আগৈলঝাড়ায় ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির নীল পূজার গান উৎসব


Barisal Crime Trace -FF প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১৪, ২০২৩, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ /
আগৈলঝাড়ায় ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির নীল পূজার গান উৎসব

আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি : বরিশালের আগৈলঝাড়ায় চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে হয়েছে নীল পূজার গান উৎসব। দিনে ও রাতে গ্রামের বাড়ি বাড়ি ঘুরে মহাদেব, পার্বতী ও অন্যান্য দেব-দেবীর অবয়ব ধারণ করে লালিত সংস্কৃতির এই উৎসব পালিত হয়ে আসছে আগৈলঝাড়ার গ্রামীণ জনপদে। ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান হলেও আনন্দ উচ্ছ্বাসে ভরপুর এই লোকজ সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত সকল ধর্মের লোকজন। সবাই উপভোগ করেন নীল পূজা ও গানের লোক উৎসব।

পুরাণের কাহিনী অনুযায়ী, নীল বা নীলকণ্ঠ দেবাদীদেব মহাদেব শিবের অপর নাম। সেই নীল বা শিবের সঙ্গে নীলচণ্ডিকা বা নীলাবতী পরমেশ্বরীর বিয়ে উপলক্ষে লৌকিক আচার-অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। রাজা দক্ষ যজ্ঞের মাধ্যমে দেহত্যাগের পর শিব জায়া সতী পুনরায় নীলধ্বজ রাজার বিল্ববনে সুন্দরী কন্যারূপে আবির্ভূত হন। রাজা তাকে নিজ কন্যা রূপে লালন-পালন করে শিবের সঙ্গে বিয়ে দেন। বাসর ঘরে নীলাবতী শিবকে মোহিত করেন এবং মক্ষিপারূপ ধরে ফুলের সঙ্গে জলে নিক্ষিপ্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। রাজা-রানীও শোকে প্রাণ বিসর্জন দেন। নীল পূজা শিব ও নীলাবতীর বিবাহ-অনুষ্ঠানের স্মারক।

বাঙালি গৃহিণীরা তাদের সন্তানের নীরোগ, সুস্থ জীবনের মঙ্গল কামনায় নীল ষষ্ঠী ব্রত পালন করে। সাধারণত চৈত্র সংক্রান্তির চড়ক উৎসবের আগের দিন নীল পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। নীল সন্ন্যাসীরা ও শিব-দুর্গার পূজার সময়ে নীলকে সুসজ্জিত করে গীতি বাদ্য সহযোগে বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভিক্ষা সংগ্রহ করেন। নীল উৎসবের পালা গানকে বলা হয় অষ্টক গান। এই দিন সন্ধ্যাবেলায় রমণীরা সন্তানের কল্যাণার্থে প্রদীপ জ্বালিয়ে শিব পূজা করে সারাদিনের উপবাস ভাঙেন।

তবে পঞ্জিকা অনুসারে ষষ্ঠী তিথি না হলেও নীল ষষ্ঠী পালন করা হয় এদিন। বাংলার বারো মাসে তেরো পার্বণের অন্যতম উৎসব নীল ষষ্ঠীর ব্রত। এই ব্রতের বিশেষত্ব হল ষষ্ঠী কোনো দেবী নন, পূজিত হন মহাদেব।

নীল ষষ্ঠীর পরের দিন চৈত্র সংক্রান্তি। আর এর পরের দিন পয়লা বৈশাখ। গ্রাম বাংলায় চৈত্র সংক্রান্তিতে চরক পূজা করা হয়। চরক উপলক্ষে অনেক স্থানে বসে গাজনের মেলা। এদিনের পুজোকে নীল পুজো বলা হয়ে থাকে। পূজা উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে বসে গ্রামীণ মেলা।