ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩


Barisal Crime Trace -FF প্রকাশের সময় : আগস্ট ২১, ২০২৩, ১:২৫ অপরাহ্ণ /
ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩

ক্রাইম ট্রেস ডেস্ক : রাজবাড়ীর পাংশায় রুনা খাতুন (৩০) নামের প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২১ আগস্ট) বেলা ১১টায় জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার জিএম আবুল কালাম আজাদ।

এর আগে রোববার (২০ আগস্ট) ভোরে পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের মুছিদাহ খামারডাঙ্গী গ্রামের কাতার প্রবাসী আনিছুর রহমানের বাড়ির উঠান থেকে তার স্ত্রী রুনার পা বাঁধা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে রুনার বড় ভাই মো. রায়হান বাদী হয়ে পাংশা মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- পাংশা উপজেলার খামারডাঙ্গী মুচিদাহ গ্রামের খলিল শেখের ছেলে মিলন শেখ (২৭), একই গ্রামের আলম হোসেনের ছেলে তেছেম সরদার (১৬) ও কাজেম জোয়াদ্দারের ছেলে রিয়াজ জোয়াদ্দর (১৫)।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, কাতার প্রবাসী আনিছুর রহমানের স্ত্রী রুনা খাতুন দুই সন্তান নিয়ে স্বামীর বাড়িতে থাকতেন। শনিবার (১৯ আগস্ট) দিবাগত রাতে সন্তানদের নিয়ে ঘুমিয়েছিলেন রুনা। রাত দেড়টার দিকে দেড় বছর বয়সী ছোট ভাইয়ের কান্নায় রুনার ১০ বছর বয়সী মেয়ে উম্মে সিনহার ঘুম ভাঙলে সে দেখে তার মা বিছানায় নেই। এরপর সে বারান্দায় এসে দেখে প্রতিবেশী মিলন শেখ সেখানে দাঁড়িয়ে আছে; আর বাড়ির উঠানে তার মা পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে আছে।

সেসময় তার চিৎকারে মিলনসহ তার সঙ্গে থাকা আরও দুইজন পালিয়ে যায়। মায়ের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীদের ডেকে আনে উম্মে সিনহা। প্রতিবেশীরা এসে দেখে তার মা মৃত অবস্থায় পড়ে আছে। পরে পুলিশকে খবর দিলে রোববার সকালে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। একইসঙ্গে হত্যায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। রুনা বেগমের ছিনতাই হওয়া মোবাইল ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করা হয়।

রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার জিএম আবুল কালাম আজাদ জানান, হত্যাকাণ্ডের ১২ ঘণ্টার মধ্যে হত্যার রহস্য উদঘাটনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। মূলত রুনা বেগমের বিকাশে থাকা অর্থ ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. রেজাউল করিম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. ইফতেখারুজ্জামান, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) সুমন কুমার সাহা, ডিআইও-১ বিপ্লব দত্ত চৌধুরী, পাংশা মডেল থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) ইফতেখারুল আলম প্রধান।