ভাগ্যের চাকা ঘুরেছে পাথরঘাটার সেই নাসিরের!


Barisal Crime Trace -FF প্রকাশের সময় : আগস্ট ২২, ২০২৩, ৪:০৮ অপরাহ্ণ /
ভাগ্যের চাকা ঘুরেছে পাথরঘাটার সেই নাসিরের!

পাথরঘাটা প্রতিনিধি : নাসির উদ্দিন। পাথরঘাটা উপজেলার সদর পাথরঘাটা ইউনিয়নের রুহিতা গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে। দেখে কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হলেও আসলে তা নন, তিনি মূলত সহজ সরল। ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক চালিয়ে সংসার চালাচ্ছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি ইজিবাইকটি চুরি হওয়ায় বিপাকে পড়েন তিনি। বন্ধ হয়ে যায় আয়ের পথ।

ভূমিহীন হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের আবাসনে থাকছেন তিনি। চুরি যাওয়া ইজিবাইক না পাওয়ায় অনেকের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। উপায় না পেয়ে মানুষের কাছে হাত পেতে সংসার চালাচ্ছিলেন নাসির। অবশেষে তার দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে প্রয়াত সংসদ সদস্য গোলাম সবুর টুলু ফাউন্ডেশন ও স্মৃতি সংসদ।

২০০৪ সালে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত, প্রয়াত সংসদ সদস্য (এমপি) গোলাম সবুর টুলুর রুহের মাগফিরাত কামনায় ও স্মরণে সোমবার (২১ আগস্ট) দরিদ্র নাসিরকে ‘এমপি গোলাম সবুর টুলু ফাউন্ডেশন ও স্মৃতি সংসদে’র অর্থায়নে দেড় লাখ টাকায় কেনা একটি ইজিবাইক দেন জাতীয় সংসদের ৩১৫ সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ও প্রয়াত সংসদ সদস্য গোলাম সবুর টুলুর স্ত্রী সুলতানা নাদিরা।

এ সময় তার ছোট মেয়ে হাছছানা নাদিরা সবুরও উপস্থিত ছিলেন। এর আগেও বিভিন্ন সময় গোলাম সবুর টুলু ফাউন্ডেশন ও স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের দোকান ঘর দিয়ে স্বাবলম্বী করে দেওয়া হয়েছে। নাসিরের হাতে ইজিবাইকের চাবি দিয়ে সংসদ সদস্য সুলতানা নাদিরা ও তার মেয়ে ব্যারিস্টার হাছছানা নাদিরা সবুর ওই ইজিবাইকে শহর ঘোরেন এবং প্রথম ভাড়াও দেন মা-মেয়ে।

নাসির উদ্দিন বলেন, আমরা খুব গরিব মানুষ। বাবা এখন বৃদ্ধ, কোনো কাজ করতে পারে না। চালিয়ে সংসার চালাই। এর আগে আরও দুটি রিকশা চুরি হয়েছে। তৃতীয়বারও ইজিবাইক চুরি হওয়ায় আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। অনেকের কাছে গেছি একটি রিকশা কেনার জন্য সাহায্য চাইতে, কেউ দেয়নি, আমাকে তাড়িয়ে দিয়েছে।

নাসির বলেন, আমি খুব খুশি হয়েছি। দীর্ঘ চার মাস বেকার ছিলাম। অনেক কষ্টে দিন পার করেছি। আজ ভাগ্যের চাকা ঘুরেছে। ব্যারিস্টার হাছছানা নাদিরা সবুর বলেন, যতদিন বেঁচে থাকব, আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী দরিদ্র ও প্রতিবন্ধীদের সাহায্য করে যাব।

তিনি আরও বলেন, আমার বাবা বেঁচে থাকতেও মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, সাহায্য সহযোগিতা করেছেন। বাবার এমন কাজ আমরা ছোট থেকেই দেখেছি। বাবার নির্দেশও ছিল, কখনো যেন তার দুয়ার থেকে খালি হাতে কেউ ফিরে না যায়। এটা বাবার স্বপ্ন ভেবেই তার স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে এ উদ্যোগ অব্যাহত রাখব।