পিরোজপুরে হেফাজতে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা, পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ


Barisal Crime Trace -FF প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১৪, ২০২৩, ৮:২৯ অপরাহ্ণ /
পিরোজপুরে হেফাজতে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা, পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ

পিরোজপুর প্রতিনিধি : নির্যাতনের অভিযোগে পিরোজপুরে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন মো. মাসুম হাওলাদার। এ মামলায় নালিশি দরখাস্তে ইন্দুরকানি থানাকে মামলা রেকর্ড এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআইকে) তদন্তের জন্য প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

এছাড়া একই আদেশে পরিদর্শক পদমর্যাদার একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে দিয়ে ঘটনার তদন্তসাপেক্ষে আগামী ১১ এপ্রিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলেছেন আদালত। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহা. মহিদুজ্জামান মামলাটি আমলে নিয়ে এ আদেশ প্রদান করেন।

এ ছাড়া পিরোজপুরে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে আদালতে দায়ের করা মামলায় নালিশি দরখাস্তের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার আদালতে বাদীর স্বাস্থ্য পরক্ষীার প্রতিবেদন দাখিল করেছে জেলা সিভিল সার্জন অফিস।

পাশাপাশি পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের নাক,কান, গলা বিভাগের চিকিৎসক ডা. আলী আহম্মেদ বাদীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন আদালতে বৃহস্পতিবার প্রেরন করছেন। ওই প্রতিবেদনে চিকিৎসক বাদীর স্বাস্থ্য স্বাভাবিক আছে মর্মে আদালতে প্রতিবেদন প্রেরন করেছেন।

মামলার নালিশি পিটিশন অনুযায়ী জানা যায়, মামলার নালিশি পিটিশন অনুযায়ী জানা যায়, গত ২০২২ সালের ৩১ আগস্ট গোয়েন্দা পুলিশের পাঁচ সদস্য সাদা পোশাকে রাত সোয়া ৯টার দিকে বাদীর বসতঘরের ভেতর ঢুকে স্ত্রী ও শিশুসন্তানের সামনে কিল-ঘুসি, চড়-থাপ্পড় মারতে থাকে। তখন বলতে থাকে কি আছে বের করে দাও। মামলার বাদী তার কাছে কিছু নাই বললে গোয়েন্দা পুলিশের পাঁচ সদস্য আরও বেশি করে মারতে থাকেন।

একপর্যায়ে বাদী মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং জ্ঞান হারান। জ্ঞান ফিরলে তিনি আঘাতের কারণে কানে শুনতে পাচ্ছেন না- এ কথা বলার পর গোয়েন্দা পুলিশের পাঁচ সদস্য তাকে টেনেহিঁচড়ে ঘরের বাহিরে নিয়ে যায়। এরপর মাটির উপরে রাখা একটি পুটলি বের করতে বলে এবং তাকে ওই অবস্থায় গ্রেফতার দেখিয়ে মাদক মামলায় তাকে চালান দেওয়া হয়।

বাদী ১৮ অক্টোবর হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নাক কান গলা বিভাগে চিকিৎসা নেন এবং সুস্থ হওয়ার পরে মঙ্গলবার আদালতে মামলা দায়ের করেন।

বাদীপক্ষে মামলার শুনানি করেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সরোয়ার হোসেন। তার সঙ্গে ছিলেন পিরোজপুর জেলা বারের অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন আহমেদ।

মামলার পাঁচ আসামি হলেন- জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই নূরুল আমিন হাওলাদার, কনস্টেবল মো. রেজওয়ান হাওলাদার, মো. আব্দুর রাজ্জাক, মো. মামুন মিয়া ও মো. শাহ জালাল মিয়া।

বাদী মাসুম হাওলাদারের আইনজীবী ব্যারিস্টার সরোয়ার হোসেন জানান, ইন্দুরকানি থানায় মামলাটি রেকর্ড করে পরবর্তীতে তদন্তের জন্য পিবিআইকে ১১ মে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আদালতের নির্দেশনা রয়েছে।