বাউফলে মাদ্রাসার সুপারের গোপনে পকেট কমিটি গঠন!


Mahadi Hasan প্রকাশের সময় : জুন ৬, ২০২৪, ৭:৫১ অপরাহ্ণ /
বাউফলে মাদ্রাসার সুপারের গোপনে পকেট কমিটি গঠন!

বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফলে একটি মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে বিধি বহির্ভূত ভাবে সরকারি বরাদ্দ আত্মসাতের জন্য নির্বাচন না দিয়ে গোপনে পছন্দের লোকজন নিয়ে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গোপনে করা ওই পকেট কমিটি অনুমোদন না দেওয়ার জন্য মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, ইউএনও ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ম্যানেজিং কমিটির একাধিক সদস্য ও অভিভাবকরা।

সম্প্রতি উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের সুলতানাবাদ ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার ২০২৪-২৫ বর্ষের ম্যানেজিং কমিটি গঠনে এমন অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সাল থেকে নির্বাচন না দিয়ে পকেট কমিটি দিয়ে মাদ্রাসার পরিচালনা করে আসছেন সুপার মো. মোশারেফ হোসেন।

একই ব্যক্তিকে টানা তিনবার সভাপতি পদে রাখা হয়েছে। এ বছরও নির্বাচন না দিয়ে গোপনে জালিয়াতি করে স্বাক্ষর নিয়ে ওই একই ব্যক্তিকে সভাপতি করে পকেট কমিটি গঠন করেছেন। যার অনুমোদনের জন্য মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পরিচালাকের কাছে পাঠানো হয়েছে। অবৈধভাবে গঠিত পকেট কমিটি অনুমোদনের জন্য ঢাকা বিভিন্ন দপ্তরে তদবির করছেন সুপার মোসারেফ।

মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, নতুন কমিটি গঠনের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তফশিল অনুমোদন দেন। নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচনী তফশিল, ভোটার তালিকা নোটিশ বোর্ডে টাঙিয়ে দেওয়া হবে এবং শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে অভিভাবকদের জানানো হবে। সুপার তা না করে সব কিছু গোপন রেখে নিজের পছন্দের লোকজন নিয়ে পকেট কমিটি গঠন করেন। ওই মাদ্রাসার সুপার মোসারেফ সেটা গোপন করে রাখেন। নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে চলমান কমিটির কোনো সদস্যকেও জানানো হয়নি।

মাদ্রাসার স্থায়ী দাতা সদস্য মো. আলতাফ হোসেন বলেন,‘ আমি স্থায়ী দাতা সদস্য ও ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি। নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে সুপার আমাকে কিছু জানায় নি। তিনি গোপনে একটি পকেট কমিটি গঠন করেছেন। ওই কমিটিতে টানা তিনবারের সভাপতিকে এবারও সভাপতি করা হয়েছে।

যদিও বিধি অনুযায়ী একই ব্যক্তি দুই বারের অধিক সভাপতি হতে পারবেন না, তার পরেও বিধি ভেঙে তাকে চারবারের মত সভাপতি করা হয়েছে। এমন অবৈধ কমিটি অনুমোদনের জন্য শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হয়েছে।

আমিসহ একাধিক সদস্য পৃথকভাবে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করেছি, যাতে ওই অবৈধ কমিটি অনুমোদন না দেওয়া হয়।’ মো. আ. রউফ নামে এক অভিভাবক বলেন,‘ আমার মেয়ে ওই মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী।

সুপার মোশারেফ গত ২৮ আমাকে বিচারপতি এ.কে.এম জহিরুল হক সাহেবের বরাত দিয়ে মাদ্রাসায় খবর দিয়ে নেন। তখন তিনি ২/৩টা কাগজে আমার স্বাক্ষর নেন। স্বাক্ষর কেনো নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি (সুপার) বলেন,‘ বিচারপতি আপনাকে সবকিছু বলবে।’ পরে জানতে পারলাম গোপনে পকেট কমিটি গঠন করার জন্য আমাকে অভিভাবক সদস্য করা হয়েছে। আমি অবৈধ কমিটির সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি পেতে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করেছি।

নির্বাচন না দিয়ে গোপনে গঠন করা ওই কমিটি অনুমোদন না দেওয়ার জন্য মো. শাহবুদ্দিন আল মামুন ও মো. হারুন দেওয়ান নামে আরও দুই অভিভাবকও ব্যক্তি শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করেছেন। তারা বলেন, ২০১৪-১৫ সালের অনির্বাচিত কমিটির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলা চলমান থাকার পরেও গোপনে করা পকেট কমিটি দিয়েই মাদ্রাসা পরিচালনা করে আসছেন সুপার। মাদ্রাসায় জবাবদিহিতা না থাকায় সুপার তার মনগড়াভাবে মাদ্রাসা পরিচালনা করছেন। যার কারণে মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। যার প্রমাণ এবছরের দাখিল পরীক্ষার ফলাফল।

মাত্র ১৮ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাশ করেছেন। এবিষয়ে জানতে গতকাল সুলাতানাবদ ইসলামিয়া মাদ্রাসায় গেলে সুপার মো. মোসারেফ হোসেনকে অফিসে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,‘ মাদ্রাসার কাজে বাহিরে আছি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,‘ সবকিছু ঠিক আছে। ব্যস্ততা দেখিয়ে তিনি ফোন রেখে দেন।

এবিষয়ে জানতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নাজমুল হকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বশির গাজী বলেন,‘ লিখিত অভিযোগ পেয়ে মাদ্রাসা সুপারকে নোটিশ দিয়েছি। তার জবাবের পরে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।