বরিশালে সরবরাহ কম, দাম চড়া ইলিশের


Barisal Crime Trace -FF প্রকাশের সময় : আগস্ট ২১, ২০২৩, ২:৪১ অপরাহ্ণ /
বরিশালে সরবরাহ কম, দাম চড়া ইলিশের

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল : কয়েকদিন ধরে আশানুরূপ ইলিশ আসছে না বরিশালের বাজারে। ফলে সরবরাহ কম থাকায় অনেকটা বেড়েছে ইলিশের দাম। বিগত দিনে এ সময়ে এক হাজার থেকে ১২০০ মণ ইলিশ আসতো। কিন্তু বেশকিছু দিন ধরেই ১৮০-২৫০ মণের বেশি ইলিশ আসছে না। সোমবার (২১ আগস্ট) সকালে নগরীর পোর্টরোড পাইকারি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র গিয়ে দেখা যায় এমন দৃশ্যের।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ মণপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৭০-৭২ হাজার টাকা। কেজি সাইজের ইলিশ মন বিক্রি হচ্ছে ৬৩-৬৫ হাজার টাকায়। ৭৫০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মন ৫৮-৬০ হাজার করে। ৫০০-৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মণ ২৮-৩২ হাজার হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, আড়তগুলো এমন সময় ইলিশে ভরপুর থাকার কথা। অথচ চাহিদা অনুযায়ী ইলিশ আসছে না। তার মধ্যে ভরা মৌসুমেও স্থানীয় নদ-নদীতে ইলিশের দেখা নাই। যা আসছে তার মধ্যে সাগরের ইলিশ বেশি। তবে সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা বেশি পড়ছে বলে জানান বিক্রেতারা। ক্রেতারা বলেছেন ইলিশের দাম আগের তুলনায় বেশি থাকায় অন্য মাছ নিয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।

পোর্টরোড পাইকারি বাজারে মাছ কিনতে আসা আশরাফ মাহমুদ বলেন, আগে যে ইলিশ কেজি ১ হাজার ৪০০ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকায় কিনেছি সেটি এখন কিনতে হচ্ছে দুই হাজার ২০০ টাকায়। মাছের সরবরাহ কম থাকার অজুহাতে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে মূল্যবৃদ্ধি করেছেন। নিজেদের নদ-নদী বা সাগরের মাছ। এতো মূল্য বৃদ্ধির কোনো কারণতো দেখছি না।

আলম মৃধা নামের আরেক ক্রেতা জানান, এলাকার বাজার থেকে মাছ না কিনে পোর্টরোড পাইকারি বাজারে এসেছিলাম একটু কম দামে কেনার আশায়। কিন্তু এখানেও দেখি খুচরা বাজারের মতো চড়া মূল্যে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। তারপরও ছোট ছোট ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ৪টা ইলিশ কিনেছি তিন হাজার টাকায়।

সিরাজ হাওলাদার নামের এক ক্রেতা বলেন, ইলিশ কিনতে এসে দরদামে পোষাতে না পেরে পাঙাশ মাছ কিনতে হয়েছে। ৫০০ গ্ৰাম সাইজের ইলিশ কেজি ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা হয়েছে। যা আগে ছিল ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা। পাঙাশ মাছেরও দাম বেড়েছে। ২৫০ টাকা করে কেজি পাঙাশ মাছ কিনেছি। যা আগে ছিল ১৫০-২০০ টাকার মধ্যে।

পোর্ট রোডের ইলিশ আড়তদার মেসার্স দুলাল ফিসের ম্যানেজার মো. রবিন বলেন, গত কয়েকদিন ধরে গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ মণ করে ইলিশ নিয়ে ট্রলারগুলো পোর্টরোডের মোকামে আসছে। তবে এমন সময় হাজার হাজার মণ ইলিশ আসার কথা। কয়েক বছর আগেও ভরা মৌসুমে পোর্ট রোডের মোকামের আড়তগুলোয় দিনশেষে দুই হাজার মণ ইলিশ বেচাকেনা হতো।

তিনি আরও বলেন, মৌসুম অনুযায়ী বাজারে ইলিশ কম আসছে। কিন্তু ইলিশের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। ইলিশ কম থাকায় ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। ক্রেতাদের চাহিদার কারণে ইলিশের দাম কিছুটা বেড়েছে।

পোর্টরোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের মালিক-সমিতির অর্থ সম্পাদক ইয়ার হোসেন শিকদার জানান, আমাদের ১৭০টি আড়তে এ ভরা মৌসুমে আগে প্রতিদিন ১ হাজার থেকে ১২০০ মণ ইলিশ আসতো। সেখানে বর্তমানে ১৮০-২৫০ মন পর্যন্ত মাছ আসছে। বেচাবিক্রি আগে কোটি কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেত। এখন হচ্ছে মাত্র ৪০-৫০ লাখ টাকার।

তিনি আরও বলেন, নদী থেকে প্রায় শূন্য হাতে ফেরত আসছে জেলেরা। তাই আড়তে নদীর ইলিশের দেখা মিলছে না। সাগর থেকে কিছু মাছ আসছে। তবে কয়েকদিনের মধ্যেই নদীর মাছ পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তারা। তখন দামও কিছুটা কম হবে।

বরিশাল মৎস্য অধিদপ্তরের মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) ড. বিমল চন্দ্র দাস বলেন, ইলিশ সংকটের এ চিত্র এখন দক্ষিণাঞ্চলের সব নদ-নদীতে। কারণ এখন নদীর ইলিশের সময় না। এখন বাজারে যেসব ইলিশ উঠছে তা সব সাগরের ইলিশ। সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে স্থানীয় নদ-নদীতে ইলিশ ধরা পড়লে দাম কিছুটা কমবে।

তিনি আরও বলেন, অনেক জায়গায় চর পড়ে পানির গভীরতা কমে গেছে। বিশেষ করে সাগর মোহনায় নদীর মুখ চর পড়ে বন্ধ হয়ে গেছে। নদীর গতিপথও পরিবর্তন হয়েছে। যে কারণে ভরা মৌসুমেও মাঝে মাঝে নদীতে ইলিশ আসে না। এর জন্য নদী দূষণও দায়ী।