উপকূল অতিক্রম করতে শুরু করেছে ‘মিগজাউম’, দেশে বৃষ্টি হাতে পারে


Mahadi Hasan প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ৫, ২০২৩, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ /
উপকূল অতিক্রম করতে শুরু করেছে ‘মিগজাউম’, দেশে বৃষ্টি হাতে পারে

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বঙ্গোপসাগরের সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘মিগজাউম’ আরও শক্তিশালী হয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। এটি ভারতের চেন্নাই হয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে যাচ্ছে। এর প্রভাবে দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলের আকাশ মেঘলা। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত বাংলাদেশ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। এদিকে সাগর উত্তাল থাকায় দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত আগের মতোই রাখা হয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম জানায়, মিগজাউমের প্রভাবে ভারী বর্ষণে ইতিমধ্যেই ভেসে গেছে চেন্নাই। প্রবল বৃষ্টিপাতে বহু এলাকা জলমগ্ন। তামিলনাড়ুর চেন্নাইয়ে তাণ্ডব চালানোর পর দ্রুত গতিতে অন্ধ্রপ্রদেশের দিকে এগিয়ে চলেছে ঘূর্ণিঝড় মিগজাউম। সকালেই অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড়। এর প্রভাবেই দক্ষিণ ভারতের পূর্ব উপকূল জুড়ে ভারী বর্ষণ শুরু হয়েছে। ব্যাপক বৃষ্টিপাতের ফলে চেন্নাই শহরে ৮ জনের মৃত্যুও হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, খুলনা, বরিশাল এবং চট্টগ্রাম বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের উত্তরাঞ্চল ও নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও হালকা কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও আশেপাশের এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় মিগজাউম আজ মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৫৩০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৩৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৩৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আজ সকাল নাগাদ নিলর ও মাসুলিপট্রমের নিকট দিয়ে ভারতের অন্ধপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর বিক্ষুদ্ধ রয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে আজ দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চল সমূহের উপর দিয়ে পূর্ব বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।