ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে ভোলায় ১০ কি.মি বাঁধ বিধ্বস্ত


Mahadi Hasan প্রকাশের সময় : জুন ৮, ২০২৪, ১২:১৮ অপরাহ্ণ /
ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে ভোলায় ১০ কি.মি বাঁধ বিধ্বস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে ক্ষতবিক্ষত ভোলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসাব বলছে, বেড়িবাঁধের প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা বিধ্বস্ত হয়েছে। জোয়ারের পানি এলেই প্লাবিত হচ্ছে বিভিন্ন এলাকা। এতে চরম দুর্ভোগে স্থানীয়রা । তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, পানি কমে যাওয়ায় সাথে সাথে তারা ভেঙে যাওয়া বাঁধ দ্রুত মেরামত করেছেন।

দ্বীপ জেলা ভোলাকে অস্বাভাবিক জোয়ার ও জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা করতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ২০১৯ সালে জেলা জুড়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে জেলার ৩৭০ কিলোমিটার বাঁধের মধ্যে সাত উপজেলার বিভিন্ন স্থান দিয়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০০মিটার বাঁধ সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়রা বলছে, উপকূলবাসীকে জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা করতে স্থায়ী সিসি ব্লক দিয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।

একজন এলাকাবাসী বলেন, বেড়িবাঁধ দ্রুত মেরামত করলে বালো হয়। আর বাঁধ আরও উঁচু করে নির্মাণ করতে হবে। জীবনযাত্রা থেমে আছে। আয়-রোজগার বন্ধ আছে একরকম। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ও জেলা প্রশাসক জানিয়েছে, জোয়ারের পানি কমে গেলে দ্রুত ভেঙে যাওয়া বাঁধ সংস্কার করা হবে।

ভোলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসানুজ্জামান বলেন, যে অংশ ঝুঁকিপূর্ণ সে অংশ মেরামতের জন্য আমরা ইতিমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছি। যেসব জায়গা ভেঙে গেছে সেগুলো দ্রুত বন্ধ করার ব্যবস্তা করা হয়েছে। যাতে জোয়ারের সময় পানি না ঢোকে।

ভোলর জেলা প্রশাসক আরিফুজ্জামান বলেন, বেড়িবাঁধ যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেখানে কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি ওয়াকিবহাল রয়েছে। আমরা আশা করছি, ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধগুলো দ্রুতই সংস্কার হয়ে যাবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের মতে, ঝড়ের আঘাতে বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুতুবা ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ে পাঁচটি স্থানের ৪৫ মিটার বাঁধ সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া মনপুরার ১২টি স্থানে ১৬৫ মিটার বাঁধ ছুটে গেছে।

গত ২৭ মে রাতে উপকূলে আছড়ে পরার পড় ব্যাপক তাণ্ডব চালায় রিমাল। আঘাত হানার পর কিছুটা দুর্বল হয়ে স্থল নিম্নচাপে রূপ নিলেও, প্রায় ৩৬ ঘণ্টা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে অবস্থান করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। রিমালের তাণ্ডবে দেশের ২০ জেলায় ছয় হাজার ৮৮০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

এক লাখের বেশি পুকুর এবং দেড় হাজার ট্রলার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা এক হাজার ১৬৩টি। আর পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ৮৮৯টি স্থাপনা কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ১৯টি জেলায় পাঁচ কোটি ৭৫ লাখ নগদ টাকা, ৫৫০ টন চাল, ৯ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ২০০ বান্ডিল ঢেউটিন, শিশুদের ও গো খাদ্যের জন্য দুই কোটি ৪৫ লাখ টাকা করে বিতরণ করা হয়েছে।