মসজিদে সাঈদীর জন্য দোয়া করায় ইমামকে কুপিয়ে জখম


Barisal Crime Trace -FF প্রকাশের সময় : আগস্ট ২২, ২০২৩, ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ /
মসজিদে সাঈদীর জন্য দোয়া করায় ইমামকে কুপিয়ে জখম

অনলাইন ডেস্ক : যশোরে মসজিদে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর জন্য দোয়া করায় আশরাফুল ইসলাম নামে এক ইমামকে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা।

সোমবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে শর্শা উপজেলার যাদবপুর গ্রামের কামারবাড়ি মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। আহত ইমাম আশরাফুল যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আহত ইমাম আশরাফুল ইসলাম উলাশী ইউনিয়নের গিলাপোল জামে মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জানা গেছে, শুক্রবার (১৮ আগস্ট) জুম্মার নামাজের দিন গিলাপোল জামে মসজিদে মোনাজাতে সাঈদীর উদ্দেশ্যে দোয়া করেন ইমাম। ওদিনই বিকালে কিছু যুবক ইমামকে পথ রুদ্ধ করে হুমকি দেয়।

ভুক্তভোগী ইমাম আশরাফুল ইসলাম আশা বলেন, সোমবার মাগরিবের নামাজ পড়ানোর উদ্দেশ্যে মসজিদে যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে মুখোশধারী ৭-৮ জন যুবক আমাকে মাঠের মধ্যে নিয়ে এলোপাতাড়ি চাকু ও ব্লেড দিয়ে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক মুরসালিম বলেন, আশরাফুল নামে এক আহত ব্যক্তিকে ভর্তি করা হয়েছে। শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

শার্শা থানার ওসি আকিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনা শুনেছি। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী গত সোমবার (১৪ আগস্ট) রাত ৮টা ৪০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে রোববার (১৩ আগস্ট) বিকালে তাকে অসুস্থতার কারণে কাশিমপুর কারাগার থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

১৯৮০’র দশকের প্রথমদিকে সাঈদী দেশব্যাপী ইসলামী ওয়াজ-মাহফিল ও তাফসির করা শুরু করেন এবং তার সুন্দর বক্তব্যদানের জন্য দেশব্যাপী জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এ সময়ই তিনি রাজনীতিতে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমির ছিলেন।

১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নির্বাচনী জোট গঠন করে এবং তিনি এই নির্বাচনে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।