অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে খামারির ১৩ গরু লুট


Mahadi Hasan প্রকাশের সময় : জুন ৮, ২০২৪, ৭:৪১ অপরাহ্ণ /
অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে খামারির ১৩ গরু লুট

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: ফেনীর একটি খামারে দুই প্রহরীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ১৩টি গরু লুট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জেলার ৫ হাজারের বেশি খামারির মধ্যে বিরাজ করছে উদ্বেগ। ফেনীর দাগনভূঞাঁ উপজেলার রাজাপুর পূর্ব জয় নারায়ণপুর খান অ্যাগ্রো ফার্মে শনিবার (৮ জুন) গভীর রাতে খামারে প্রবেশ করে হামলা চালিয়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে শ্রমিকদের বেঁধে ২৫ লাখ টাকা মূল্যের ১৩টি শাহীওয়াল জাতের গরু লুট করা হয়।

শ্রমিক আবদুর রহমান জানান, গরুকে খাবার দিয়ে রাত তিনটার দিকে ঘুমিয়ে যান। খামারের দরজার তালা ভেঙে মুখোশ পরা ২০/২৫ জন অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত ভেতরে ঢুকে তাদের জিম্মি করে বেঁধে ফেলে। পরে ২১টি গরু নিয়ে যায়।

শ্রমিকদের ধারণা, খামার থেকে কিছুটা দূরে গাড়ি দাঁড় করানো ছিল। গাড়িতে ওঠানোর সময় হয়তো আটটি গরু বিভিন্ন দিকে চলে যায়। ভোরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আটটি গরু এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়।

খামার মালিক অ্যাড. দাউদ খান জানান, ২০১৯ সালে খামারটি শুরু করেন। এবার কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য শাহীওয়াল জাতের ২১টি গরু তিন মাস আগে কিনে প্রস্তুত করা হচ্ছিল। খামার দেখাশোনা ও পাহারায় দুই শ্রমিক রাতে থাকতেন।

শনিবার ফজরের নামাজ শেষে হাঁটার জন্য বের হয়ে তিনি দেখতে পান মসজিদের সামনে তিনটি গরু দাঁড়িয়ে আছে। সন্দেহ হলে দ্রুত খামারে গিয়ে দেখেন তার খামারে কোনো গরু নেই এবং দুই শ্রমিকের হাত-পা ও মুখ বাঁধা। পরে ৯৯৯ এ ফোন করে বিষয়টি পুলিশকে জানান।

খামার মালিক দাউদ খান বলেন, দুর্বৃত্তরা খামারের শ্রমিকদের মারধরও করেছে। লুট হওয়া গরুগুলো উন্নতমানের শাহীওয়াল জাতের। প্রতিটি গরুর ওজন ৬ মণের বেশি। প্রতিটির বাজার মূল্য রয়েছে দুই লাখের বেশি।

খামারে ঢুকে এভাবে লুটের ঘটনায় উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে জেলার ৫ হাজারের বেশি খামারির মাঝে। খামারিরা জানায়, এলাকায় পুলিশের টহল আরও জোরদার থাকলে এমন ঘটনা ঠেকানো যেত। পুলিশ চাইলে লুট হওয়া গরুগুলো উদ্ধার করা সম্ভব।

তবে পুলিশ বলছে, মাঠে সক্রিয় ছিল পুলিশ। ইতোমধ্যে ঘটনাটির বিষয়ে কাজ করছেন পুলিশ সদস্যরারা। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) দীন মোহাম্মদ বলেন, পুলিশ ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে মাঠে কাজ করছে। অভিযান চালানো হচ্ছে।

গত এক বছরে ফেনী জেলায় গরু চুরির ঘটনায় ২২টি মামলা হয়েছে। মামলা সূত্রে জানা যায়, চুরি হওয়া গবাদিপশুর সংখ্যা ৪৯টি। চলতি মৌসুমে ফেনীর ৫২২৫ জন খামারি তাদের খামারে ৯০ হাজার ২৫০টি পশু বাণিজ্যিক ও পারিবারিকভাবে পালন করেছে।