ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব: বরিশালে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, শহরে জলাব্ধতা


Barisal Crime Trace -FF প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১৭, ২০২৩, ৮:০৩ অপরাহ্ণ /
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব: বরিশালে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, শহরে জলাব্ধতা

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল : ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে বরিশালে ভেঙে পড়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবস্থা। টেলিফোন, মোবাইল ও ইন্টারনেট সংযোগও ব্যাহত হয়। আজ শুক্রবার দুপুর গড়াতেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় নগরসহ গোটা জেলায়। সেই সঙ্গে ইন্টারনেট সংযোগও ব্যাহত হয়। শহরে হাঁটু পরিমাণ পানি দেখা যায়।

এতে চরম বিপাকে পড়ে বরিশালের সাধারণ মানুষ। বরিশালের উপকূল ঘূর্ণিঝড় মিধিলা অতিক্রম করলেও সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট ব্যবস্থা সচল হয়নি। আবহাওয়া অফিস বলেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ২২১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। টানা এ বর্ষায় নগরের রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে গেছে।

ঘূর্ণিঝড়ের অগ্রভাগ বরিশাল অতিক্রমকালে আজ শুক্রবার বিকেল থেকে তীব্র বাতাস বয়ে যায়। এতে বিভিন্ন স্থানে গাছ পালা উপড়ে পড়ে যায়। যেকারণে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে গোটা বরিশালে। এমনকি হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জে, মুলাদী, বাকেরগঞ্জ, বাবুগঞ্জেও বিদ্যুৎ ছিল না। তার ওপর বৃষ্টি আর জলাবদ্ধতায় থমকে যায় জনজীবন।

বরিশাল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঝড়ের কারণে গাছপালা পড়ে বিভিন্ন স্থানে বিদ্যু সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। তাদের একাধিক টিম মাঠ পর্যায়ে কাজ করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।’

নগরের আমানতগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা শিক্ষার্থী হাসিবুর রহমান বলেন, ‘দুপুর থেকে তাদের ইন্টারনেট সংযোগ ও বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ। যে কারনে অনলাইনে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।’ সার্কুলার রোডের বাসিন্দা মাসুদ আহমেদ বলেন, ‘বিদ্যুৎ নেই দুপুর থেকে। সারা দিনই আসা যাওয়া করেছে। তার ওপর ইন্টারনেটও নেই। মোবাইল এবং টেলিফোন ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে।’

বাকেরগঞ্জের বাসিন্দা শিক্ষক সালমান আজিম বলেন, ‘তার বাড়িতে গাছ পড়ে বিদ্যুতের তার বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।’ বরিশাল আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক নাসির উদ্দিন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ২২১ মিলি মিটার।’ তিনি বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় মিধিলা বেলা ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে উপকূল অতিক্রম করে। এর প্রভাবে সন্ধ্যা পর্যন্ত বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বয়ে গেছে।’

নগরের সদর রোড, বগুড়া রোড, নবগ্রাম রোড, গোরস্থান রোড, নিউ সার্কুলার রোড পানিতে তলিয়ে গেছে। মানুষের চলাচল থমকে গেছে। স্থবির হয়ে পড়েছে গোটা দক্ষিণাঞ্চলের জনজীবন। বরিশাল সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চালাচ্ছেন। সিটি মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ ওরফে খোকন সেরনিয়াবাত নগরবাসীকে নিরাপদে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।