃতপ্রায়। ৫৩ দিন গুম হওয়াকালে আমি কিছুই বুঝতে পারিনি। কোথায় আছি, কেমন আছি। আমার চোখ বন্ধ ছিল। আমি ক্রসফায়ারারে মুখোমুখি হয়েছি। অভিযোগ ছিল আমি প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে লিখেছি। হয়তো লিখেছি-এটা আমার অধিকার, সাংবিধানিক অধিকার। তাই বলে গুম করে নেওয়া হবে, ক্রসফায়ারের নেওয়া হবে, জেল খাটতে হবে?’ এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে অবমাননার অভিযোগ কারাভোগ করা রাজবাড়ীর সোনিয়া আখতার স্মৃতি ও ‘গুম’ হওয়া জাহিদ হাসান তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রয়োগ করে সরকার নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চায় বলে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘এই সরকার কোনো নির্বাচিত সরকার নয়, দখলদার একটা সরকার। তারা এসব আইন করে ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ করতে চায়। সামনে নির্বাচন- এই নির্বাচনকে সামনে রেখে যেন কেউই রুখে দাঁড়াতে না পারে, কেউ যেন তাদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে না পারে এবং নির্বাচনে তাদেরকে কেউ যেন বাধা দিতে না পারে তার জন্য এসব আইনগুলো করছে’।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সব কালাকানুন বাতিল করতে হবে। সবার আগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করতে হবে। এটা এখন দেশের দাবি, জনগণের দাবি’। এ সময় হাতিরঝিল থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী অপুকে গত রোববার সাদা পোষাকধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নেওয়ার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছে জানিয়ে অবিলম্বে তার সন্ধান ও মুক্তি দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব।

স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এই সরকার ক্ষমতায় থাকার জন্য সব যন্ত্র ব্যবহার করছে। এর একটি যন্ত্র হচ্ছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। এই ডিজিটাল আইন গণতন্ত্র পরিপন্থি’।

তিনি বলেন, ‘আমেরিকা বলেছে, বাংলাদেশে কোনো গণতন্ত্র নেই। যে দেশে গণতন্ত্র নেই, সে দেশের মানবাধিকার থাকে না। মানবাধিকার না থাকায় র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এই সরকার কিছু কালাকানুন দিয়ে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করবে। তাই গণআন্দোলনের মাধ্যমে এই স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট সরকারকে বিতাড়িত করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।’

বিএনপি মহাসচিবের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরীর এ্যানির সঞ্চালনায় সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন- স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, গণঅধিকার পরিষদের ড. রেজা কিবরিয়া, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, এনডিপির ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লুৎফর রহমান প্রমুখ।

আরও উপস্থিত ছিলেন- কেন্দ্রীয় নেতা সেলিমা রহমান, নজরুল ইসলাম খান, আবদুল্লাহ আল নোমান, ব্যারিষ্টার শাহজাহান ওমর, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকত উল্লাহ বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু, ইসমাইল জবিউল্লাহ, অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শ্যামা ওবায়েদ, জহির উদ্দিন স্বপন, অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, আফরোজা আব্বাস, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের কাদের গনি চৌধুরী প্রমুখ।

অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে ছিলেন- কল্যাণ পার্টির মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের হাসনাত কাইয়ুম, গনসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নূর, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, মুসলিম লীগের শেখ জুলফিকার চৌধুরী বুলবুল, নাগরিক ঐক্যের শহীদুল্লাহ কায়সার, এনডিপির আবু তাহের, বিকল্পধারা বাংলাদেশের অধ্যাপক নুরুল আমিন ব্যাপারী, জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান, গণদলের এটিএম গোলাম মাওলা, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহিউদ্দিন ইকরাম প্রমুখ।

আহত ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের খোঁজ নিলেন মির্জা ফখরুল: বিকালে ছাত্রলীগের হামলায় আহত ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের দেখতে রাজধানীর দুটি বেসরকারি হাসপাতালে যান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাঈফ মাহমুদ জুয়েল। ছাত্রদলের নেতা কর্মীদের উপর হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবি জানান মির্জা ফখরুল ।

ছাত্রদল নেতারা জানান, সোমবার রাত ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগের সামনে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রলীগ হামলা চালায়।। এতে কেন্দ্রীয় কমিটির ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক মানসুরা আলম, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাজু আহম্মেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ সাধারণ সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের কর্মী আব্দুল্লাহ গুরুতর আহত হয়।