বাউফলে ৪বছর ধরে ৬ ব্রীজে চলাচল বন্ধ!


Mahadi Hasan প্রকাশের সময় : জুন ৬, ২০২৪, ১:৪৭ অপরাহ্ণ /
বাউফলে ৪বছর ধরে ৬ ব্রীজে চলাচল বন্ধ!

মো.আরিফুল ইসলাম, বাউফল: পটুয়াখালীর বাউফলে একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ৯টি ব্রীজের ৬টি ব্রীজে সংযোগ সড়ক না করে বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। ফলে ভোগান্তিতে রয়েছেন ৫ইউনিয়ানের দেড় লাখেরও বেশি জনসাধারণ। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন প্রভাব খাটিয়ে ৪বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজগুলো ফেলে রেখেছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

জানাগেছে, গত ২০১৯-২০ ও ২০-২১ অর্থ বছরে এলজিইডির আওতায় ৯টি আরসিসি গার্ডার ব্রীজের কাজ শুরু করে ‘মেসার্স সেলি এন্টারপ্রাইজ’ নামের পটুয়াখালী ভিত্তিক একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক পটুয়াখালী জেলা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মো. গিয়াস উদ্দিন। ব্রীজগুলোর ব্যায় ধরা হয়েছিল ১২ কোটি ২৮ লাখ টাকা। দৈর্ঘ ১৭মিটার এবং প্রস্থ ৩.৭ মিটার।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি উপজেলার ধুলিয়া ইউনিয়নের কালামিয়ার বাজার ব্রীজ, একই ইউনিয়নের ফাঁসিকাটা ব্রীজ, দ্বিপাশা জোড়া ব্রীজ, কাছিপাড়া জয়বাংলা ব্রীজ, আয়লা ব্রীজ ও জিরোপয়েন্ট মোহাম্মাদ হাওলাদার খালের উপর নির্মিত ব্রীজসহ মোট ৯টি ব্রীজের কার্যাদেশ পায়। কার্যাদেশ অনুসারে ২২সালের ৯এপ্রিল কাজ শেষ হওয়ার কথা।

শুরুর পর থেকে এপর্যন্ত ৩টি ব্রীজের কাজ শেষ করতে পারলেও বাকি ৬টি ব্রীজের সংযোগ সড়ক এখনও সম্পন্ন করতে পারেনি তারা। যে কারণে মূল সড়কের সাথে সংযোগ স্থাপন করা যায়নি এবং যানবাহণ চলাচল বন্ধ রয়েছে ব্রীজগুলোর সাথে। এমনকি গত প্রায় ৪বছর ধরে কাজও হস্তান্তর করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।

কোন কোন ব্রীজে স্থানীয়দের নিজস্ব অর্থায়নে কাঠের সিড়ি বা মাটির সরু রাস্তা তৈরি করে পায়ে হেঁটে চলতে পারলেও যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ৪বছরের বেশি সময় ধরে ওই অচলাবস্থা বিরাজ করছে।

অন্যদিকে জয়বাংলা বাজার-কাপঢাল মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংযোগ সড়কের মিয়ার খালের উপর নির্মিত আসম ফিরোজ সাইকেল ব্রীজটির এ্যাপ্রোচ হয়নি। এটির ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স শম্পা কনষ্ট্রাকশন(জেবী)। এটিও পটুয়াখালী ভিত্তিক একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।

এ সকল ব্রীজের বিল কি পরিমান উত্তোলন করা হয়েছে সে তথ্য দিচ্ছেন না সংশ্লিষ্ট এলজিইডি কর্মকর্তারা। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ এসব কাজের বিল উত্তোলন করা হয়েছে বহু আগে। কোন ধরণের তথ্য দিতে এলজিইডি কর্মকর্তা কর্মচারীরা সব সময় গড়িমসি করেন।

বাউফল উপজেলা প্রকৌশলী মো. মানিক হোসেন বলেন, আমরা তাকে চলতি বছরের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছি। আশা করি তার কাজ শেষ করবে।
জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. লতিফ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা ওই ঠিকাদারকে জুন পর্যন্ত সময় বেধেঁ দিয়েছি। ওই সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করলে কর্যাদেশ বাতিল করে লাইসেন্সের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেলি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বধিকারী মোঃ গিয়াস উদ্দিন মুঠোফোনে গণমাধ্যমকে বলেন, আগমী সপ্তাহের মধ্যেই কাজ শুরু করবো। ২বছর আগেও তো আপনি গণমাধ্যমকে বলেছিলেন দ্রুতই কাজ শেষ করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন এবার আর দেড়ি হবে না।